ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধার ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধার ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারের ওপর স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।

আদেশের ফলে ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ হাইকোর্টে আটকে গেল। ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে বিশেষ সুবিধা সংক্রান্ত সার্কুলারটি জারি করা হয়। এ ধরনের সার্কুলার জারিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেন, এ সার্কুলার দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন। যারা ঋণখেলাপি, তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য ব্যাংক উঠেপড়ে লেগেছে।

ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে পাচার করা হচ্ছে, অথচ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই। আবার যদি তারা সুযোগ পায় তাহলে তারা আরও এক লাখ কোটি টাকা নিয়ে যাবে। সরকার ব্যাংকগুলোকে ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিলেও ব্যাংকগুলো তা মানছে না।

আদালত বলেন, তারা তো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও মানছে না। দেখা যাচ্ছে যারা লুটপাট করছে, টাকা-পয়সা লোন নিয়ে পরিশোধ করছে না তাদের সাপোর্ট করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আদালত আরও বলেন, ‘যারা ছোটখাটো ঋণ নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে চেকের মামলা দিয়ে পর্যুদস্ত করা হচ্ছে।’

আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান।

আদেশের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারকে আদালত ‘দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ১৬ মে আদালতে গিয়ে বলেছিলাম, এ সার্কুলারটি স্থগিত করা হোক।

সে সময় শুনানিতে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন এ ধরনের সার্কুলার হয়েছে কিনা। ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের কোনো সার্কুলার হয়নি। আদালত সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদন মঞ্জুর না করে বলেছিল, তালিকা দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত তাদের সময় দিয়েছেন আদালত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মে বিকালেই বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারটা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। সেটিই গত রোববার আমরা চ্যালেঞ্জ করে স্থগিত চেয়েছি।’

মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘২ শতাংশ দিয়ে তারা ঋণখেলাপির তালিকা থেকে মুক্তি পাবে, সিআইবিতে নাম থাকবে না, তখন ব্যাংক থেকে নতুন করে আবার হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে যাবে। এতে ব্যাংকের মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে। এ কারণেই আমরা আবেদনে জানিয়েছিলাম, সার্কুলারটা মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হোক।

আদালত ২৪ জুন পর্যন্ত এ সার্কুলারের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। ওইদিন পরবর্তী আদেশ হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তালিকা দেয়ার পর।’

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ রকম কোনো নির্দেশনা পাইনি।’

মানবাধিকার সংগঠন এইচআরপিবির করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট ১৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে ঋণখেলাপির তালিকা দাখিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রুল জারি করেন। রুলে আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধে কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

এই আদেশের পরও ঋণখেলাপির তথ্য দাখিল না করায় ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে তালিকা দাখিল করার নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী মনিরুজ্জামান আদালতকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী আইনগতভাবে তাদের এই তালিকা দাখিল করার এখতিয়ার নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান রিট আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। এরপর হাইকোর্ট আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তালিকা দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×