কালবৈশাখী ও বজ্রপাতে তিন জেলায় নিহত ৪

নেত্রকোনায় বজ্রপাতে দুই শিশু আহত * বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

  যুগান্তর ডেস্ক ১৯ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কালবৈশাখী

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় কালবৈশাখীর সময় বজ্রপাতে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। টঙ্গাইলের মধুপুরে ঘরের দেয়াল ধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গোপালপুরে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে তিনটি গ্রাম। বগুড়ার শেরপুরে মৃত্যু হয়েছে এক নারীর। নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বজ পাতে দুই শিশু আহত হয়েছে। নাটোর ও ময়মনসিংহে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যুগান্তর রিপোর্ট ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কাপাসিয়া (গাজীপুর) : কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নের পুলের ঘাটে শুক্রবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখীর সময় বজ্রপাতে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন উপজেলার কড়িহাতা ইউনিয়নের চেওরাইট গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে আরিফ হোসেন ও পাকুন্দিয়ার আমিনুল ইসলাম।

টাঙ্গাইল ও মধুপুর : শুক্রবার সন্ধ্যায় মধুপুর পৌর এলাকার মালাউরি গ্রামের রূপচান মিয়ার ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে। এতে রূপচান মিয়ার স্ত্রী দিলরুবা, দুই ছেলে রাকিব ও সাকিব আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত রাকিব ও সাকিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেয়ার পর রাত সাড়ে ১০টায় রাকিবের মৃত্যু হয়। দিলরুবাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। একই সময় ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের তিন গ্রাম। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদিকে ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মধুপুরে ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উড়ে গেছে আশ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপরের টিনের চালা, সিলিং, সিলিং ফ্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র।

শেরপুর (বগুড়া) : শেরপুরের তিরাইল বিশ্বা হিন্দুপাড়ার গ্রামে কালবৈশাখীতে জোসনা রানী নামের বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃপেণ মণ্ডলের স্ত্রী। শুক্রবার বিকালে বাড়ির উঠানে আম কুড়াতে গেলে ঝড়ো বাতাসে উড়ে গিয়ে তিনি ডোবায় পড়লে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) : কলমাকান্দায় বজ পাতে ঘুমন্ত দুই শিশু আহত হয়েছে। এ সময় ওই কৃষক পরিবারের ঘরে থাকা দুটি গরু ও দুটি ছাগল দগ্ধ হয়ে মারা যায়। শনিবার সকালে উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের উত্তর বটতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিশুদের নাম তামিম ও রোজামনি।

নাটোর ও বড়াইগ্রাম : জেলার বিভিন্ন এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি, পানের বরজ, আম, লিচু ও কলা বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উঠতি পাকা ধান গাছ জমিতে নুয়ে পড়েছে। লিচুর এলাকাখ্যাত গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ও নাজিরপুর ইউনিয়নে লিচুর ক্ষতির পরিমাণ হয়েছে বেশি। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে তার ছিঁড়ে গেছে। এ সময় গাছপালা উপড়ে ঘরবাড়ির ওপর ভেঙে পড়ে। এছাড়াও কিছু কিছু এলাকায় রাস্তার ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় ব্যাহত হয় যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা-ভ্যান রাস্তায় দেখা যায়নি। চাপিলা ও নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন ভুট্টো ও শওকত রানা লাবু জানান, ঝড়ে সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।

ঝড়ে বড়াইগ্রাম পৌরসভার বড়াইগ্রাম উত্তরপাড়া, মৌখাড়াসহ কয়েকটি এলাকার কমপক্ষে ত্রিশটি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। এছাড়া উপজেলার বড়াইগ্রাম ও মাঝগাঁও কয়েকটি গ্রামের কমপক্ষে আরও বিশটি কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি এবং ভবানীপুর হিফজুল কোরআন শিশু সদন ও হাফেজিয়া মাদ্রাসাসহ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির পাকা ইরি ধান, উঠতি কলা ও ভুট্টা নষ্ট হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার সবচেয়ে বড় ব্যবসা কেন্দ্র মৌখাড়া হাটে বহু পুরনো একটি কড়ই গাছ মূলসহ উপড়ে পড়লে ১২টি দোকান বিধ্বস্ত হয়। এ সময় এসব দোকানে থাকা চারজন ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর লক্ষ্মীকোল অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ হাসান মাহমুদ জানান, কালবৈশাখীতে মৌখাড়া, লক্ষ্মীকোল ও জোনাইলে ১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। এছাড়া ১৫-২০টি স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে অতিরিক্ত জনবলসহ সারা দিন কাজ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী, মল্লিকবাড়ি, ধীতপুর ও কাচিনা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের উপর দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর, গাছপালাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে গেছে ৭-৮টি বিদ্যুতের খুঁটি। শনিবার সকালে ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মিলন মিয়াকে ঘর মেরামতের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল হতে আর্থিক সাহায্য করেন। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন ঘরের চাল না থাকায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×