বাজেট প্রণয়ন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

সহনীয় রাজস্বনীতি অনুসরণের নির্দেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সহনীয় রাজস্বনীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বাজেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী এ বৈঠক আহ্বান করেছিলেন। এ সময় তিনি বাজেটকে জনবান্ধব করার কৌশল নেয়ার পাশাপাশি সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার দিকে নজর দেয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে আসন্ন বাজেট কাঠামোর বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে আজ প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বৈঠক হবে। এ ধরনের বৈঠক বুধ ও বৃহস্পতিবারও হতে পারে। বৈঠকে বাজেটের কাঠামোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হবে। তার সামনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাজেটের মূল কাঠামোর বিষয় তুলে ধরা হবে। এগুলো দেখে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধনমূলক পরামর্শ দেবেন বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন। এর ভিত্তিতে ওইসব বিষয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত বা বিয়োজন করা হবে। সূত্র জানায়, বুধবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, এনবিআরের চেয়ারম্যাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাজেটের রাজস্ব অংশের কর কাঠামো, নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ, উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণের জোগান দেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজেট হচ্ছে গতানুগতিক। বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জ থাকছে না। প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ থেকেই এটা বোঝা গেছে। বাজেট যা-ই হোক। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বরং বাস্তবায়নের হার কমে যাচ্ছে। এখন কল্পনাবিলাসী বাদ দিয়ে বাস্তবায়নমুখী বাজেট দেয়া জরুরি।

সূত্র জানায়, বরাবরের মতো এবারও বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বৈদেশিক শিক্ষা মিলিয়ে এটি করা হবে। এরপরই গুরুত্ব থাকছে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে।

সূত্র জানায়, বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, এবারের বাজেটে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে দেয়া আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা, উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক উন্নয়নের জন্য দরিদ্র ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতার আওতা আরও বাড়াতে হবে। ব্যাংকের মাধ্যমে তারা যাতে খুব সহজেই এই সুবিধা পেতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী বাজেটে ব্যক্তিপর্যায়ে বা ভোগ্যপণ্য পর্যায়ে যাতে কোনোভাবেই করের বোঝা না বাড়ে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের কারণে বিভিন্ন পণ্যে ও সেবায় ভ্যাটের নতুন হার কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো কিছুর দামে যাতে অতিমাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলেছেন। দেশে যাতে বিনিয়োগ বাড়ে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, দারিদ্র্য কমে, নতুন করে দরিদ্রতা সৃষ্টির পথ বন্ধ হয়- সে পদক্ষেপ বাজেটে থাকতে হবে। তিনি চরাঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চর জীবিকায়ন প্রকল্প, দরিদ্রদের জন্য আয়বর্ধক প্রকল্পগুলোয় অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ বখত বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বাজেটে প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাহলে বিনিয়োগ বাড়বে। এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে উদ্যোক্তাদের ঋণের জোগান বাড়াতে হবে। তাহলে শিল্পায়ন হবে। বাড়বে কর্মসংস্থান। এর সূত্র ধরে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, দারিদ্র্য কমবে, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। বিভিন্ন সূচকে দেশের অগ্রগতি হবে। এ কারণে এবারের বাজেটে সবার আগে নজর দিতে হবে বিনিয়োগ বাড়ানো ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধির হারের ধারা বজায় রাখতে চাই। এ কারণে আগামী অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এটি অর্জন করতে যেখানে যা করার, সেটি করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রণোদনা দিতে হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তারা যাতে পর্যাপ্ত জোগান পায়, সে ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে কর্মক্ষম জনশক্তির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ লোক কর্মের বাজারে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত। বাকি ১৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ যুবকের কারিগরিক দক্ষতা অর্জন বা প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। ফলে তারা কর্মের বাজারে ভালো কাজ পাচ্ছে না। এ কারণে বৈঠকে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়াতে বলা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পর্যায়ে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের আওতায় পরিচালিত কারিগরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

উন্নয়ন খাতে অর্থের জোগান বাড়াতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো হবে। এ হার চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১২ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ হার আরও বেশি হতে পারে। তবে করের পরিমাণ বাড়ানো হবে না। করভিত্তি সম্প্রসারণ করা হবে। বাড়ানো হবে করের আওতা। আয়কর খাত থেকে কর আদায় বাড়াতে এবার উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আয়কর অফিসে নিয়ে যাওয়া হবে। বাড়তি কর চাপিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়াতে চায় না সরকার।

আগামী বাজেটেও রোহিঙ্গাদের সহায়তা করতে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ খাতে বৈদেশিক সহায়তা পেতে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মূল্যস্ফীতির হার যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেদিকেও নজর রাখতে বলেছেন তিনি। কেননা মূল্যস্ফীতির হার বাড়লে দরিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×