রমজানুল মোবারক

তোমার নামের তসবি খোদা মনে মনে জপি

  মঈন চিশতী ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেখতে দেখতে কেটে গেল রহমতের দশক। এ রহমতের দশকে আমাদের হৃদয়ে কতটুকু রহমত ঠাঁই পেয়েছে তা নিয়ে আসুন একান্তে ভাবি। আউয়ালুহু রাহমাতুন আউসাতুহু মাগফেরাতুন। প্রথম দশক রহমতের আর মাঝের দশক মাগফিরাতের- এর হাকিকত কী? এর হাকিকত হল যে কারও প্রতি রহমদিল বা দয়ার্ত হলে সে দয়া বা ক্ষমা পাবে। নবীজি (সা.) ফরমান ‘মান লাম ইয়ারহাম লা ইয়ার হাম, যে দয়া করে না সে দয়া পায় না।’ রোজা থেকে আমরা নফসকে নিয়ন্ত্রণ করি।

রোজার আত্মিক শর্ত : পাঁচটি বিষয় না থাকলে রোজার রুহানিয়ত নষ্ট হয়ে যায়, ফলে আত্মিক রোজা হয় না। ১. মিথ্যা বলা, ২. কুটনামি করা, ৩. গিবত বা কারও অগোচরে নিন্দা করা, ৪. মিথ্যা কসম খাওয়া, ৫. কুনজর বা কামুক দৃষ্টিতে তাকানো। আমরা সারা মাস রোজা থাকলেও এ স্বভাবগুলো থেকে নফসকে দমন করতে পারি না। নফসকে নিয়ন্ত্রণ করলেই রিপু দমন সম্ভব হয়। রিপু দমনে প্রথম কাজ হল অনর্থক কথাবার্তা, পরনিন্দা থেকে বেঁচে থাকা। আমাদের দেহে একুশ হাজার ছয়শ’ বার শ্বাস-প্রশ্বাস আসা-যাওয়া করে। এর আসা-যাওয়ার প্রতি খেয়াল রাখলে আমরা পরনিন্দা, পরচর্চা থেকে রক্ষা পেতে পারি।

লালনের ভাষায় ‘ধরো চোর হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতে’ অর্থাৎ সেই হাওয়ার ঘরে আল্লাহ নামের ফাঁদ বসিয়ে দিতে হবে। আল্লাহ নামের তসবি বা জিকিরে লিপ্ত থাকলে বাজে কথা থেকে বাঁচা যাবে। কবি নজরুলের ভাষায় ‘তোমার নামের তসবি খোদা লুকিয়ে যেন রাখি। সঙ্গোপনে মনে মনে তোমায় যেন ডাকি। খোদা তোমায় যেন ডাকি খোদা...।’ গিবত শুধু বলা নয়, শোনা থেকেও বিরত থাকতে হবে। হাদিসে আছে, ‘আল মুগতাব্বু ওয়াল মুস্তামিউ শরিকানে ফিল ইসমি, গিবতকারী এবং শ্রবণকারী দু’জনই পাপে লিপ্ত।’ যেখানে গিবত হয় সাধ্য থাকলে থামিয়ে দেয়া। নয়তো স্থান ত্যাগ করা। হাত-পা অন্যান্য অঙ্গকে খারাপ থেকে পেটকে সন্দেহযুক্ত খাবার থেকে দূরে রাখা।

রোজা অবস্থায় সদা সংযত থাকা। রোজা কবুলিয়তের আশায় থাকা অর্থাৎ এমন কাজ না করা যেন মন সাক্ষী দেয় কাজটির কারণে হয়তো আমার রোজাটি কবুল হবে না। ইসলাম মানবতার ধর্ম, কল্যাণের ধর্ম, এর প্রতিটি এবাদত-বন্দেগি, উৎসব-পার্বণে যেমন আত্মিক দিক আছে, তেমনি বাহ্যিক দিক আছে।

সোনারগাঁ পরগণার হাদি ও মুবাল্লিগ মাওলানা লালপুরী শাহ তার ভক্তদের কাছে ছয়টি জিনিসের বায়াত বা অঙ্গীকার নিতেন। মিথ্যা না বলা, ওয়াদা খেলাফ না করা, আমানতের খেয়ানত না করা, চক্ষু দিয়ে বদনজর না করা, শরমের অঙ্গ দিয়ে পাপ না করা, হাত এবং পা দিয়ে কারও ক্ষতি না করা। তিনি বলতেন, তোমরা যদি এ ছয়টি আমল রক্ষা করে চলতে পার, আমার নবীজি বলেছেন, তাকে তিনি হাতে ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবেন।

রমজান এসেছে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ করে জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম করতে। শুধু তাই নয়, দুনিয়ায় সুখে থাকার পথ বাতলে দিতে রোজা আমাদের পথ প্রদর্শক। হাদিসে আছে, আসসাওমু জুন্নাতুন, রোজা ঢাল স্বরূপ। স্বাস্থ্য রক্ষায় রোজা কিভাবে কাজ করে সে বিষয় গবেষণা করে আধুনিক গবেষকরা এর নাম দিয়েছে ‘অটোফেজি’।

ইসলামের প্রথম ঘোষণাই ছিল ‘ইয়া আইয়্যুহান নাস ক্বুলু লা ইলাহা ইল্লাহ তুফলিহুন, হে মানুষ আল্লাহর একাত্মবাদের ঘোষণা দাও, তবেই তোমরা কল্যাণ লাভ করবে।’ রমজানের উসিলায় আমাদের জীবনে কল্যাণ নেমে আসুক।

লেখক : ধর্মচিন্তক ও সুফি গবেষক, [email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×