ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ

এমডিকে শরবত পান করাতে পারল না জুরাইনবাসী

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) এক গ্লাস শরবত পান করাতে চেয়েছিলেন ঢাকার জুরাইনবাসী। ওয়াসার পানি দিয়ে তৈরি শরবত পান করাতে তারা মঙ্গলবার ওয়াসা ভবনের সামনে যান। কিন্তু ওয়াসা ভবনে ঢুকতে না পেরে তারা তাকে তা পান করাতে পারেননি। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ঢাকা ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় বলে ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণার পর নগরজুড়ে তুমুল প্রতিবাদ ওঠে। এ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ওয়াসা ভবনের সামনে জুরাইনবাসী ব্যতিক্রমধর্মী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এমডিকে পানি পান করাতে না পারলেও তারা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পেয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে কারওয়ানবাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সামনে হাজির হয়েছিলেন কয়েকজন জুরাইনবাসী। এমডি তাকসিম এ খানকে খাওয়াতে তারা ওই এলাকায় সরবরাহ করা ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত তৈরি করে নিয়ে আসেন। তাদের দাবি ছিল- ওয়াসার শীর্ষকর্তা এ শরবত তাদের সামনে পান করলে তারা এমডির কথা মেনে নেবেন। কিন্তু সেটা হল না। কেননা তখন ঢাকা ওয়াসার শীর্ষকর্তা অফিসের বাইরে ছিলেন।

ওয়াসার পরিচালক একেএম সহিদ উদ্দিন বলেন, জুরাইনের বিদ্যমান পানির সমস্যা আমরা দ্রুততম সময়ে সমাধান করব। আর শরবত খাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আজ শরবত খাব না, ওই এলাকার পানি বিশুদ্ধ করে সেই পানির তৈরি শরবত খেয়ে আসব।

ওয়াসা ভবনে প্রথমে জুরাইনের বাসিন্দাদের প্রবেশে বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাধা পেয়ে ভবনের প্রধান ফটকে জুরাইন এলাকাবাসীর পক্ষে মিজানুর রহমানসহ তিন-চারজন অবস্থান নেন। অপেক্ষা করতে থাকেন এমডির জন্য। তাদের অবস্থানে আশপাশের উৎসুক মানুষের জটলা তৈরি হয়। পরে তারা ঢাকা ওয়াসার এমডির প্রতিনিধির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ওয়াসার এমডির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম। তাকে না পেয়ে ওয়াসার অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা আমাদের অভিযোগ শুনেছেন। দ্রুত সমাধান করবেন বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছেন। এখন আমরা দেখব তারা কী করেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে জুরাইনসহ রাজধানীবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব।

সকালে ওয়াসা ভবনের সামনে ‘শরবত’ নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সময় মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের এলাকার ওয়াসার পানি ড্রেনের পানির মতো অপরিষ্কার। পান করা তো দূরের কথা, হাতে নেয়াই যায় না। এ অবস্থায় ওয়াসার এমডি কীভাবে বলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়, বিশুদ্ধ? আমরা তার পদত্যাগ চাই।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, ২০১২ সালে জুরাইনের সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দার গণস্বাক্ষর নিয়ে ওয়াসার এমডি বরাবর একটি অভিযোগ করেছিলাম। সেই অভিযোগে কোনো কাজ হয়নি। কয়েক বছর ধরে ওয়াসার পানি শুধু গোসল, কাপড় ও বাসন ধোয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। খাওয়ার জন্য মসজিদের টিউবওয়েলের পানি কিনে খাচ্ছি। প্রতি ১০ লিটার পানির জন্য দুই টাকা করে দিতে হয়। এদিকে ঢাকা ওয়াসার এমডির বক্তব্য সঠিক দাবি করে একেএম সহিদ উদ্দিন বলেন, এমডির বক্তব্য শতভাগ সঠিক। কারণ আমাদের যে গভীর নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করি, সেই পানি শতভাগ নিরাপদ। এছাড়া পানির উৎপন্নস্থল, রিজার্ভে দেয়ার আগে ও পরে তিন দফা পরীক্ষা করা হয়। পানিতে মানুষের জন্য ক্ষতিকর কিছু পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ক্লোরিন দিয়ে তা বিশুদ্ধ করা হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×