২০ দিন আগেও হামলা করে দুর্বৃত্তরা

নরসিংদীতে এক পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০ দিন আগেও হামলা করে দুর্বৃত্তরা

আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ২০ দিন আগেও নরসিংদীর রায়পুরায় সুইটির পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়েছিল।

ওই দিন প্রভাবশালী পক্ষটি তার দুই ভাইকে ধাওয়া দিয়ে এলাকা ছাড়া করে। এরপর গত মঙ্গলবার পরিবারটির সব সদস্যকে পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে কেরোসিন ঢিলে আগুন দেয়া হয়। এতে দগ্ধ হয়- প্রীতি আক্তার (১০), সুইটি আক্তার (১৩), মুক্তামণি (১৫) ও তাদের ফুফু খাতুন নেসা।

তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধরা এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়।

আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শঙ্কর পাল বলেন, ‘সুইটিকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। বাকিদের এইচডিইউতে চিকিৎসা চলছে। তাদের কেউ আশঙ্কামুক্ত নয়। আমরা আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি দখল ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে স্থানীয় শিপন মিয়া ও সমর্থকরা।

এর আগেও তারা একাধিকবার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া থাকার পর থানা পুলিশের আশ্বাসে ফিরে এসে বর্বর হামলার শিকার হয়েছেন তারা।

নরসিংদী পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তাদের দেয়া জবানবন্দিতে হামলার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।’ বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, সুইটির বড় বোন রত্না আক্তার হাসপাতালের এইচডিইউতে ছোটাছুটি করছেন।

এক বেড থেকে আরেক বেডে যাচ্ছেন তিনি। একবার ডাক্তার, একবার নার্সের কাছে যাচ্ছেন। কেন এত ব্যস্ততা- জানতে চাইলে রত্না আক্তার বলেন, ‘দগ্ধদের ড্রেসিং চলছে, ব্যান্ডেস খুলে নতুন ব্যান্ডেস দেয়া হচ্ছে।

ওরা কান্নাকাটি করছে, তাই এমন করছি।’ কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই দিনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় বেঁচে আছি।

তারা চেয়েছিল আমাদের পুরো পরিবারকে পুড়িয়ে মারতে।’ বেলা দেড়টার দিকে রোগীদের এইচডিইউ থেকে বের করে বারান্দায় এক্সরে করতে দেখা গেছে।

সেখানে কথা হয় অগ্নিদগ্ধ মুক্তামণির সঙ্গে। শ্বাসনালি আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তেমন একটা বোঝা যাচ্ছিল না তার কথা। শিশুটি বলে- ‘এই ঘটনার বিশ দিন আগে স্থানীয় শিপনসহ বেশ কিছু লোকজন তার ভাইদের ধাওয়া দিয়ে এলাকাছাড়া করে।

এরপর থেকেই আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম।’ ঘটনার (মঙ্গলবার) দিনের কথা উল্লেখ করে শিশুটি বলে, ‘বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিয়ে আগুন দেয়া হয়। আগুন থেকে বাঁচতে সবাই কান্নাকাটি করলেও কেই এগিয়ে আসেনি।

একপর্যায়ে মা এবং বড় আপা বের হয়ে তালা ভেঙে আমাদের বের করেন।’ রায়পুরা থানার ওসি মহসিনুল কাদির যুগান্তরকে বলেন, ‘চেষ্টা করছি বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনার।

এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। আশা করছি দুই-এক দিনের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×