বাজেট ২০১৯-২০: দুই লাখ ২৭২১ কোটি টাকার এডিপি

  হামিদ-উজ-জামান ০৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ মন্ত্রণালয়

আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) জন্য উন্নয়ন বাজেটের প্রধান অংশ তথা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) খসড়া তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশন। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ছাড়া এবার এডিপির আকার হবে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা।

এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এডিপিতে পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগসহ সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে পরিবহন খাতে।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপি ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সে তুলনায় নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে পরে বরাদ্দ কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপির বরাদ্দ ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারি তহবিলের বরাদ্দ নির্ধারণ করে পাঠায় পরিকল্পনা কমিশনে। তার আগে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দের অংশ পাঠানো হয়েছিল। এ দুই অংশের বরাদ্দ মিলে এডিপির খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

বুধবার পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় এডিপির খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। পরবর্তী সময়ে সেটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এনইসি সভায় নতুন এডিপি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নূরুল আমিন রোববার যুগান্তরকে বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় নতুন এডিপির আকার খুব বেশি বড় নয়। এটির সর্বোচ্চ বাস্তবায়নে আমরা সচেষ্ট থাকব। এরই মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাড়াতে বিভাগীয় পর্যায়ে বৈঠক করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তদারকি বাড়াতে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) শক্তিশালী করা হচ্ছে। আমি নিজেও মাঠপর্যায়ে প্রকল্প পরিদর্শনে যাচ্ছি। সেখানে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি পেলে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রতিবেদন আকারে জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যেমন- প্রকল্প পরিচালকরা যাতে প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করেন, সেজন্য ডিও লেটার দেয়া হচ্ছে। এরকম নানামুখী তৎপরতা আগামী অর্থবছরও অব্যাহত থাকবে। সুতরাং এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়বে।

সূত্র জানায়, এডিপিতে আগামী অর্থবছরে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন খাত। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

এছাড়া অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ।

অন্যান্য খাতের মধ্যে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণসহ বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

এছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা (৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ), স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা (৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ), কৃষি খাতে ৭ হাজার ৬১৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা (৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ), পানিসম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা (২ দশমিক ৭৯ শতাংশ) এবং জনপ্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা (২ দশমিক ৪৮ শতাংশ) বরাদ্দ প্রস্তাব করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে এডিপিতে যেসব বিষয় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সেগুলো হল- বর্তমান সরকার কর্তৃক শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং মধ্যমেয়াদি কৌশল ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি।

সেজন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে- সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও এসডিজি লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে অগ্রাধিকার খাতগুলোয় পর্যাপ্ত সম্পদ বরাদ্দের মাধ্যমে উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন, পরিবহন, ভৌত ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, নগর উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া।

এদিকে আইএমইডি সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ সময় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ৮৩ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং ওই সময়ে খরচ হয়েছিল ৭১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×