এইচএসসি পরীক্ষা: প্রথম দিন অনুপস্থিত রেকর্ড ১৫ হাজার শিক্ষার্থী

পরীক্ষার্থী প্রায় ১১ লাখ, বহিষ্কার ২৭ * পুরনো ও ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ায় চার কেন্দ্র সচিবকে শোকজ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবি-যুগান্তর

প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত গুজব রোধে দারুণ কড়াকড়ির মধ্যে সোমবার শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রায় সারা দেশে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থায় পরীক্ষা নেয়া হয়। ফলে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া প্রথম দিনের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।

মফস্বল এলাকার কেন্দ্রগুলোতে এদিন পরীক্ষা ঘিরে নকলের খবর পাওয়া যায়নি। পরীক্ষার এই পরিবেশ অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রথম দিন এইচএসসিতে বাংলা প্রথমপত্র, আলিমে কুরআন মাজিদ এবং এইচএসসিতে (বিএম) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে এদিন সারা দেশে ২৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়।

এর মধ্যে কারিগরি বোর্ডের ২২ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের ১ জন এবং ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর ও চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ জন করে আছে। গত বছর প্রথম দিন ৭ শিক্ষকসহ সারা দেশে ৯৬ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছিল। তবে রেকর্ড তৈরি হয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষার্থী সংখ্যায়।

প্রথম দিন ১৪ হাজার ৯৮৮ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এদিন মোট ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮৯ জনের অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা দেয় ১০ লাখ ৭৮ হাজার ৬০১ জন। গত বছর প্রথম দিন ১৩ হাজার ৭১৮ জন অনুপস্থিত ছিল।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জিয়াউল হক যুগান্তরকে বলেন, প্রথম দিনটি সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা হয়েছে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের দক্ষ নেতৃত্ব প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম, শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহায়তায় এটা সম্ভব হয়েছে। এদিকে প্রথম দিন ঢাকা বোর্ডের সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর সরকারি কলেজ এবং মাদারীপুরের শাহজাহান খান কলেজ কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী কলেজে ৩৪ শিক্ষার্থীর এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হয় পুরনো প্রশ্নে। সিঙ্গাইরে ৭ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া হয় ভুল সিলেবাসের প্রশ্নে। আর মাদারীপুরে ভুল সেটে পরীক্ষা নেয়া হয়। সিলেট বোর্ডের অধীন হবিগঞ্জের বাহুবলের মিরপুর আলী সোবহান চৌধুরী ডিগ্রি কলেজেও ঘটেছে একই ঘটনা।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ককে এ ঘটনা অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইন। একই সঙ্গে এসব শিক্ষার্থী যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য তাদের খাতা আলাদাভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এ প্রসঙ্গে বলেন, ভুল করার ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি পৃথকভাবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবদের সোমবারই শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিলেট বোর্ডের হবিগঞ্জের বাহুবলের মিরপুর আলী সোবহান চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের কেন্দ্র সচিবকেও শোকজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রথম দিন পরীক্ষার পরিবেশ দেখতে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে যান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একটি পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের জন্য বিশাল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে কয়েক হাজার প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হয়। এসব কাজ করতে গিয়ে খুঁটিনাটি কিছু ভুল ধরা পড়ে। এ কারণে এসএসসি পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তবে এবার আমরা আরও সতর্ক হয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা গ্রহণের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ালে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, দেশে নানা ধরনের কোচিং সেন্টার রয়েছে। আমরা সেগুলো আলাদা করতে পারিনি। এ কারণে ৬ মে পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। কোচিং সেন্টারের সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে, তাদের কারণেই সব কোচিং সেন্টার বন্ধের ঘোষণা। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা শেষ করতে তিনি অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ১৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০ জন। এছাড়া মাদ্রাসার আলিমে ৮৮ হাজার ৪৫১ জন এবং কারিগরিতে এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষার্থী ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৪ জন।

পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট আগে আসন গ্রহণের নির্দেশনা থাকলেও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কিছু শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের পর কেন্দ্রে প্রবেশ করে। এর মধ্যে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে ১০ জন নির্ধারিত সময়ের পর কেন্দ্রে প্রবেশ করে।

পরে গেটে দায়িত্বরত শিক্ষক মমতাজ বেগম জানান, যানজটের কারণে সবার দেরি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। এসব পরীক্ষার্থীর নাম, রোল ও বিলম্বের কারণ লিখে রাখা হয়েছে। নিয়মমতো মঙ্গলবার কেন্দ্র সচিব ঢাকা বোর্ডকে জানাবেন।

ঘটনাপ্রবাহ : এইচএসসি পরীক্ষা ২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×