আ’লীগ-বিএনপিতে দ্বন্দ্ব-কোন্দল সুবিধায় জাতীয় পার্টি

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ও আলী হোসেন বাবুল, দাউদকান্দি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জেলার হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-২ আসনে নির্বাচনী আবহ বিরাজ করছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা আগাম প্রচারে নেমে পড়েছেন। যোগ দিচ্ছেন স্থানীয় সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে। নানাভাবে নিজের প্রার্থিতার কথা ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন তারা। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে প্রার্থীদের ছবিসংবলিত পোস্টার-ব্যানার ঝুলছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সক্রিয়। কেন্দ্রের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ। এলাকাটি মূলত বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যতগুলো জাতীয় নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে সবশেষ ২০১৪ সাল বাদে ১৯৯১, ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত এমকে আনোয়ার। প্রবীণ এ নেতার মৃত্যুর পর এ আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে কে নির্বাচন করবেন তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব। গতবার এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন ভূঁইয়া। আগামী নির্বাচনেও তিনি এ আসনের শক্ত প্রার্থী।

পাঁচবারের নির্বাচিত এমপি ও সাবেক মন্ত্রী এমকে আনোয়ারের মৃত্যুর পর দলটিতে দেখা দিয়েছে ছন্দপতন। শুরু হয়েছে মতবিরোধও। আগে থেকেই কোন্দলে বিপর্যস্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তিতাস ও মেঘনা নদী বেষ্টিত এ আসনে কয়েক যুগ ধরেই ক্ষমতাসীন এ দলটিতে গৃহবিবাদ চলছে। দ্বন্দ্ব নিরসন করে আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসনটি উদ্ধার মিশনে নেমেছে নিটল-নিলয় গ্রুপের কর্ণধার ও বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমাদ মেরী। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সক্রিয়ভাবে প্রচারের অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ উইমেন্স চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এ নারী উদ্যোক্তা। এদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কাজে লাগাতে চায় জাতীয় পার্টি। দলের একক প্রার্থী হিসেবে আমির হোসেন উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এমকে আনোয়ারের মৃত্যুর পর নির্বাচন নিয়ে কথা হয় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে। তারা যুগান্তরকে বলেন, প্রভাবশালী এ নেতার মৃত্যুতে এলাকায় দলের মধ্যে একটা শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও। তবে আনোয়ারের মৃত্যুর পর থেকে তার বড় ছেলে মাহমুদ আনোয়ার কায়জার আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার শুরু করেছেন। দলের একটি অংশ কায়জারকে চাইলেও অপর অংশটি হোমনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লাকে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামতে চাচ্ছেন। এ নিয়ে দলে অনেক রকম বিভেদ ও মতবিরোধ রয়েছে। জানতে চাইলে আজিজুর রহমান মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, দল চাইলে আমি অবশ্যই আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হব। তবে আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক তার পক্ষেই কাজ করব। আগামী নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসনকে আসনটি উপহার দিতে চাই।

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমাদ মেরী ছাড়াও রয়েছেন হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. ছিদ্দিকুর রহমান আবুল। আবুল দীর্ঘ দিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দুঃসময়ে হোমনায় দলের হাল ধরে রেখেছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, দুর্দিনে মামলা-হামলা জেল-জুলুমের শিকারও হয়েছেন তিনি।

আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে জাতীয় পার্টির এমপি আমির হোসেন ভূঁইয়া ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ করছেন। তুলে ধরছেন ৪ বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি। অতীতে এলাকায় জাতীয় পার্টির অবস্থান সেভাবে শক্ত ভিত্তি না পেলেও আমির হোসেন এমপি হওয়ার পর হোমনা ও তিতাসে জাতীয় পার্টি অবস্থান এখন অনেক মজবুত। দুই উপজেলাতেই জাতীয় পার্টি ও তার সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে মহাজোট থেকে তাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনে জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। জানতে চাইলে আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর ৪ বছরে আমি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভার্ট ও অবকাঠামো নির্মাণ-সংস্কারসহ ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে দুই উপজেলার চিত্র বদলে দিয়েছি। তিনি বলেন, বিগত দিনে এমপি মন্ত্রী হয়েও ২ উপজেলার গুরত্বপূর্ণ গোমতী নদীর ওপর গৌরীপুর জিয়ারকান্দি সেতু, মৌটুপী সেতু, শিবপুর সেতু, হাদিরখাল সেতু কেউ নির্মাণ করতে পারেনি, কিন্তু এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এ দাবি ও প্রত্যাশা আমি পূরণ করতে পেরেছি। ২ উপজেলার অধিক গুরুত্বপুর্ণ ৩টি কলেজ সরকারি করেছি। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার আধুনিকায়নে কাজ করেছি। মসজিদ, মাদ্রাসা, গির্জা, মন্দির, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন করেছি। ২ উপজেলাকে শত ভাগ বিদ্যুতের আওতায় এনেছি। সড়কেও আমূল পরিবর্তন এনেছি। প্রতিনিয়তই শত শত নেতাকর্মী জাতীয় পার্টিতে যোগদান করছে। আশা করি, আগামী নির্বাচনে মহাজোট আমার এ ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন করবে।

কথা হয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমাদ মেরীর সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় গণসংযোগ করছি। মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজ, নারী ও তরুণদের নিয়ে এলাকায় আওয়ামী লীগের দুর্গ গড়তে কাজ করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আসন উপহার দিতে চাই। তিনি বলেন, হোমনায় বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছি। প্রচারে স্থানীয়দের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। হোমনায় ২০টি দলীয় অফিস করেছি। সেখান থেকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুধে ধরা ছাড়াও নানা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে হোমনাকে যুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক হোমনা-তিতাস প্রতিষ্ঠাই আমার মূল লক্ষ্য। বিশিষ্ট এ নারী নেত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করতে চাই। এর আগে ৪৭ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে আমি ট্রেনিং দিয়েছি। বাংলাদেশের উন্নয়নে আমাদের বিশেষ অবদান রয়েছে। নিটল-নিলয় গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে বিপুলসংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। আমার বিশ্বাস আমি উন্নয়ন করতে পারব। তিনি বলেন, তিতাস আমার মায়ের বাড়ি, হোমনা আমার বাবার বাড়ি। দুই উপজেলার বাসিন্দারা অবশ্যই আমাকে মূল্যায়ন করবে। হোমনা-তিতাসে আওয়ামী লীগে কোনো বিরোধ থাকবে না। আমি ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ চাই। মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগকে সহজেই বিজয় উপহার দেব।

কথা হয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিদ্দিকুর রহমান আবুলের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দলের দুর্দিনে মাঠে-ময়দানে ছিলাম, অনেক ত্যাগ শিকার করেছি প্রিয় এ দলের জন্য। আশা করি আগামী নির্বাচনে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter