ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বরিস জনসন

রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পক্ষে যুক্তরাজ্য

লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা

  কক্সবাজার ও উখিয়া প্রতিনিধি ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করবে যুক্তরাজ্য। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য চায় রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব ও অধিকার নিয়ে সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাক। উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শনিবার বিকালে বরিস জনসন এসব কথা বলেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসন বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু গত কয়েক দশকের ভেতরে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে নিজেদের খ্যাতি অর্জন করেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে যুক্তরাজ্য সর্বদা থাকবে বলেও তিনি জানান। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বরিস জনসন বলেন, এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে সহজ করে তোলা হবে। এ সময় বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যকে কাছে পাবে।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান জনসন। সেখান থেকে কক্সবাজার পর্যটন এলাকার মেরিন ড্রাইভ সড়ক পথে দুপুর ১টার দিকে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তিনি যান। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। এ সময় রাখাইনে বর্বরোচিত লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা দেয় রোহিঙ্গারা।

লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা : লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে রোহিঙ্গারা জানান, পড়ালেখা, অবাধ চলাচল, নিরাপদ বাসস্থানসহ ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হবে। তা না হলে মিয়ানমার সামরিক জান্তার নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গাদের আবার পড়তে হবে। উখিয়ার কুতুপালং টিভি রিলে কেন্দ্র এলাকায় স্থাপিত ট্রানজিট ক্যাম্পে জনসনকে রোহিঙ্গারা এসব কথা বলেন। তারা আরও বলেন, প্রত্যাবাসনের পরপরই তাদের পারিবারিক বসতভিটায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে এবং তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মৌলিক অধিকার নিয়ে মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের অমানবিক নির্যাতনের কথা শুনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা সংকট শুরু থেকে দেখছে এবং তাদের পাশে আছে। ভবিষ্যতেও রোহিঙ্গাদের যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে ব্রিটিশ সরকার পাশে থেকে কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে নিজ দেশে ফিরে মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারে সে ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকার মিয়ানমারের প্রতি চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এ কারণে মিয়ানমার সরকার আগের তুলনায় অনেকটা নমনীয় হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হাসপাতাল ও ইউএনএইচসিআরসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসন। এইএনএফপিএ পরিচালিত শিশুবান্ধব কেন্দ্রে শিশুদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসন বিভিন্ন এনজিও সংস্থার সেবা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তিনি ক্যাম্প ত্যাগ করেন। বাংলাদেশ থেকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনসন মিয়ানমার সফরে যাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter