বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

পতনের বৃত্তেই শেয়ারবাজার

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

শেয়ারবাজারে দরপতন থামছেই না। টানা দরপতনে বিপর্যস্ত বিনিয়োগকারীরা। তলানিতে এসেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম। মঙ্গলবারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক ৬০ পয়েন্ট কমেছে।

শতকরা হিসাবে যা ১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এদিকে দরপতনের প্রতিবাদে মঙ্গলবারও বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। এ সময় তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন। তবে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি দফায় দফায় বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করলেও দরপতন ঠেকানো যাচ্ছে না।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে বিও অ্যাকাউন্টে টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, এ সংক্রান্ত যে তথ্য বাজারে ছড়ানো হয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

জানা গেছে, টানা দরপতনের পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট চরমে। ডিএসইর লেনদেন ২০০ কোটি টাকার ঘরে আটকে গেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও চরম আস্থাহীনতা।

মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেনকৃত ৩৪৪টি কোম্পানির মধ্যে ২৫৩টির শেয়ারের দাম কমেছে। আর বেড়েছে ৫৯টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৬০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৪৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অপর দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৭৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২১২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে লেনদেনে চরম খরা নেমে এসেছে। দিনশেষে ডিএসইতে ২৬৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৯৬ কোটি ২ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৬ কোটি ১১ লাখ টাকা।

লেনদেন ও সূচকের এমন পতনের প্রতিবাদে দুপুরের দিকে ব্রোকারেজ হাউস ছেড়ে ডিএসইর সামনে অবস্থান নেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সেখানে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

ওই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন থেকে সংগঠনটির সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বলেন, ‘ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজারের জন্য এখন বিনিয়োগকারীদের আস্থা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আর এ আস্থা ফিরে আসবে একমাত্র খায়রুল হোসেন পদত্যাগ করলে। যে পর্যন্ত শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে একজন নীতিবান বিনিয়োগবান্ধব মানুষ দায়িত্ব না নেবেন, সে পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে না, তাদের নীরব কান্না শেষ হবে না।’ লেনদেন খরার মধ্যে মঙ্গলবার টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে মুন্নু সিরামিকের শেয়ার।

কোম্পানিটির ১৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরপরেই রয়েছে ফরচুন সুজ। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার। ১০ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে এরপরেই রয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস। লেনদেনে এরপর রয়েছে- রেকিট বেনকিজার, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, গ্রামীণফোন, এস্কয়ার নিট, ব্র্যাক ব্যাংক, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মুন্নু জুট স্টাফলার্স।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মঙ্গলবার ২১৮টি কোম্পানির ৪৮ লাখ ৬৩ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৯টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ১৪৯টি এবং আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০ কোম্পানির শেয়ারের দাম। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ১৮৭ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ১০০ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

সিএসইর বাজারমূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৩ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে বাজারে গুজব ছিল বিও অ্যাকাউন্টে টিআইএনের (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘এর আগে স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা ছিল। ওই আলোচনায় শেয়ার ব্যবসা করার জন্য বিনিয়োগ বিও অ্যাকাউন্টে টিআইএনের (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) বিষয়টি আমি জানতে চেয়েছিলাম। এরপর বাজারে দরপতন হয়। এ সময়ে কয়েকটি কর্নার থেকে আমাকে বিষয়টি পরিষ্কার করতে বলা হয়। সে কারণে আমি পরিষ্কার করে বলছি, বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে বর্তমান যে নিয়ম আছে, সেটিই থাকবে। এখানে টিআইএন নম্বর লাগবে না।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×