রাজনীতির যত নতুন বই

  হক ফারুক আহমেদ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনীতির যত নতুন বই

আমাদের জাতীয় জীবনে রাজনীতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই এ বিষয়ে লেখালেখির একটি আলাদা আবেদন রয়েছে। পাঠকরা মনে করেন, রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যারা লেখেন, তারা তাদের আলোচনা, সমালোচনা, মতামত, গবেষণা, পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে সত্যের ওপর আলো ফেলার চেষ্টা করছেন।

যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক। কারণ, আজ যা লেখা হলো তা সত্য হলে ভবিষ্যতে নতুন পথ দেখাবে। একই সঙ্গে মিথ্যা, বানোয়াট বা মনগড়া কিছু হলে তা ভবিষ্যতে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। তাই রাজনীতি বিষয়ে যারা লেখেন তারা কতটা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে লিখছেন সেটি পাঠকের কাছে বিশেষভাবে বিবেচ্য।

দেশে রাজনীতিবিষয়ক বইয়ের বিশেষ পাঠককুল রয়েছে। এ কারণে প্রতি বছরই বইমেলায় ছোট-বড় অনেক প্রকাশনা থেকে রাজনীতির নতুন নতুন বই প্রকাশ হয়। এবারের মেলায়ও রাজনীতির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নতুন বই প্রকাশ হয়েছে। পাশাপাশি দু’একজন রাজনীতিবিদের লেখা বইও প্রকাশ হয়েছে।

বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলার ১১তম দিন পর্যন্ত রাজনীতিবিষয়ক নতুন বই প্রকাশ হয়ছে মাত্র চারটি। কিন্তু মেলার বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে জানা যায়, এখন পর্যন্ত রাজনীতিবিষয়ক পনেরোটির বেশি বই প্রকাশ হয়েছে।

এই বইগুলোর মধ্য সময় প্রকাশন এনেছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ‘সংকট ও সুযোগ’, প্রথমা থেকে প্রকাশ হয়েছে মহিউদ্দিন আহমদের ‘আওয়ামী লীগ : যুদ্ধদিনের কথা ১৯৭১’, একই প্রকাশনা থেকে এই লেখকের আরেকটি বই ‘এই দেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল’, মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর ‘বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল : অবরুদ্ধ ৬৮ বছর’, আগামী প্রকাশনী থেকে ড. মো. আনোয়ার হোসেনের ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পথচলা’, অনন্যা থেকে অধ্যাপক আবু সাইয়িদের ‘ইতিহাসের দায়ভার এবং একজন আদুরী’, একই প্রকাশনী থেকে ড. আবদুল লতিফ মাসুমের ‘সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি’, গোলাম মাওলা রনির ‘ইতিহাসের নির্মম প্রতিশোধ’, মাওলা ব্রাদার্স এনেছে কাবেদুল ইসলামের ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা’, ঐতিহ্য এনেছে মনজুরুল হক রচিত ‘পূর্ব বাংলার সাত দশকের কমিউনিস্ট রাজনীতি’, একই প্রকাশনী থেকে মো. নূরুল আনোয়ারের ‘মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড : দুর্যোধনটি কে?’, বিপ্লবীদের কথা থেকে প্রকাশ হয়েছে আহমদ রফিকের ‘ইলা-রমেন কথা : প্রাসঙ্গিক রাজনীতি’, একই প্রকাশনী থেকে রণেশ দাশগুপ্তের অনুবাদে ‘জিজ্ঞাসা’, শান্তি দাশের ‘অরুণ-বহ্নি’, লক্ষী চক্রবর্তী ও শেখ রফিকের সম্পাদনায় ‘৭১ (তৃতীয় খণ্ড), বাঁধন পাবলিকেশন্স থেকে মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসির ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে আওয়ামী লীগের ভূমিকা’।

আগামী প্রকাশনী থেকে রাজনীতি বিষয়ক প্রচুর বই প্রকাশ হয়েছে। রাজনীতির বইয়ের কাটতির ব্যাপারে জানতে চাইলে আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গণি যুগান্তরকে বলেন, ‘রাজনীতিবিষয়ক বই সব প্রকাশনা থেকে প্রকাশ হয় না। কারণ রাজনীতিবিষয়ক বইয়ের কাটতি নানা সময়, উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে। আমরা সবসময় রাজনীতিবিষয়ক বইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেই। সারা বছরই এ ধরনের বইয়ের পাঠক পাওয়া যায়।’

রোববার মেলা প্রাঙ্গণ ছিল বেশ জমজমাট। বিকাল থেকেই পাঠকের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে মেলার দুই প্রাঙ্গণ। বইয়ের বিক্রিও ছিল বেশ ভালো। আর একদিন পর পহেলা ফাল্গুন এবং তার পরদিনই ভ্যালেন্টাইন ডে। এই দুটি দিনই মেলা পরিণত হবে উৎসবের প্রাঙ্গণে।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র জানিয়েছে, রোববার মেলার ১১তম দিনে নতুন ১০২টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে আগামী প্রকাশনী এনেছে ড. আনোয়ার হোসেনের ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পথচলা’, ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ এনেছে হাসান আজিজুল হকের ‘রাই কুড়িয়ে বেল’, কথাপ্রকাশ এনেছে সালেক খোকনের ‘আদিবাসী বিয়ে কথা’ ও আলম তালুকদারের ‘যে ছড়া রবীন্দ্রনাথ লেখে নাই’, বাংলা একাডেমি এনেছে কাজী আবদুল ওদুদের ‘হিন্দু মুসলমানের বিরোধ’, শামসুজ্জামান খানের ‘ফোকলোর সংগ্রহমালা-১১৫’, রশীদ হায়দারের ‘স্মৃতি : ১৯৭১ প্রথম খণ্ড’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে আহমদ রফিকের ‘নির্বাসিত নায়ক’।

, আলেয়া বুক ডিপো এনেছে হাসান আজিজুল হকের ‘চালচ্চিত্রের খুঁটিনাটি’, অনন্যা এনেছে ইমদাদুল হক মিলনের ‘আছো তুমি হৃদয়জুড়ে’, পাঠক সমাবেশ এনেছে কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদের ‘এনভায়রনমেন্ট; ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ওয়াটার রিসোর্স’। ছায়াবীথি এনেছে শাহীন চৌধুরীর ‘নিরুদ্দেশ’।

মূলমঞ্চের আয়োজন : রোববার মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘রুশ বিপ্লবের শতবার্ষিকী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক সাংবাদিক ইমতিয়ার শামীম। আলোচনায় অংশ নেন ডা. সারওয়ার আলী ও সৈয়দ আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার।

পবিত্র সরকার বলেন, পৃথিবীতে শ্রেণীবিভক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের বিপ্লবের ইতিহাস রয়েছে। তার ধারাবাহিকতাতেই ১৯১৭ সালে মহান রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সে বিপ্লব শুধু রুশ দেশেই আবদ্ধ থাকেনি, সমগ্র পৃথিবীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল।

আত্মদানের মাধ্যমে স্বপ্নপূরণের অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল রুশ বিপ্লব। সাহিত্য জগতেও বিপ্লবের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছিল রুশ বিপ্লব এবং ধ্বনিত করেছিল শোষণমুক্তির কথা, মানুষের অধিকার আদায়ের কথা, নারীমুক্তির কথা।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র এবং সারেগামাপা সঙ্গীত পরিষদ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter