চোখের জলে ফায়ারম্যান সোহেল রানাকে বিদায়

চাকরি পাবেন পরিবারের এক সদস্য

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চোখের জলে ফায়ারম্যান সোহেল রানাকে বিদায়

চোখের জলে সহকর্মীরা শেষ বিদায় জানিয়েছেন ফায়ারম্যান সোহেল রানাকে। বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে আটকে পড়াদের বাঁচাতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে তাকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দফতরে আনা হয়। সেখানে কিছুক্ষণের জন্য সহকর্মীদের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেয়া হয়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সহকর্মী, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ও স্বজনরা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দফতরে সোহেলের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে তার লাশবাহী গাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার কেরুয়ালা গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। লাশের সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আÍীয়রা।

জানাজায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন, সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান, পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইব্রাহীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ২০১৫ সালে মুন্সীগঞ্জের কমলাঘাট নদী ফায়ার স্টেশনে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সোহেলের কর্মজীবন শুরু হয়। সবশেষ কর্মস্থল ছিল রাজধানীর কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশন।

চার ভাই এক বোনের মধ্যে সোহেল রানা ছিলেন দ্বিতীয়। ২৬ বছর ৩ মাস বয়সী সোহেল রানা ছিলেন অবিবাহিত। জানাজায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা সোহেলের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতের চেষ্টা করেছি। তারপরও তাকে বাঁচাতে পারলাম না। একজন মানুষ মারা গেলে তার ক্ষতিপূরণ দেয়া সম্ভব নয়।

তার পরিবারকে সহযোগিতা করা যায়। ফায়ারম্যান সোহেল রানার পরিবারে কেউ উপযুক্ত থাকলে তার জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সোহেল রানাকে সুস্থ করতে যা যা করা দরকার সবই করা হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি। সরকার তার পরিবারের জন্যও করবে।

ফায়ার সার্ভিস এবং আমরা তার পরিবারের পাশে আছি। আমরা জানতে পেরেছি, সোহেল রানা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসসহ আমরা সবাই তার পরিবারের প্রতি লক্ষ্য রাখব। সোহেল রানার দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি জনগণকে ভালোবাসতেন, দেশকে ভালোবাসতেন, তারই প্রমাণ তিনি রেখে গেছেন।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এফআর টাওয়ারে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।’ ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার পর উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন সোহেল। ২৩ তলা ওই ভবনে আটকা পড়াদের ল্যাডারের মাধ্যমে নামাচ্ছিলেন তিনি।

সোহেল যখন ৪-৫ জন উদ্ধার করে নিচে নামাচ্ছিলেন তখন উদ্ধারকারী ল্যাডারটি ওভারলোড দেখাচ্ছিল। তাই লোড কমাতে এক পর্যায়ে তিনি ল্যাডার থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিলেন। এ সময় ল্যাডারের ওজন কমায় সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়। ল্যাডারের ভেতরে সোহেলের একটি পা ঢুকে যায়।

এ ছাড়া তার শরীরের সেফটি বেল্টটি ল্যাডারে আটকে পেটে প্রচণ্ড চাপ লাগে। এরপর থেকেই সংজ্ঞাহীন ছিলেন সোহেল। দুর্ঘটনার পরপরই সোহেল রানাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫ এপ্রিল তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। রোববার দিবাগত রাতে (বাংলাদেশ সময় ২টা ১৭ মিনিটে) সিঙ্গাপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সোমবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বিমানযোগে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সোহেল রানার পরিবারের সদস্যদের কী ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কল্যাণ তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আইনগতভাবেই পাবেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক চাইলে আরও সহযোগিতা দিতে পারেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাইলে তাদের একদিনের বেতন পরিবারকে দিতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের অন্যান্য বিভাগের কেউ মারা গেলে সরকারি কল্যাণ তহবিল থেকে ৮ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের কেউ মারা গেলে এটা দেয়া হয় না।’

পারিবারিক কবরস্থানে দাফন : কিশোরগঞ্জ ব্যুরো জানায়, তীব্র ঝড়োহাওয়া আর বৃষ্টির মধ্যেই সোহেল রানার মরদেহ কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার চৌ-গাঙ্গা ইউনিয়নের কেরুয়ালা গ্রামে পৌঁছে। এ সময় হতভাগিনী মায়ের চোখের জল আর আকাশভাঙ্গা বৃষ্টির জল একাকার হয়ে যায়। কিশোরগঞ্জের চৌ-গাঙ্গার দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বাদ আসর সোহেলের দ্বিতীয় জানাজা হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : বনানীতে এফআর টাওয়ারে আগুন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×