রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা

সাইক্লোন শেল্টারের নিচে পাহারায় ছিল মহিউদ্দিন শাকিল

  যুগান্তর রিপোর্ট, ফেনী ও সোনাগাজী প্রতিনিধি ০৮ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাইক্লোন শেল্টারের নিচে পাহারায় ছিল মহিউদ্দিন শাকিল

নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে আরেক আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী মহিউদ্দিন শাকিল। মঙ্গলবার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মহিউদ্দিন শাকিল তার জবানবন্দিতে বলেছে, ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের (প্রশাসনিক ভবন) তৃতীয় তলার ছাদে রাফিকে যখন আগুনে পোড়ানো হয় তখন সে নিচে (সাইক্লোন শেল্টারের) পাহারায় ছিল। সঙ্গে মাদ্রাসার অপর ছাত্র আলিম পরীক্ষার্থী মো. শামীমও ছিল।

রাফিকে যখন উম্মে সুলতানা পপি ডেকে নিয়ে যায়, এর আগে থেকেই তারা দু’জন সাইক্লোন শেল্টারের নিচে অবস্থান নেয়। রাফির গায়ে আগুন দেয়ার পর বোরকা পরা তিনজন নিচে নেমে যেতে দেখে তারা দু’জন (মহিউদ্দিন শাকিল ও মো. শামীম) পরীক্ষা হলে চলে যায়। এ ছাড়া সে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ, তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা, সিরাজ মুক্তি পরিষদ গঠন, রাফিকে হত্যার সব পরিকল্পনার সঙ্গে থাকার কথা স্বীকার করেছে।

জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন। ২৫ এপ্রিল ফেনীর উকিলপাড়া থেকে শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়।

৩ জনের ফের রিমান্ডের আবেদন : তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম জানিয়েছেন, এ মামলার তিন আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন ও মো. জোবায়েরকে মামলার আলামত উদ্ধার ও শনাক্তকরণের জন্য আরও দু’দিন করে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। আজ আদালতে তাদের রিমান্ডের শুনানি হবে। রাফি হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে ১৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। মহিউদ্দিন শাকিলসহ ১২ আসামি রাফি হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। বোরকা পরিহিত কয়েকজন তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়।

অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ রাফি। এর আগে ২৭ মার্চ রাফিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×