সক্রিয় আ’লীগ, নীরব প্রচারে বিএনপি এবারও আসনটি চায় জাতীয় পার্টি

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ও আক্তার হোসেন, দেবিদ্বার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেবিদ্বার উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনে শুরু হয়েছে আগাম ভোটের প্রচার। মাঠে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সরব থাকলেও নীরব প্রচারে মামলা-হামলায় কাবু এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ও জামায়াত। বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন গণসংযোগে, যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোয়। কেউ কেউ সরব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও। এদিকে ২০১৪ সালের ন্যায় আগামী নির্বাচনেও কুমিল্লা-৪ আসনটি চায় মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকলেও এদিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারা পাচ্ছেন বড় দু’দলের টিকিট- এমন জল্পনা-কল্পনা এখন কর্মী-সমর্থকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে।

আসনটি দীর্ঘদিন বিএনপির ঘাঁটি ছিল। বিশেষ করে নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত (১৫ ফেব্র“য়ারির বিতর্কিত নির্বাচনসহ) চার চারটি নির্বাচনে টানা জয়লাভ করে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ছন্দপতন হয়। মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় আহসান মুন্সী প্রার্থী হতে পারেননি। সে সময় তার স্ত্রী মাজেদা আহসান মুন্সী বিএনপির টিকিটে ভোটে অংশ নেন। ভোটে বিএনপির মাজেদা আহসানকে হারিয়ে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের এবিএম গোলাম মোস্তফা। পরের দফায় অর্থাৎ সবশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। ওই নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু। কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সীর ছেলে উপজেলা চেয়ারম্যান রাজী মোহাম্মদ ফখরুল স্বতন্ত্র নির্বাচন করে এমপি হন। নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত ৪ বছর এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করে ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। দলে এবং এলাকায় তার পাল্লাই ভারী। সদা হাস্যোজ্জ্বল মিষ্টিভাষী তরুণ প্রজন্মের এ নেতা এলাকার প্রিয়মুখ। এমপি হওয়ার পর তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট, নারীর ক্ষমতায়নসহ দেবিদ্বারের আমূল পরিবর্তনে কাজ করেছেন। ২০১৬ সালে তিনি টপ ইয়াং আউটস্ট্যান্ডিং প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। তরুণ এই এমপি ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় আইটি খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিপূর্বে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশে তিনি সফলতার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর দেবিদ্বারকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও ডাকাতমুক্ত করে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছেন। চলমান উন্নয়ন ও আধুনিক দেবিদ্বার গঠনে রয়েছে তার বিশেষ অবদান। নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচিত হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সহযোগিতায় ৪ বছরে আমি দেবিদ্বারে ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। ৫০ হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেছি। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনকে সুসংগঠিত করেছি। উপজেলার ব্রিজ-কালভার্ট ছোট-বড় সড়কগুলো সংস্কার করা হয়েছে। ৩ শতাধিক বেকার যুবককে চাকরি দিয়েছি। ৩০টি প্রাইমারি স্কুলের ভবন, ৬টি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের নতুন ভবন করেছি। আমার নেতৃত্বেই দলের সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক এমপি এবিএম গোলাম মোস্তফা ও সহসভাপতি এম হুমায়ুন মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার এবং দলের সদস্য আবুল কালাম আজাদ।

কথা হয় এবিএম গোলাম মোস্তফার সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘ ৩২ বছর পর নবম সংসদ নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগকে আসনটি উপহার দিয়েছিলাম। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। এম হুমায়ুন মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে এখন আমি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। দুঃসময়ে দলের হাল ধরে রেখেছি, নেত্রীর নির্দেশে এলাকায় দলকে সংগঠিত করতে গণসংযোগসহ নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আমিই প্রথম।

রোশন আলী মাস্টার যুগান্তরকে বলেন, দলের জন্য অনেক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমার ত্যাগ সম্পর্কে নেত্রী এবং হাইকমান্ড অবগত। নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ঢাকা গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে আমি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি।

নানামুখী চাপে বিএনপি এ মুহূর্তে কিছুটা কোণঠাসা। তবে নানা কৌশলে প্রচারে আছে বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দলের হেভিওয়েট প্রার্থী। নেতাকর্মীরা বলছেন, চারবারের এমপি হিসেবে তার হাত ধরেই এলাকার যত উন্নয়ন। দলে এবং এলাকায় রয়েছে তার বিপুল জনসমর্থন। তিনি নিয়মিত দলীয় কর্মকাণ্ডসহ নানা কৌশলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। মামলা-হামলাসহ ব্যাপক জুলুম-নির্যাতনের শিকার এ নেতার নেতৃত্বেই দেবিদ্বারে বিএনপি ও দলের সব অঙ্গসংগঠন ঐক্যবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তার অনুসারীরা।

দলের অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান নিয়মিত এলাকায় আসছেন এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন আউয়াল খান পাবেন এমন অভিমত তার অনুসারীদের। দেবিদ্বারের পাশাপাশি কুমিল্লা জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো মজবুত করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশে আমি দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম এবং দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ করছি। আশা করছি আগামী নির্বাচনে দলের হাইকমান্ড আমার শ্রম ও ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।

এ ছাড়া হংকং বিএনপির সভাপতি এএফএম তারেক মুন্সীও মনোনয়নের আশায় কাজ করছিলেন তবে গত শনিবার ৩ কর্মীসহ তারেক মুন্সীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু এবারও মহাজোটের মনোনয়ন পেতে ব্যপক দৌড়ঝাঁপ করছেন। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে এলাকায় পরিচিত এ নেতার দেবিদ্বারে রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। কেন্দ্রীয় ছাত্রসমাজের সাবেক সভাপতি রাজুর একান্ত প্রচেষ্টায় দেবিদ্বারে জাতীয় পার্টির একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে। উপজেলায় দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো তারই হাতে গড়া। ইকবাল হোসেন রাজু বলেন, গত নির্বাচনে আমি মহাজোটের প্রার্থী হলেও শাসক দল আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ আমাকে সহযোগিতা করেনি। তাদের অসহযোগিতায় মাত্র ৩ হাজার ভোটে হেরে যাই। গত ৪ বছর আমি এলাকায় ব্যাপক কাজ করেছি। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.