রমজানুল মোবারক

ওয়াদা ভঙ্গকারী যেন না হই

  মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী ১৯ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রমজান

একে একে বারোটি রোজা পেরিয়ে এখন আমরা তেরো রোজায় এসে দাঁড়িয়েছি। রহমতের বৃষ্টি শেষে এখন মাগফিরাত ঝরছে বিশ্বাসীদের ওপর। আমরা যারা বিশ্বাসী, আমাদের ওপরই রোজা ফরজ করেছেন আল্লাহতায়ালা। রোজা ছাড়া আরও অনেক হুকুম-আহকাম, দায়-দায়িত্ব রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য। এই যে দিনভর না খেয়ে থাকা, প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণায় কষ্ট পাওয়া, ইফতারের অল্প পরেই তারাবি, তারাবির অল্প পরে সেহরি। এককথায়- ইবাদতের সমুদ্রে ডুবে থাকছি আমরা। এর উদ্দেশ্য কী? কেন এত কষ্ট সয়ে ইবাদতের গাঙ সাঁতরাচ্ছে বিশ্বাসী বান্দারা? এই কেনর উত্তর জানতে হলে যেতে হবে অনেক পেছনে। যেতে হবে রুহের জগতে।

সুরা আরাফের ১৭২ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে নবী! আপনার উম্মতকে মনে করিয়ে দিন, আপনার প্রভু যখন আদমের পিঠে হাত রাখল, তখন আদমের সব সন্তানের রুহ একে একে বেরিয়ে এলো। তখন আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি তোমার প্রভু নই? তারা সবাই বলল, অবশ্যই! আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি- আপনিই আমাদের একমাত্র প্রভু। এ শপথ এজন্যই নেয়া হয়েছে, যেন মহাবিচারের দিন তোমরা বলতে না পার; এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না।

আল্লাহ চান তার কোনো বান্দাই যেন, মহাবিচারের দিন শাস্তি না পায়। এত আদরের বান্দা জাহান্নামে ছিটকে পুড়ুক, এটা আল্লাহতায়ালা কীভাবে চাইতে পারেন। তাই রুহের জগতেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে, তিনিই আমাদের একমাত্র প্রভু। বান্দাও আল্লাহকে প্রভু বলে স্বীকার করে নিয়েছে। এখন আর চাইলেও আমরা এ অজুহাত তুলতে পারব না- হে আল্লাহ! আপনাকে তো আমরা চিনি না। আপনার বিধান কোরআন সম্পর্কেও আমরা জানি না। এ কথা বলার সুযোগ আল্লাহতায়ালা রাখেননি। এমনকি পরিবেশ-পরিস্থিতির অজুহাত দেয়ার সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছেন আল্লাহতায়ালা।

আল্লাহ বলেন, তোমরা যেন এ কথাও বলতে না পার, আমাদের বাপ-দাদা তথা বংশপরম্পরায় শিরকের চর্চা হতো। তাই আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান আমরা পাইনি। তাহলে বাপ-দাদাদের ভুলের জন্য আমাদের কেন শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু তোমরা তো রুহের জগতে আল্লাহকে একমাত্র প্রভু বলে স্বীকার করে নিয়েছ। আমি রুহের জগতে শপথ নিয়েছি। এখন আবার দুনিয়ায় সে শপথের কথা তোমাদের মনে করিয়ে দিয়েছি। এভাবেই আমি সহজ করে মানুষকে বাঁচার পথ বলে দিই। যেন বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, ভালো-মন্দ সবাই পরম সত্য বুঝতে পারে। (সুরা আরাফ, আয়াত : ১৭২-১৭৩)।

হে আমার রোজাদার পাঠক! পৃথিবীতে আসার আগেই আল্লাহকে প্রভু বলে স্বীকার করার ওয়াদা করে এসেছি আমরা। আর পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে ‘ওয়াদা রক্ষা করা’ মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে। হাদিস শরিফে ‘ওয়াদা খেলাফ’কে বলা হয়েছে মুনাফিকের বড় আলামত। আল্লাহকে আল্লাহ বলে মেনে নেয়ার এই ওয়াদা যেন একজন মানুষ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারে- তার জন্য একটি বিশেষ কোর্সের প্রচলন করেছে সিয়াম। এর মেয়াদ এক মাস। সালাত-জাকাত-হজও ওই একই ওয়াদা বাস্তবায়নের ভিন্ন ভিন্ন কোর্স।

বান্দা যেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহকে আল্লাহ বলে স্বীকার করে নিতে পারেন, এজন্যই বিশ্বাসীরা সিয়াম সাধনার এই বিশেষ কোর্স করে থাকেন। মনে রাখতে হবে, সালাত-সিয়াম-জাকাত- এসব আল্লাহর উদ্দেশ্য নয়। এতে আল্লাহর লাভ-লোকসান কিছুই হয় না। মূলত রুহের জগতের ওয়াদা পালন করে বান্দা যেন শেষ বিচারের দিন কঠিন আজাব থেকে বাঁচতে পারে, আল্লাহর সামনে যেন ওয়াদাভঙ্গকারী হয়ে দাঁড়াতে না হয়, এ জন্যই সিয়াম সাধনার এ বিশেষ কোর্স রাখা হয়েছে। যারা এ সাধনায় সফল হবে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন, লাআল্লাকুম তাত্তাকুন। আশা করা যায়, তোমরা বেঁচে যাবে, মুক্তি পাবে, মুত্তাকি হবে। (সুরা বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩)। আল্লাহতায়ালা আমাদের এ বিশেষ কোর্স সিয়াম সাধনায় সফল হওয়ার তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক : মোফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×