চট্টগ্রামে রিহ্যাব ফেয়ারে ফ্ল্যাট বুকিং

১৭৫ জনের ৬ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে রিহ্যাব ফেয়ারে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়ে ১৭৫ জন ক্রেতার প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘আইডিয়েল রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। হন্যে হয়ে খুঁজেও তাদের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ওই ফ্ল্যাটগুলো বুকিং দেয়া হয়।

আজ শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘আইডিয়েল গ্রুপ ফাইভ স্টার হোটেল বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছেন প্রতারিত ক্রেতারা। এদিকে নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী রিহ্যাব ফেয়ার। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে এ ধরনের ফেয়ারে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েই তারা প্রতারিত হয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সদস্য আইডিয়েল রিয়েল এস্টেট লিমিটেড। কিন্তু এ ব্যাপারে রিহ্যাবের কাছে অভিযোগ করতে গেলে প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়। প্রতারিত গ্রাহকরা জানান, আইডিয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আইডিয়েল রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে আকর্ষণীয় ও লোভনীয় অফার প্রচার করে। আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি কক্সবাজারের ‘মুভিনপিক’ ও ‘ব্লু বাঞ্চি’ নামে দুটি ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের ঘোষণা দেয়। এ দুটি প্রকল্পের ফ্ল্যাট কিনতে ১৭৫ জন ক্রেতা আইডিয়েল গ্রুপের এমডি শফিকুর রহমানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। তারা প্রায় ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। অনেক গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো টাকা দিতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি জরিমানাও আদায় করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করে গ্রাহকদের ফ্লাট বুঝিয়ে দেয়ার কথা। কিন্তু ১৬তলা বিশিষ্ট দুটি ভবনের পাইলিংয়ের কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রতারিত গ্রাহকরা রিহ্যাবের চট্টগ্রাম ও ঢাকা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। রিহ্যাব কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানায় বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ক্রেতারা লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়। গোলাম মাওলা নামে প্রতারিত এক গ্রাহক যুগান্তরকে বলেন, প্রতারিত হয়েছি বুঝতে পেরে প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু ঢাকার কলাবাগানের সুলতানা টাওয়ার থেকে তারা রাতের অন্ধকারে অফিসটি সরিয়ে ফেলে। পরে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমানকে খুঁজে বের করি। তার কাছ থেকে উত্তরা ব্যাংক কলাবাগান শাখার একটি হিসাব নম্বর থেকে ৭৯টি চেক নেয়া হয়। এসব চেকে টাকা উত্তোলনের তারিখ ছিল গত বছরের ৫ ডিসেম্বর, ১০ ডিসেম্বর ও ১১ ডিসেম্বর। কিন্তু ওই তারিখে ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় চেকগুলো ডিজঅনার করা হয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এমডিসহ সব কর্মকর্তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

‘আইডিয়েল গ্রুপ ফাইভ স্টার হোটেল বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ’ কমিটির সভাপতি ডা. তাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘লাখ লাখ টাকা দিয়ে রিহ্যাব মেলায় ফ্ল্যাট বুকিং দিয়ে প্রতারিত হয়েছি। এখন ফ্ল্যাট বা ক্ষতিপূরণ চাইতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।’ আইডিয়েল রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তার মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওই প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ‘আইডিয়েল রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ ঢাকা অফিসে নিবন্ধিত। ফলে রিহ্যাবের চট্টগ্রাম অফিসে অভিযোগ দিলে আমরা তা ঢাকা রিহ্যাব অফিসের কাস্টমার সার্ভিস শাখায় পাঠিয়ে দেব। প্রত্যেক অভিযোগকারীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নেয়ার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই ধরনের অভিযোগ হলে সবার স্বাক্ষরে একটি দরখাস্ত দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। এটিই নিয়ম। একইভাবে বসুধা বিল্ডার্স নামে একটি আবাসন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে দোকান ও ফ্ল্যাট বুকিং দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নুরুল আলম নামে এক গ্রাহক। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘রিয়াজউদ্দিন বাজারের স্টেশন রোড এলাকায় বসুধা বিল্ডার্সে দোকান ও ফ্ল্যাট বুকিং দিই। এখন নির্দিষ্ট সময়ের পর তিন বছর পার হয়ে গেলেও দোকান বুঝিয়ে দেয়া দূরের কথা, প্রতিষ্ঠানটির লোকজনকেও খুঁজে পাচ্ছি না।’ এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে বসুধা বিল্ডার্সের সিইও শরীফ আক্তারের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.