৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বৃত্ত ভাঙল তিন বছরে

চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ

  হামিদ-উজ-জামান ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বৃত্ত ভাঙল তিন বছরে

চলতি অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে ৮-এর ঘরে পৌঁছাচ্ছে বাংলাদেশ। তিন বছরের মধ্যেই জিডিপি’র (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির এ বৃত্ত ৭ শতাংশ ভাঙতে সক্ষম হচ্ছে।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের হিসাবে চলতি অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত অর্থবছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এর আগে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৭ শতাংশে পৌঁছাতে ৬ বছর লেগেছে।

বর্তমান সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছরের শেষদিকে এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের আগে ৬ শতাংশের প্রবৃদ্ধির বৃত্ত ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আলোকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করে। ওই বছরেই প্রথম প্রবৃদ্ধির বৃত্ত ৬ শতাংশ ভেঙে ৭ দশমিক ১১ শতাংশে উন্নীত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই প্রবৃদ্ধির হার বেড়েই চলেছে।

টানা তিন বছর ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

নয় মাসের হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জিত হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য পর্যালোচনা করে পূর্ভাবাস দিয়েছে অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়াবে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। যদিও বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বলেছে প্রবৃদ্ধির হার এত বেশি হবে না।

এই হার ৭ শতাংশের ঘরেই থাকবে। একই সুরে কথা বলেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তাদেরও মত, প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের ঘরেই থাকবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম মনে করেন, প্রবৃদ্ধির এ তথ্য বিনিয়োগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রবৃদ্ধির মাত্রা নিয়ে কিছু বলব না। তবে এটুকু বলব, গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছর রফতানি ভালো হয়েছে। পোশাক খাতে রফতানি বেড়েছে।

রেমিটেন্স অনেক বেশি এসেছে বা আসবে। ফলে আবাসন খাতে ব্যয় বেশি হয়েছে। মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হচ্ছে। এসব কিছু মিলেই প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে। কিন্তু জিডিপির তুলনায় ব্যক্তি বিনিয়োগের অনুপাত কম। বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশের মতো। এক্ষেত্রে অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তাই বিনিয়োগ হার বাড়াতে হবে। এজন্য ডুইং বিজনেসের উন্নতি করতে হবে।

তাছাড়া কর্মসংস্থানও বাড়েনি। প্রবৃদ্ধির সুফল পৌঁছাতে হলে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। এদিকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের ওপরেই থাকবে।

চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১৩ শতাংশের বেশি হতে পারে। কেননা অর্থবছরের শেষের দিকে কাজের গতি বেশি থাকে। প্রথমদিকে কম থাকে। প্রবৃদ্ধির হিসাব করা হয়েছে নয় মাসের গড় করে। কিন্তু বছর শেষে কাজের গতি বেড়ে যাওয়ায় এর হারও কিছুটা বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, এ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ কম হয়েছে। তবে সরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতি খুব ভালো ছিল। তাই প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। যেমন রফতানি, বিনিয়োগ, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবস্থা ভালো ছিল।

সূত্র জানায়, মধ্যমেয়াদি কাঠামোর আওতায় আগামী অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ এবং পরের অর্থবছরের জন্য ৮ দশমিক ২ শতাংশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরে ৮ শতাংশের বেশি অর্জিত হওয়ায় আগামী অর্থবছরের জন্য এ হার ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় আগামী ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে এ হার আরও বাড়ানো হবে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের আগে টানা ৬ বছর প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ঘরেই সীমাবদ্ধ ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক বছর ও বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদের ৫ বছর প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ঘর অতিক্রম করতে পারেনি। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেও প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ঘরেই ছিল। যদিও ওই সময়ে বেশ কয়েকবার ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×