ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা

দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি দেয়ার শর্তে নতুন বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নয়

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এখন থেকে ২২ বছর ধরে (মেয়াদি) গ্যাস বা এলএনজি দেয়ার শর্তে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হবে না। এক্ষেত্রে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হবে। দেশের অভ্যন্তরে আগামী ৫, ১০ ও ২০ বছরের গ্যাস ও এলএনজির অবস্থা কী দাঁড়াবে এবং অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব থাকবে সেটি সমীক্ষা করার জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় একটি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা জানান।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয় এবং সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। সভায় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ঘাটে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। এটি কনসোর্টিয়াম অব এনলিমা টেক্সটাইল এবং কেপিটাল গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তাদের শর্ত ছিল- ২২ বছর মেয়াদি গ্যাস বা এলএনজি দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, তারা যে শর্ত দিয়েছে সে শর্তে প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া সম্ভব নয়। কারণ আগামীতে জ্বালানির দাম কী হবে তা কারও জানা নেই। যে কারণে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর জ্বালানির দাম নির্ধারণ করতে হবে। এমন শর্ত দেয়া হয়েছে। তাদের প্রকল্প নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ইতিবাচক অনুমোদন দেয়া হলেও শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এ শর্তের মধ্যে থাকবে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে প্রকল্পে সমন্বয় করতে হবে। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, আসন্ন ঈদের আগেই কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী নদীর তিনটি সেতু খুলে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুগুলো উদ্বোধন করবেন। আশা করছি এসব পয়েন্টে যে যানজট সৃষ্টি হতো তা দূর হবে। তিনি বলেন, এ তিনটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ৭৮ কোটি দুই লাখ টাকা বেড়েছে। সেগুলোতে জাপান ও জার্মানির কর্মীরা কাজ করতেন। যারা অনেকেই গুলশান হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন। এ কারণে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে। আবার ব্যয়ও বেড়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির উৎপাদন পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য সিস্টেম প্ল্যান অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ৬৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ প্রকল্পের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগে যে পদ্ধতিতে সিমেন্ট উৎপাদন করা হতো এ প্রকল্পের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করা হবে।

এ প্রকল্পে সৌদি ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। সৌদি বিনিয়োগের দিকে লক্ষ্য রেখেই তা পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে।

ভোলায় ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ২০৭ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতায়ধীন একটি প্রকল্প। এছাড়া বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৫ লাখ গ্রাহক সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ১৬০০ কিলোমিটার কনডাক্টর, এসিএসআর ও বার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ৬৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০ কোচ কেনার একটি প্রস্তাব সভায় অবহিত করা হয়। এটি আগের একটি প্রকল্প। এর দরপত্র হয়েছে। কিন্তু এখন দরদাতার নাম পরিবর্তন করে তা উপস্থাপন করা হয়। আগেই এর ব্যয় ৮৩২ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। আসন্ন বাজেটে বিড়ি-সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হবে এমনটি শোনা যাচ্ছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট নিয়ে আজকে আলোচনা নেই। বাজেটে কোন জিনিসের দাম বাড়বে, কোনটার দাম কমবে- এটা তো এ মুহূর্তে বলা ঠিক হবে না। তিনি আরও বলেন, যেসব আইটেম অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে সেগুলো সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে আমরা বলতে পারি না। এটা আইনে কাভার করে না।

অনেক দিনের বেতন বকেয়ার জন্য পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন, এ বিষয়ে সরকার কী করছে- জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন দেশেই রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ করতে বলেছি। প্রধানমন্ত্রী এটার কোনো না কোনো সমাধান বের করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের যেতে হবে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পাটকলে আর কত দিন অর্থায়ন করব। ১০ বছরে তো আমরা সাত হাজার কোটি টাকা দিয়েছি। এটা অনেক বড় টাকা। কারখানা চলে না, বন্ধ থাকে, বেতন দিতে পারছে না- এটা কিভাবে সমাধান হবে। প্রধানমন্ত্রীই এটার সমাধান করতে পারবেন। তিনি বলেন, আমি ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নই, তাই এ বিষয়ে আমার কথা বলা ঠিক হবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×