মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার

নেত্রকোনায় আঞ্জু ও সোহরাবের মৃত্যুদণ্ড

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার আটপাড়ার সোহরাব আলী ওরফে ছোরাপ ও হেদায়েত উল্লাহ ওরফে আঞ্জু বিএসসিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। হত্যা ও গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার দায়ে তাদের ফাঁসি দেয়া হয়।

বুধবার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন। এ সময় ছোরাপ আদালতে উপস্থিত থাকলেও আঞ্জু পলাতক। এ রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন আসামিরা। তবে এ সুযোগ নিতে হলে পলাতক আঞ্জুকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল বলেন, বিশ্বের মানুষ এখন গণহত্যার বিরুদ্ধে সক্রিয় ও সচেতন। ট্রাইব্যুনাল আবারও বলেছেন গণহত্যা আর নয়। আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আবদুস শকুর খান বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। তিনি বলেন, আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে পলাতক আঞ্জু আত্মসমর্পণ করে আপিল করলে খালাস পেতে পারেন।

২১৮ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত বলেছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হয়েছে। বাকি তিন অভিযোগের প্রতিটিতে আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আঞ্জুর ভাই এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জুকেও আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঞ্জু মারা গেলে তার নাম মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়। ২০১৭ সালে ছোরাপ ও আঞ্জুর বিচার শুরু হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ৫ মে মামলার অনুসন্ধান শুরু করে তদন্ত দল। ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর থেকে ছোরাপকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। একই বছরের ৩০ মার্চ মঞ্জুকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার ভাই আঞ্জুকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অভিযোগের বিষয়ে ৪০ জনের জবানবন্দি শোনেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

প্রায় দেড় বছর তদন্তের পর ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেয়া হয়। বিচার শুরু হওয়ার আগেই ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঞ্জু মারা যান। একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামি ছোরাপ ও আঞ্জুর বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৩ জন সাক্ষ্য দেন।

উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ৭ মার্চ ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। তিন আসামির গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া থানার কুলশ্রীতে। একাত্তরে তারা ওই এলাকায় থাকতেন।

পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী সংগঠন শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীতে তারা যোগ দেন। এ সময় আটপাড়ার মধুয়াখালী, মোবারকপুর ও সুখারী গ্রাম এবং মদন থানার মদন গ্রামে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে তারা জড়িয়ে পড়েন। একাত্তরের পর আঞ্জু রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার হেতেম খাঁ মেথর পাড়ায় থাকতে শুরু করেন। আর নেত্রকোনার মদন থানার জাহাঙ্গীরপুরে বসবাস করতেন ছোরাপ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×