বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের শিকার ৬ জন

ভিডিও ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ

অবশেষে আত্মহত্যার চেষ্টা নবম শ্রেণীর ছাত্রীর

  যুগান্তর ডেস্ক ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ ম্যাপ
ময়মনসিংহ ম্যাপ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেছিল স্থানীয় এক বখাটে। পরে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে সে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সেই ভিডিও ফেরত দেয়ার কথা বলে তাকে নির্জন স্থানে এনে বন্ধুদের নিয়ে গণধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এই অপমান সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ওই ছাত্রী।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল ও মাদ্রাসা ছাত্রীসহ আরও ৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কিশোরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে দশম শ্রেণীর ছাত্রী, বাগেরহাটের রামপালে মাদ্রাসা ছাত্রী এবং পটুয়াখালী ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : পুলিশ জানায়, নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে একই গ্রামের জুয়েল মাঝির বখাটে ছেলে হৃদয় বাড়িতে একা পেয়ে সম্প্রতি ধর্ষণ করে। এ সময় বন্ধুদের দিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করায় সে। পরে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে বখাটে হৃদয় স্কুলছাত্রীর বাবা-মাকে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র দেখিয়ে ঘটনাটি নিয়ে চুপ থাকতে বলে। বৃহস্পতিবার সকালে আপত্তিকর ভিডিওটি ফেরত দেয়ার কথা বলে বখাটে হৃদয় ও তার বন্ধু রাসেলসহ তিন যুবক স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে ছয়বাড়িয়া গ্রামের আতকা বিলের পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বন্ধুদের নিয়ে তাকে গণধর্ষণের চেষ্টা চালায়।

এ সময় স্কুলছাত্রীর চিৎকারে জনৈক কৃষক এগিয়ে এলে বখাটে হৃদয় ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এই অপমান সইতে না পেরে স্কুলছাত্রী দুপুরে বাড়ি ফিরে বিষপান করে। বাড়ির লোকজন তাকে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর বাবা শুক্রবার বিকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গফরগাঁও থানায় মামলা করেছেন। এসআই জাকিউর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) : ১৬ এপ্রিল উপজেলার কালাপাহাড়িয়ার বিবিরকান্দী গ্রামের ওই কিশোরীকে একই গ্রামে তার ফুপুর বাড়িতে রেখে বেড়াতে যান তার বাবা-মা। এ সময় ওই গ্রামের সাজন মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (২২) মোবাইল ফোনে ওই কিশোরীকে তার সঙ্গে দেখা করতে বাড়ির বাইরে আসতে বলে।

সে (কিশোরী) বাইরে আসামাত্রই তার মুখ চেপে একই গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে জালালের (২৪) সহযোগিতায় পাশের একটি ঝোপে নিয়ে যায়। সেখানে জুয়েল ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ধর্ষক জুয়েল ও তার সহযোগী জালাল পালিয়ে যায়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য চেষ্টা করে তিন দিন পর শুক্রবার সকালে ধর্ষিতার ভাই বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

বাগেরহাট : রামপালে এগারো বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ধর্ষণের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ফেরদৌস শেখ (১৮) নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে। সে রামপাল উপজেলার শরাফপুর গ্রামের লুৎফর শেখের ছেলে। রামপাল থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণীর ওই ছাত্রীর সঙ্গে মাদ্রাসার সামনের মুদি দোকানি ফেরদৌসের পরিচয় ছিল। সেই সূত্রে ১১ এপ্রিল বিকেলে ফেরদৌস সুকৌশলে মেয়েটিকে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।

পটুয়াখালী (দ.) : ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ কর্তৃক ৬ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে শুক্রবার সকালে উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। শিশুটি প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভিকটিমের ভাষ্যমতে তার মা জানান, বুধবার বাড়ির অদূরে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলা করছিল তার মেয়ে।

এ সময় প্রতিবেশী আবদুল হক ঘরামি (৭০) চকলেট দেয়ার প্রলোভনে শিশুটিকে লোহালিয়া নদীর কিনারে একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে দাদির কাছে ঘটনা খুলে বলে। পরে তাকে পটুয়াখালী মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে নেয়া হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য হায়দার মাঝি বলেন, আমরা ঘটনা শুনে মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কূলকিনারা পাইনি। তাই তারা তাদের মতো করে থানায় গেছে।

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) : বৃহস্পতিবার হালুয়াঘাটে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার থানায় মামলা করেছে তার ফুপু। উপজেলার মরাগাংকান্দার ধর্ষিতার ফুপু জানান, শিশুর মা জন্মের ৪ মাস পর তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তার বাবা ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করে। তিনি তাকে লালনপালন করে আসছিলেন। ঘটনার দিন কেউ বাড়িতে না থাকায় প্রতিবেশী আবদুল কুদ্দুছের ছেলে নুরজামাল তাকে ডেকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ধর্ষণ করে। বর্তমানে শিশুটিকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : শিবগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন। মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল মতিন জানান, উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের মনিরুল ইসলামের ছেলে দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ছাত্রীকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে তাকে ধর্ষণ করে দেলোয়ার। ঘটনাটি জানাজানি হলে ছাত্রীর পরিবারের লোকজন বিয়ের জন্য ছেলেপক্ষকে চাপ দেয়। এ নিয়ে ছেলের বাবাসহ তার লোকজন বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। থানায় মামলার পর রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত দেলোয়ারের বাবা মনিরুল ইসলাম, কানসাট ইউনিয়নের বাগদুর্গাপুর গ্রামের জঞ্জালীর ছেলে মাসুদ রানা ও রঘুনাথপুর গ্রামের রাব্বানীর ছেলে সাত্তন আলীকে গ্রেফতার করে।

মাদারীপুর, কালকিনি ও শিবচর : মাদারীপুরের ডাসারে দুই কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১১টায় মাদারীপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার। পুলিশ সুপার জানান, ৩ এপ্রিল ডাসার থানার আটিপাড়া গ্রামে দুই কিশোরীকে দুই রাত আটকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ৫ বন্ধু।

এ ঘটনায় ৫ এপ্রিল এক কিশোরীর বাবা ডাসার থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। ওই ঘটনার মূল হোতা নয়ন সরদার ও তার বন্ধু সাকিব হাওলাদারকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া শিবচর উপজেলার সূর্য্যনগর এলাকার গণধর্ষণ ও ধর্ষণের ছবি প্রকাশের অভিযোগে পারভেজ মুন্সী নামে আরও এক ব্যক্তিকে কামরাঙ্গীরচর থেকে আটক করেছে পুলিশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×