বদলে যাচ্ছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

১৮ ধাপের সেবা মিলবে বেঁধে দেয়া কম সময়ে

সহজীকরণের প্রস্তাব চূড়ান্ত, শিগগির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন মন্ত্রী

  বিএম জাহাঙ্গীর ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গৃহায়ন,

একে একে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে সব ধরনের সেবার মানে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শুধু রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নয়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সেবাদান পদ্ধতি খোলনলচে বদলে যাচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানে জনগণকে দেয়া ১৮ ধরনের সেবা প্রদানে সহজীকরণের প্রস্তাব বুধবার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে প্রতিটি ধাপে নথি নিষ্পত্তির সময়সীমা ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বেঁধে দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম শিগগির এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। এছাড়া শুধু ঘোষণা দিয়েই মন্ত্রণালয় বসে থাকবে না, অটোমেশন পদ্ধতিতে সেবাদানের পদ্ধতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করা হবে।

এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকেও সব ধরনের সেবা দেয়া হবে খুব দ্রুত এবং বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে। মন্ত্রী এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এখন থেকে নথির পেছনে সেবাপ্রার্থীরা ছুটবে না, আপনাদের সঠিক সময়ে সেবা দেয়ার জন্য সেবাপ্রার্থীদের পেছনে ছুটতে হবে। অটোমেশন পদ্ধতিতে সেবাপ্রার্থীকে নিষ্পত্তির বিষয়টি জানিয়ে দিতে হবে। যদি কারও প্রস্তাব অনুমোদন করা সম্ভব না হয় তাহলে কেন দেয়া গেল না, তা-ও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে হবে। নথি আটকে রেখে উপরি খাওয়ার দিন ভুলে যান।’ তিনি বলেন, ‘নিজেদের সত্যিকারার্থে জনগণের সেবক মনে করতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাদের ট্যাক্সের পয়সায় আপনাদের বেতন হয়। আমার কাছে মন্ত্রিত্ব একটা দায়িত্ব। এটা বাহাদুরি কিংবা বড়ত্ব দেখানোর ক্ষমতা নয়। তাই আমি সবসময় নিজেকে সাধারণ মানুষ মনে করি।’ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন দায়িত্বশীল সিনিয়র কর্মকর্তা মন্ত্রীর এমন সব সুকঠিন মন্তব্যের কথা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। তারা বলেন, এমন মন্ত্রী পেয়ে আমরাও কাজের ক্ষেত্রে খুবই অনুপ্রাণীত।

যেভাবে সেবা সহজীকরণ হচ্ছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে : প্লট কিংবা ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনুমতির ক্ষেত্রে বর্তমানে সময় লাগে কাগুজে হিসাবে ৪২ দিন। কিন্তু বাস্তবে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। চাহিদামাফিক ঘুষ দিতে না পারলে ঘাটে ঘাটে নিরন্তর হয়রানির শিকার তো মামুলি বিষয়। কিন্তু সেবা সহজীকরণের নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি করতেই হবে। যেখানে বিভিন্ন ধাপ কমিয়ে হয়রানিমুক্ত সহজ পদ্ধতি বের করা হয়েছে। এছাড়া যার বেশির ভাগ কাজ ও ধাপ সম্পন্ন হবে অটোমেশন পদ্ধতিতে। এতে বলা হয়েছে, সব ধরনের হস্তান্তর (হেবা/দানসহ) এবং নামজারি অনুমতির আবেদন একসঙ্গে প্রধান কার্যালয়ে করতে হবে। এ সময় সকল ফি একত্রে আদায় করে গ্রহীতার নামে নামজারি করে দিতে হবে। নথি নিষ্পত্তি হবে পরিচালক পর্যায়ে।

একইভাবে নামজারি অনুমতির নথি নিষ্পত্তি হবে ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে এক দিনে। খেলাপির কিস্তির টাকা জমা দেয়ার অনুমতি নিতে বর্তমানে লাগে ২৩ দিন। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে লাগবে মাত্র ৩ দিন। এক্ষেত্রে কোনো আবেদনের প্রয়োজন হবে না। সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে সুদসহ অর্থ জমা দেয়া যাবে। ১ থেকে ৫ বছরের বেশি খেলাপি হলে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের অনুমতি নিতে হবে। দায়মুক্তির ছাড়পত্র নিতে বর্তমানে সময় লাগে ২৬ দিন, নতুন প্রস্তাবে ৩ থেকে ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। ২০১০ সালের আগের বিষয় হলে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে চালান গ্রহণ করা হবে। ভাঙা ও পুনর্নির্মাণের অনুমতি প্রথমবার নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যায়ে নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি নিতে হবে, যা উপপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে। সময় বর্ধিতকরণের নথি নিষ্পত্তি করতে বর্তমানে লাগে ২৫ দিন, সহজীকরণের প্রস্তাবে সময় লাগবে ৩ দিন। এ সংক্রান্ত ফি সরাসরি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বন্ধক অনুমতি নিতে বর্তমানে সময় লাগে ১৭ দিন, এখন মাত্র ৩ দিনে সম্পন্ন হবে। এ সংক্রান্ত ফি সরাসরি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি নিতে হবে, যা নিষ্পত্তি হবে উপপরিচালক পর্যায়ে। এছাড়া সঙ্গে লাগবে মূল দলিলের নকল এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের হালনাগাদ কপি।

প্লট/ফ্ল্যাটের দখল প্রদানের ক্ষেত্রে এখন আর দিনের পর দিন ধরনা দিতে হবে না। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে সুরাহা হবে। নির্ধারিত ফি পরিশোধ হলেই সক্রিয়ভাবে মেসেস/ই-মেইল চলে যাবে গ্রাহকের কাছে। আবেদন করা লাগবে না। ফ্ল্যাটের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে সময় নির্ধারণ হবে। নথি নিষ্পত্তি হবে পরিচালক পর্যায়ে। একাধিক প্লটের ওপর যৌথভাবে ভবন নির্মাণের অনুমতি নিতে খাতা-কলমের ৫৬ দিন আর অপেক্ষা করতে হবে না। এখন নিষ্পত্তি হবে ১০ দিনে। মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন পাঠাতে হবে ই-মেইলে। এ ধরনের প্রস্তাব চেয়ারম্যান পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে। দান কিংবা হেবার অনুমতি নিতে কাগুজে নিয়মের ৫১ দিনও গুনতে হবে না। সহজীকরণের নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ১০ দিনেই মিলবে সমাধান। সব ধরনের হস্তান্তর (হেবা/দানসহ) এবং নামজারির অনুমতির আবেদন একসঙ্গে প্রধান কার্যালয়ে করতে হবে।

এ সময় সব ফি একসঙ্গে আদায় করে গ্রহীতার নামে নামজারি করে দিতে হবে। নথি নিষ্পত্তি হবে পরিচালক পর্যায়ে। ওয়ারিশ সূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে নামজারি করতে হবে। খণ্ড প্লট বরাদ্দের আবেদন নিষ্পত্তি হতে বর্তমানে প্রায় ৬ মাস লেগে যায়। এখন এ সময়সীমা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া প্লট বিভাজনের অনুমতি পেতে বর্তমানে সময় লাগে ৬৮ দিন। তবে এখন নিষ্পত্তি হবে ১০ দিনে। বাড়ি বরাদ্দের আবেদন নিষ্পত্তি হতে বর্তমানে খাতা-কলমে সময় নির্ধারণ করা আছে ৫৩ দিন। সহজীকরণের প্রস্তাবে এ সময়সীমা ২৮ দিন নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

এখানেও মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন ই-মেইলে দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে বর্তমানে লাগে ৫০ দিন। যদিও বাস্তবে সময় লাগে আরও বেশি। কিন্তু জনহয়রানি দূর করতে এখন ৭ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নথি নিষ্পত্তি হবে সদস্য (ভূমি) পর্যায়ে। আমমোক্তারনামা নিয়োগ ও গ্রহণের অনুমতির আবেদন নেয়া হবে অনলাইনে। নিষ্পত্তিও হবে দ্রুত। কনভারশন অনুমতি ৬০ দিনের পরিবর্তে ২৫ দিনে সম্পন্ন হবে। এছাড়া বিকল্প প্লট বরাদ্দ ও ভাড়াটিয়া নিয়োগের অনুমতির নথি নিষ্পত্তি করা হবে গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×