বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সম্মেলন

বড় প্রকল্পে ও রোহিঙ্গাদের অধিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি

আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বড় সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

  মিজান চৌধুরী, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা।
রোহিঙ্গা। ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা সংকট উত্তোরণ ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বড় প্রকল্পে আরও বেশি সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। এরই মধ্যে দাতা সংস্থাগুলোর ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ সুনাম অর্জন করেছে। ফলে আগামীতে এসব খাতে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে দাতা সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সম্মেলনে বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ। সহায়তার পরিমাণ চূড়ান্ত করতে খুব শিগগির নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া ওই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বড় ধরনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা সমস্যা। সেখানে বলা হয়, আগামী বর্ষায় রোহিঙ্গা সংকট আরও বাড়তে পারে। পাহাড়ের গায়ে রোহিঙ্গাদের বাসস্থান। বর্ষায় পাহাড় ধসের শঙ্কা বেশি। এ বিষয়েও বড় এ দাতা সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, বিশ্বব্যাংকের সিইওর সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন তাদের আর্থিক সহায়তা করবে। আগের মতোই রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। এ অবস্থায় তাদের জন্য কোনো সহায়তা চাওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সার্বিক অবস্থা দেখতে বিশ্বব্যাংকের লোকজন সেখানে আছে। তাদের বিষয়টি দেখার জন্য পৃথক ডেস্কও আছে। আমি বিশ্বাস করি, রোহিঙ্গা সংকট হলে বিশ্বব্যাংক তা দেখবে।

জানা গেছে, পদ্মা সেতু ছাড়া অন্যান্য বড় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে অর্থের প্রয়োজন। সেটি তুলে ধরা হয়েছে সম্মেলনে। এ ছাড়া উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে আগামীতে আরও বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এমন ধারণা দেয়া হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে বাংলাদেশকে বলা হয়েছে। এ বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যথাসময়ে এসব প্রকল্প শেষ হবে। প্রসঙ্গত অগ্রাধিকারের প্রকল্পগুলোকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ নাম দেয়া হলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। ১০ বড় প্রকল্পের মধ্যে সাতটি প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে ২৮ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ছাড়া বাকি সাত প্রকল্পের কাজ এখন পর্যন্ত এক-তৃতীয়াংশও শেষ হয়নি। এই অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে এবং অর্থে প্রকল্পগুলো শেষ করাই হবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বড় প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময় ও অর্থে শেষ না হওয়ার পেছনে নানা কারণের কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে আছে প্রকল্প কর্মকর্তাদের দক্ষতার অভাব। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক প্রকল্প চলছে। শেষ হওয়ার পথে আছে অনেক প্রকল্প। বড় প্রকল্পও কিছু চলমান রয়েছে। এসব বড় প্রকল্প শেষ করতে হবে। এ জন্য দরকার অর্থায়ন। তবে বিশ্বব্যাংক ছাড়া অন্য দাতা সংস্থা যারা আমাদের অর্থায়ন করছে তারা অনেক চাপের মুখে আছে। কারণ সারা বিশ্বে অর্থনীতি এখন স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। এদিক থেকে বাংলাদেশ চাপমুক্ত। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্পৃক্ততা খুব কম। এরপরও আমরা বেশি অর্থ চেয়েছি। তারা এতে দ্বিমত করেনি। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্বব্যাংক অর্থের জোগান দিতে রাজি আছে।

বড় প্রকল্প বলতে নির্ধারিত কোনো প্রকল্পের নাম বলতে পারবেন কি, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু ছাড়া অনেক প্রকল্পেই সহায়তা নেয়া হবে। এ ছাড়া আগামীতেও অনেক প্রকল্প আসবে সেগুলোতে সহায়তা নেয়া হবে। বড় প্রকল্পের কাজ শেষ করতে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হতে পারে এর হিসাব সরকার তৈরি করেছে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে পরিমাণ অর্থ লাগবে এটি ঠিক করতে বিশ্বব্যাংক কাজ করছে। এ বিষয়টি চূড়ান্ত করতে আগামী কাল (সোমবার) বিশ্বব্যাংক বৈঠক করবে। তবে তারা অনেক সহজ করে দিয়েছে। বিশেষ করে সেসব প্রকল্পের অগ্রগতি কম। সেখানের অর্থ অন্য প্রকল্পে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আগে যে সহায়তা পাওয়া গেছে তার চেয়ে বেশি সহায়তা পাওয়া যাবে। কারণ ইতঃপূর্বে নেয়া ঋণ সঠিক সময় পরিশোধ করা হয়েছে। এদিক থেকে বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে।

এদিকে শিক্ষা খাতের সংস্কার আনতে বড় ধরনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে সংস্কারমুখী পদক্ষেপের মধ্যে বর্তমানে যে সাধারণ মানের শিক্ষা আছে এর পরিবর্তন করতে হবে। বর্তমান ও আগামীর হাল ধরতে পারবে সে মানের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন। এ জন্য বিষয়ভিত্তিক শ্রেণীকক্ষ সাজাতে হবে। এ জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। সংস্কারমুখী পদক্ষেপ না নিলে এগোতে পারব না।

বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সিইও কোনো প্রশ্ন করেছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য যেসব সহায়তা দরকার সেগুলো আমাদের আছে। এগুলোর হাত ধরেই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। সুতরাং তারা জেনেই প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে বিরোধিতা করেনি।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×