নার্স তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা

৮ দিনেও গ্রেফতার হয়নি এজাহারভুক্ত আসামিরা

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হেলপারের

  যুগান্তর রিপোর্ট, কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও কটিয়াদী প্রতিনিধি ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হেলপারের

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চলন্ত বাসে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে (২৩) গণধর্ষণের পর হত্যার ৮ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি মামলার এজাহারভুক্ত অন্য দুই আসামি।

এ কারণে তানিয়ার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা খুনিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না।

এদিকে ধর্ষণের পর হত্যায় জড়িত আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেছেন পরিবাহন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার ঢাকায় এক মানববন্ধনে এ দাবি করেন তারা। এছাড়া মানববন্ধন হয়েছে কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদীতে।

ঢাকা : তানিয়া হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার মহাখালী বাস টার্মিনালে মানববন্ধন হয়। এতে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলেন, খুনি-ধর্ষকদের কোনো পেশাগত পরিচয় নেই। তাদের একমাত্র পরিচয় তারা খুনি-ধর্ষক। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে যারা ধর্ষণের পর হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি দিতে হবে।

যারা তানিয়াকে হত্যা করেছে তারা পরিবহন শ্রমিক হতে পারে না। মহাখালী বাস টার্মিনাল শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে মানববন্ধনের বাস টার্মিনাল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ সদু বলেন, এ ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি সারা দেশের মানুষের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো পরিবহন সেক্টর বহন করবে না। অপরাধ যেই করুক তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

মহাখালী বাস টার্মিনালের ময়মনসিংহ রোড শ্রমিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘খুনি-ধর্ষকরা পরিবহন শ্রমিক হতে পারে না। আমরা তাদের খুনি-ধর্ষক মনে করি। খুনি ধর্ষকদের কোনো ক্ষমা হতে পারে না। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।’ মানববন্ধনে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, মহাখালী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) : তানিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঝিড়ারপার দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তায় এদিন মানববন্ধন হয়। এতে বক্তব্য দেন কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন লোহাজুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বিএসসি, সাইফুল মতিন জুয়েল, মাওলানা ফরিদ উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ ধর্ষক বোরহান উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ঘটনার পর ৮ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ তাদেরকে কেন গ্রেফতার করছে না বুঝতে পারছি না। আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করার বিচার কি আমি পাব না?

লোহাজুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি যুগান্তরকে জানান, নির্মম এ হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে শাস্তি প্রদান করতে হবে। পুলিশের ভূমিকা আরও গতিশীল করতে হবে।

এ ঘটনায় বাসের হেলপার লালন মিয়া মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

চালক নুরুজ্জামানের জবানবন্দির সঙ্গে তার জবানবন্দির মিল রয়েছে। জবানবন্দি রেকর্ডের পর বিচারক লালন মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকার কল্যাণপুরে অবস্থিত ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়া গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাহেরচর গ্রামে যাওয়ার জন্য সোমবার বিমানবন্দর বাস স্টেশন হতে বিকালে ‘স্বর্ণলতা’ পরিবহনে ওঠেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কটিয়াদী ও উজানচর নামক স্থানে সব যাত্রী নেমে যায়।

বাসে তানিয়াকে একা পেয়ে বাসের চালক ও সহকারীরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে বাসে থাকা শক্ত বস্তু দিয়ে আঘাত করে বাস হতে মাটিতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। এরপর লাশ কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে যায়।

ওই রাতেই কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ বাসের চালক নুরুজ্জামান নুরু ও সহকারী লালন মিয়াকে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া হতে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় তানিয়ার বাবা মো. গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৩-৪ জনের নামে একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হল- বাসের চালক নুরুজ্জামান নুরু, বাসের সহকারী লালন মিয়া, আল আমিন ও পিরিজপুর বাজারের ইজারাদার আবদুল্লাহ আল মামুন। মামলার প্রধান আসামি নুরুজ্জামান নুরু শনিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুনের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

নুরুজ্জামান নুরু তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার সঙ্গে তার খালাতো ভাই বোরহান উদ্দিন ও বাসের সহকারী আল আমিন তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×