আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে : প্রধানমন্ত্রী

‘থামো, আমার কাছে অনেক তথ্য আছে’ * তৃণমূল পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজানো হবে * ১০ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসা নিলেন প্রধানমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে : প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা সাধারণত হ্রাস পায়, কিন্তু আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এর কারণ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় প্রধান কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টামণ্ডলীর যৌথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় এক নেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ’৭৫ পরবর্তী নানা ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু ’৭৫-এর কেন, ১/১১ সময়ে কে কী করেছে আমার মনে নেই? কার কী ভূমিকা ছিল সেটা জানি। আমার সামনেই তো অনেকে আছে। আমি তো মন্ত্রীও বানিয়েছি। কিন্তু আমি কি ভুলে গেছি কার কী ভূমিকা ছিল? আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, এত ষড়যন্ত্রের পরও দলটাকে ক্ষমতায় রাখতে পেরেছি।

সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা যুগান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন। তারা জানান, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস আরেক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিক্ষাবিদ ড. খন্দকার বজলুল হক ও প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খানের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন।

বজলুল হকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে এই খন্দকার বজলুল হকের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগের বড় নেতা। অনেক কথা বলেন।

কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খানের নাম উল্লেখ করে মুকুল বোস বলেন, তিনি পাকিস্তানের আর্মি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুরে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে পাকিস্তানে চলে যান। তিনি এখন আওয়ামী লীগের বড় নেতা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘থামো, তুমি তো একটা একটা করে বলছো। আমার কাছে অনেক তথ্য আছে।’

বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করে মুকুল বোস যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি যে বক্তব্য দিয়েছি তার সপক্ষে দলীয় সভাপতিও কথা বলেছেন।’

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের দিকে যদি তাকান, দেখবেন সব শ্রেণী-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। যেটা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। এমনকি ব্যবসায়ী সম্প্র্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র- সবচেয়ে বড় কথা যারা প্রথমবারের ভোটার, নবীন ভোটার সবাই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও চেয়েছে।’

বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ভরাডুবির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যেহেতু মিলিটারি ডিকটেটর ক্ষমতা দখল করার মধ্য দিয়ে এসব দল গঠন হয়েছে, খুব স্বাভাবিকভাবে এরা পরজীবীর মতো। নির্বাচনকে তারা মনে করেছে ব্যবসা। টিকিট বেচে তারা কিছু পয়সা কামাই করে নিয়েছে, কিন্তু নির্বাচনের প্রতি তাদের খুব একটা নজর ছিল না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যখন সার্ভে করা হয়েছিল, সেই সার্ভেতে স্পষ্ট হয় যে, আওয়ামী লীগকে জনগণ চায়। জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে এবং আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে।’

আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সভায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘দলকে তৃণমূল পর্যন্ত নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। এ লক্ষ্যে আট বিভাগের জন্য আটটি কমিটি করা হয়েছে, কমিটিগুলোর দায়িত্ব থাকবে তৃণমূলে নতুন করে দলকে ঢেলে সাজানোর।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আরেকটি কাজ করতে হবে। ইতিমধ্যে আমরা প্রেসিডিয়াম মিটিং করেছি। ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং করেছি। আমরা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কার্যকরী সংসদের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে ৮ বিভাগে ৮টি কমিটি গঠন করেছি। এ কমিটির দায়িত্ব থাকবে দলকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নতুন করে ঢেলে সাজানো। কোথায় কমিটি আছে না আছে সেগুলো দেখা। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলা।’

বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এগুলোই ছিল তাদের কাজ। আজকে দেশের মানুষ অন্তত শান্তি পাচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এবারের নববর্ষ সবাই উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপন করেছে। সব শ্রেণী-পেশার মানুষ উৎসব পালন করেছে। আমরা কিন্তু নববর্ষ ভাতাও দিচ্ছি। বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

জাতির পিতার অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশটা যখন জাতির পিতার নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করে তখনই ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনা ঘটে। নির্মমভাবে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।’

১৫ আগস্টপরবর্তী দুই দফায় ২৯ বছরের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরপর জাতির জীবনে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। এ সময় মানুষের কোনো অগ্রগতি হয়নি। কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখনই এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করে।

১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করি এবং এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। আজ বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার পথে। আমরা প্রায় ৪০ ভাগ থেকে ২১ ভাগে দারিদ্র্যের হার নামিয়ে এনেছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রামপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। গ্রামের মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হচ্ছে। মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে। এটাই জাতির জনকের স্বপ্ন ছিল। জাতির পিতা চেয়েছিলেন বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। এজন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি। সরকারিভাবেও ব্যবস্থা নিয়েছি, পার্টির পক্ষেও পদক্ষেপ নিয়েছি এবং একটি কমিটিও করেছি। সেই কমিটির মাধ্যমে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। এ সময়টাকে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজকে এখানে আলাপ আলোচনা করব।’

যৌথসভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচটি ইমামসহ দলটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ।

সাংগঠনিক সফর ঈদের পর : এদিকে রমজানের আগে রংপুরের তারাগঞ্জ ও গঙ্গাচড়া উপজেলা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের তৃণমূল সফরের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান সাংগঠনিক সফরের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে। এমপিরা অধিবেশনে যোগ দেবেন। সে কারণে সংসদ শেষ হলে সাংগঠনিক সফরে বের হতে হবে। একই সঙ্গে সম্মেলনও করতে হবে। সেই হিসাবে আগামী ঈদের আগে সাংগঠনিক সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানান সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা।

সভায় ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য জাতীয় কমিটির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের জেলা-মহানগর পর্যায়ে কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মুজিব বর্ষ একেবারে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে ব্যাপক কর্মসূচি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

১০ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসা নিলেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন সকালে সাধারণ রোগীদের মতো ১০ টাকার টিকিট কেটে আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী এখানে এভাবে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। চিকিৎসা নেয়ার সময় তিনি হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসক ও নার্সদের ধন্যবাদ জানান।

‘রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে’ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কে তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, জোরপূর্বক স্থানচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের অবশ্যই তাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরে যেতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম ইব্রাহিম আল হাশিমী সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী আরব আমিরাতের মন্ত্রীকে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি সংক্ষেপে অবহিত করে বলেন- বাংলাদেশ সরকার অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এ ইস্যুতে আলোচনা করেছে এবং তাদের প্রত্যাবাসনে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু তাদের প্রত্যাবাসন এখনও শুরু হয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আরও উন্নত সুবিধা দিতে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য একটি দ্বীপকে প্রস্তুত করছে। আমিরাতের মন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারকে তার দেশের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে সম্ভাব্য সব সহযোগিতাসহ বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রী আমিরাত ও বাংলাদেশের মধ্যে ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×