টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান ওয়াসার

টিআইবির প্রতিবেদন একপেশে, অপেশাদার, অত্যন্ত নিুমানসম্পন্ন ও স্টান্টবাজি : ওয়াসা এমডি * প্রতিবেদন সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ, সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রস্তুতকৃত : টিআইবির নির্বাহী পরিচালক

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াসা,

ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় দাবি করে সংস্থার অনিয়ম-দুর্নীতি এবং সক্ষমতার ঘাটতিসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত টিআইবির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা ওয়াসা। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেছেন, টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদন একপেশে, অপেশাদার, অত্যন্ত নিুমানের, ঢালাও স্টান্টবাজি।

কোনো বিবেচনায় টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনকে পেশাদারি বলতে পারছি না। এটি একটা রিপোর্টের মতো হয়েছে। এটি নিুমানের ও ঢালাও রিপোর্ট। আর এই রিপোর্টটি টিআইবি’র নিজেস্ব পার্সপেক্টিভ করা হয়েছে। তাদের গবেষণায় কোনো বৈজ্ঞানিক ডাটা নেই। টিআইবির উল্লিখিত ওয়াসার অনিয়মের অভিযোগটি ঢালাও বলে দাবি করেন তিনি।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার বোর্ড মেম্বর ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদসহ অনেকে।

এমডি বলেন, টিআইবি’র গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ এবং ঢাকা ওয়াসার সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা ও সন্তুষ্টির মাত্রা নিরূপণ করা। কিন্তু আমরা টিআইবির রিপোর্টে এসবের গুরুত্ব পাইনি। পানি ফুটিয়ে খেতে বছরে ৩৩২ কোটি টাকা খরচ হওয়ার বিষয়ে ঢাকা ওয়াসা বলছে, টিআইবির এ অভিযোগ সঠিক নয়। এটা মনগড়াভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটা থিওরিটিক্যাল, কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। কিসের ভিত্তিতে এ দাবি করা হচ্ছে- এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার কোনো গবেষণা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, না; তবে আমরা এ ব্যাপারে গবেষণা করব।

টিআইবির প্রতিবেদনে ‘ওয়াসায় সুশাসনের অভাব’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে সুশাসন বলতে টিআইবি কী বুঝিয়েছে? সুশাসনের সংজ্ঞা কী? তারা বলছে, আমাদের সক্ষমতার অভাব রয়েছে। আমি বলতে চাই, ঢাকা ওয়াসার যদি সক্ষমতার অভাব থাকত তবে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, চাইনিজ ও জার্মানির মতো উন্নত দেশের ব্যাংকগুলো কি আমাদের ওপর বিনিয়োগ করত?

ঢাকা ওয়াসার ম্যানেজারিয়াল সক্ষমতা, টেকনিক্যাল সক্ষমতা ও ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সক্ষমতা রয়েছে। ওয়াসাকে নিয়ে এডিবিও একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের সঙ্গে টিআইবির প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই। ওয়াসার দুর্নীতির বিষয়ে এমডি বলেন, ঢাকা ওয়াসা দুর্নীতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। ওয়াসার সব জিনিস অটোমেশন পদ্ধতিতে হয়। শুধু মিটার রিডিং করতে একজন মিটার রিডার বাসায় বাসায় যান। এটিকেও অটোমেশন করে ফেলব।

এরই মধ্যে আমরা পাইলট হিসেবে এ কাজ শুরু করেছি, সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। পানির সংযোগ এবং গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা হয়। এতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। ৬১ শতাংশ গ্রাহক অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় না টিআইবির- এমন পর্যালোচনার বিষয়ে প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা ওয়াসার একটি নিজস্ব কল সেন্টার রয়েছে, যা ১৬১৬২। এখানে এ যাবৎকালে মোট ১১ হাজার ৩৬৭টি অভিযোগ এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এ পর্যন্ত ১১ হাজার ২০৫টি সমস্যার নিষ্পত্তি করেছি, যা ৯৭ শতাংশ থেকে ৯৮ শতাংশ। টিআইবি কাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা আমাদের জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, টিআইবির গবেষণাপত্রের ফল প্রচারের ধরন, কৌশল ও অ্যাপ্রোচ দেখে এটা সহজেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে যে, গবেষণার পারসেপশনভিত্তিক মনগড়া তথ্য দিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে জনসম্মুখে হেয়প্রতিপন্ন করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ঢাকা ওয়াসা এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় দাবি করে প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ১১ থেকে ১৯ নভেম্বর ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ২৪৩টি পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ নমুনা পরীক্ষা করে পানির মান সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। তবে মাঝেমধ্যে কিছু পুরনো সরবরাহ লাইনে দূষিত পানি পাওয়া গেছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঠিক করা হয়েছে।

টিআইবির বক্তব্য : এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, টিআইবির প্রতিবেদন সঠিক, বস্তুনিষ্ঠ এবং সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে। আর এর সপক্ষে সব ধরনের তথ্যপ্রমাণ টিআইবির কাছে রয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ওয়াসার সুপেয় পানি

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×