নিরাপদ সড়ক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সোচ্চার হোন: ১৪ দল

গাড়ির গতি নির্ধারণ করে দিলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে * সুপারিশ বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

১৪ দল আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক ও মাদকমুক্ত সমাজ’- শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা
১৪ দল আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক ও মাদকমুক্ত সমাজ’- শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা

নিরাপদ সড়ক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও শ্রেণী পেশার সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, সড়ক নিরাপদ এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় যেসব সুপারিশ দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। সমস্যার সমাধান করতে হলে যে সুপারিশ আসে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধীরা যাতে পার পেয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এক কথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

সোমবার ১৪ দল আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক ও মাদকমুক্ত সমাজ’- শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা একথা বলেন। সিরডাপ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও শ্রমিক নেতা শাজাহান খান এমপি, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান এমপি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, সংসদ সদস্য এ্যারোমা দত্ত, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন। সেমিনারে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শেখ হাসিনার সরকার সব কিছুতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যাগুলো সমাধানের পথে। সড়ক নিরাপদ হয়নি। সমাজ মাদকমুক্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু তার নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি বলে এখনও অনেক সমস্যার সমাধান হয়নি।

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও শ্রমিক নেতা শাজাহান খান এমপি বলেন, সড়কে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে সব সরকারের আমলেই বিভিন্ন সুপারিশ আছে কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যার সমাধান হয়নি। সড়কে চাঁদাবাজির কথা বলা হয়, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় মোহাম্মদ নাসিম যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তখন চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছিল। কারণ তখন আন্তরিকতা ছিল। তিনি বলেন, পরিবহন সেক্টরে দক্ষ চালক তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অথচ আমরা চালকদের প্রশিক্ষণে ভর্তুকি দিতে পারছি না। সড়কের সমস্যা সমাধানে যেসব সুপারিশ আসে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এক সময় বিআরটিসিকে দুর্নীতিবাজ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছিল। দেশে হাইওয়ে বলে কিছু ছিল না, নামে মাত্র হাইওয়ে ছিল। পুরো সিস্টেমটাই দুর্বল করে ফেলা হয়েছিল। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ার সময় এ সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল। আমরা এখনও সেগুলো ঠিক করতে পারিনি। তবে প্রত্যেকটি সেক্টর আস্তে আস্তে উন্নতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, নাজমুল হুদা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সবাইকে নিয়ে পালন করার জন্য সব রাজবন্দির মুক্তির কথা বলেছেন। অবশ্যই আমরা সবাইকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। তবে দুর্নীতিবাজদের নিয়ে নয়। যারা কারাগারে আছেন তারা অপরাধী, অপরাধীদের নিয়ে এতবড় মহৎ কাজ করতে পারি না। আমরা সবাইকে জয়বাংলার পতাকা তলে আনতে চাই। কিন্তু অপরাধীদের নয়, অতীতের মতো অপরাধ যেন না হয়।

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, সড়কে নৈরাজ্য চলছে। যানবাহনের ফিটনেস দেখার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে আছে। চালকরা মদ খেয়ে সড়কে নামে। আর কয়েক মাস পর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন হবে। সেই সঙ্গে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। শুধু দণ্ডিত দাগি আসামি ছাড়া সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিয়ে দুটি উৎসব সবাইকে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে পালন করার প্রস্তাব করছি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান বলেন, মাদকসেবীদের সঙ্গে পুলিশের কোনো কোনো কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। টাকা জোগাতে তারা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিতে নামে। মাদক কারবারিরা পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা পায়। কোনো কোনো পুলিশ কর্মকর্তা এর বিরুদ্ধে দাঁড়ালে দেখা যায় তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। ঢাকায় সর্বোচ্চ ২০ এবং হাইওয়েতে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতি নির্ধারণ করে দিলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় দুই ব্যাধি হল- অনিরাপদ সড়ক ও মাদক।’

প্রবীণ সাংবাদিক এবং কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করতে যেসব সুপারিশমালা দেয়া হয় সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না। সুপারিশ বাস্তবায়নে অবহেলা দূর করতে হবে।

জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, চারটি বিষয় বাদে আমরা সব ক্ষেত্রে অগ্রগতি চাই। সড়কে নৈরাজ্য, নুসরাতের মতো ঘটনা, নারী-শিশু নির্যাতন ও দুর্নীতি- এ চারটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি চাই না। চারটি বিষয় রোধ করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে ঘাটতি দেখতে পাচ্ছি। এক্ষেত্রে বাঘের কাছে ছাগল পালনের মতো কমিটি গঠন করলে হবে না।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, একজন বাস মালিকের দক্ষ ড্রাইভার বেছে নেয়ার সুযোগ নেই। চালক মাদকাসক্ত আছে কিনা তা যাচাই করতে ডোপ টেস্ট করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যে ড্রাইভার মাদকাসক্ত হবে তাকে শাস্তি দিতে হবে। বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান বলেন, ২৫ লাখ মোটরসাইকেল চলাচল করছে। অথচ ১০ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×