ছুটির মেলায় প্রিয় লেখকরা

  হক ফারুক আহমেদ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রন্থমেলা ভীষণভাবে জমে উঠবে এমনটা জানাই ছিল। প্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল শুক্রবার মেলায় আসবেন সেটাও আগে জানা ছিল। কিন্তু সব প্রিয় লেখককে একইদিনে মেলায় পাবেন- এমনটা ভাবেননি পাঠকরা। শুক্রবারের জমজমাট মেলায় পাঠকরা আরও সান্নিধ্য পেয়েছেন ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক, রকিব হাসান, গুলতেকিন খান প্রমুখের। এসেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। এদিন পাঠকরা তাদের প্রিয় লেখকদের কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন। বই কিনে অটোগ্রাফ সংগ্রহের পাশাপাশি সেলফি তোলা, নানা বিষয়ে আলোচনায় মাতিয়ে রাখেন মেলার পুরোটা সময়। এদিন রাজধানীতে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকলেও তার প্রভাব মেলায় পড়েনি। সকাল থেকে শুরু করে রাত অবধি হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। বইয়ের বিক্রিও এদিন প্রকাশকদের ঠোঁটে হাসি ফুটিয়েছে।

শুক্রবার ঠিক সন্ধ্যার একটু আগে মেলায় প্রবেশ করেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তার আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সবাই সেদিকে ছুটতে থাকে। সেই জটলা এসে থামে তাম্রলিপির প্যাভিলিয়নের সামনে। অটোগ্রাফ দিতে দিতে যুগান্তরকে মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘মেলায় আসতে আমার সব সময় ভালো লাগে। এবারের মেলা বেশ ছিমছাম। প্যাভিলিয়ন-স্টলগুলো সুন্দর করে সাজানো। তবে একটা জিনিস দেখলাম, মেলায় আগতদের হাতে বইয়ের চেয়ে স্মার্টফোন বেশি। স্মার্টফোন থাকা ভালো, কিন্তু এর সঙ্গে যদি বই থাকে তাহলে দেখতে আরও ভালো লাগে।’

ভিড় থেকে অটোগ্রাফ নেয়ার সময় এক কিশোরী মুহম্মদ জাফর ইকবালকে বলেন, স্যার কিছু মনে করবেন না একটা প্রশ্ন করি- আপনার কোন বই পড়ব? মুহম্মদ জাফর ইকবাল হাসিহাসি মুখে উত্তর দেন, আমার বই-ই তোমাকে পড়তে হবে এমনটা কি বলেছি? তুমি অবশ্যই বই পড়বে। যে বই তোমার পড়তে ভালো লাগে, সে বই তুমি পড়বে। যে বই তোমাকে মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেয়, সেই বই পড়বে। এগুলোর মধ্যে যদি আমার বই থাকে তাহলে সেটা পড়বে।

অনন্যা’র প্যাভিলিয়নে একটার পর একটা অটোগ্রাফ দিয়ে যাচ্ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘আমার অনেক আগ থেকেই মনে হচ্ছিল ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা জমে উঠবে। ৮ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে একটি অজানা শঙ্কা সবার মাঝে ছিল। সেটা কাটিয়ে শুক্রবার মেলা জমে উঠেছে এবং মেলার সামনের দিনগুলো আরও ভালো কাটবে। মেলায় মানুষ আসছে, বই কিনছে, আড্ডা দিচ্ছে।’

একই সময় প্রথমার প্যাভিলিয়নে দাঁড়িয়ে নিজের নতুন বই ‘আলো-আঁধারের যাত্রী’-তে অটোগ্রাফ দিতে দিতে আনিসুল হক বললেন, ‘আমার দেখা শ্রেষ্ঠ মেলা হচ্ছে এবার। দারুণ বিন্যাস আর সুসজ্জিত স্টলের মাঝে বইপ্রেমীদের ভিড় মেলার পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলছে। আগের দিন মেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল; কিন্তু দুই প্রধান রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ কোনো প্রকার সহিংস কর্মসূচি না দেয়ার জন্য।’

উৎস প্রকাশন থেকে এসেছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দশ খণ্ডের রচনাসমগ্র। সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই মেলায় আসেন অর্থমন্ত্রী। মেলা নিয়ে যুগান্তরকে বলেন, ‘এসে ভালো লাগছে। পরিসর বড় হয়েছে, পরিবেশও উন্নত হয়েছে। ভালো বই আসছে, এতে কার্পণ্য করছেন না প্রকাশকরা। আমাদের দেশে পড়ুয়া পাঠক বাড়ছে। এতে ভালো লেখকের অবদান রয়েছে।’ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে এখন স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। মেলায় এত পাঠকই এর প্রমাণ। নিজেদের কাজ নিয়ে তারা এত ব্যস্ত যে, এখন অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট করতে চান না তারা।’

এদিকে একসঙ্গে ১১৩ জন লেখক হিসেবে আভির্ভূত হয়েছিলেন শুক্রবারের মেলায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের গ্রুপ ‘এসএসসি ৯৬ এইচএসসি ৯৮’-এর মাধ্যমে ১১৩ জনের গল্প ও কবিতা নিয়ে তাম্রলিপি থেকে প্রকাশ হয়েছে ‘স্বপ্নচূড়া ৯৬৯৮’ নামের একটি বই। ১৯৯৬ সালে মাধ্যমিক ও ১৯৯৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে লেখা আহ্বান করিয়ে এ বইটি তৈরি করা হয়েছে। যাতে রয়েছে ৫২টি ছোটগল্প ও ৬১টি কবিতা। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় ছিল শিশুপ্রহর। এ সময় শিশুদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে মেলার শিশু চত্বর।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ ও সমন্বয় উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার মেলায় এসেছে ৩৪৪টি নতুন বই। সময় প্রকাশন এনেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন ‘ত্রাতিনা’, ইত্যদি গ্রন্থ প্রকাশ এনেছে রিজিয়া রহমানের ‘মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস’, য়ারোয়া এনেছে গোলাম কুদ্দুছের ‘ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ প্রসঙ্গ : সালাউদ্দিন’, বায়ান্ন প্রকাশ এনেছে নাসরীন নঈমের ‘জাফরিকাটা রোড’, মেঘ এনেছে ‘১৩ বাউল-ফকিরের সাথে কথাবার্তা’, বিদ্যাপ্রকাশ এনেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘অগ্রগতির শর্তপূরণ’, মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘অনলাইন জীবন ও অন্যান্য’, অ্যাডর্ন এনেছে ওমর ফারুকের ‘বাবার চোখ’, এশিয়া পাবলিকেশন্স এনেছে সেলিনা হোসেনের ‘পদশব্দ’, রয়্যাল পাবলিশার্স এনেছে শামসুজ্জামান খানের ‘বুদ্ধিজীবী ও রাষ্ট্র : পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ’, মুক্তধারা এনেছে অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরীর ‘ক্যান্সার’, আবিষ্কার এনেছে কায়কোবাদ মিলনের ‘মোসাদ ২’, আনিসুজ্জামানের ‘দুইটি নাটক’, কাকলী এনছে সুমন্ত আসলামের ‘মুখোশধারী ভয়ংকর’, আনিসুল হকের ‘দেশসেরা দশ গোয়েন্দা’, অন্যপ্রকাশ এনেছে সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার ‘গণমাধ্যমের লড়াই’, কথাপ্রকাশ এনেছে ইমদাদুল হক মিলনের ‘আধিভৌতিক’।

মূলমঞ্চের আয়োজন : শুক্রবার সকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। যাতে ক-শাখায় ৩০০ জন, খ-শাখায় ২৭৫ জন এবং গ-শাখায় ১১২ জন শিশুকিশোর অংশ নেন। এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন চিত্রশিল্পী অধ্যাপক নিসার হোসেন। বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘রশীদ উদ্দিন ॥ উকিল মুন্সী ॥ বারী সিদ্দিকী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুমনকুমার দাশ। আলোচনায় অংশ নেন কামালউদ্দিন কবির এবং সাইমন জাকারিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নূরুল হক। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফারহানা চৌধুরী বেবীর পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করেন বাফার নৃত্যশিল্পীরা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন মীনা বড়ুয়া, আবুবকর সিদ্দিক ও মুরাদ হোসেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter