সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আমাদের কাছে যেটা মনে হয়েছে যেটা বিশ্বাস করতে চাই না। সরকার কি খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় কারাগারের মধ্যে মেরে ফেলতে চায়? তাকে কি তারা হত্যা করতে চায়? এত দুর্বলতা কেন? নিজের প্রতি আস্থার অভাব কিসের জন্য? কারণ তারা নির্বাচনের আগের রাতে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। এই কারণে খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা এতই খারাপ হয়ে গেছে যে এখন তিনি বিছানা থেকেই উঠতে পারেন না। তিনি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং আমার কাছে তথ্য আছে, ইনসুলিন নিচ্ছেন তিনি। ইনসুলিন নেয়ার পরেও তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। সুগার লেভেল ১০ থেকে ১৬তে ওঠানামা করে। তার এই অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে পরিণতি কী হতে পারে, তা আমরা সবাই জানি। চিকিৎসা না হলে পরিণতি কী হতে পারে, সেদিকেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। আগে তার বাঁ কাঁধ ফ্রোজেন ছিল, এখন ডান কাঁধ ফ্রোজেন হয়ে যাচ্ছে। হাত-পা নাড়াতে পারছেন না। কোনো সাহায্য ছাড়া বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না।

খালেদা জিয়াকে যেসব মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে তা জামিনযোগ্য উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি জামিন পেতে পারেন এবং সবাই পেয়েছেন। তার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন? তার আইনগত যে প্রাপ্য সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা বিলম্ব করছে এবং আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। এটা অমানবিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সব খরচ বিএনপি বহন করতে রাজি আছে। কিন্তু এরপরও সরকারের পক্ষে থেকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখছি না।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জামিন প্রাপ্য। আজকে নাজমুল হুদা, আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী আছেন, যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার বেলায় এরকম কেন? রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য। তার মুক্তি দিতে হবে। মুক্তি পেলে তার সুচিকিৎসা করা সম্ভব।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আপডেট জানানো সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিদিন যে খবরগুলো পাচ্ছি তাতে দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আমরা উদ্বিগ্ন। এটা তো তাদের দায়িত্ব ছিল প্রতিদিন একটা করে হেলথ বুলেটিন দেয়া। সরকারের কাস্টডিতে আছেন তিনি। এটা ডিমান্ড করে যে, তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে তারা জানাবে। সেটা তারা জানায় না। এমনকি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতেও দেয়া হচ্ছে না। আমরা আগে ২-১ বার দেখা করেছি। এখন আর দেখা করতে দিচ্ছে না। তাকে মুক্তি দিতে হবেই। তিনি মুক্তি পেলেই সুচিকিৎসা করা সম্ভব। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের কিছু হলে সরকারকেই দায়দায়িত্ব বহন করতে হবে।

খালেদা জিয়া রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসেননি দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি রাজপথে সংগ্রাম করেছেন। স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে আপস করেননি। এই কারণে ’৯১ সালে জনগণই তাকে ক্ষমতায় এনেছে। বর্তমানে দেশে যেসব জাতীয় নেতা রয়েছেন তাদের মধ্যে খালেদা জিয়া সব থেকে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা উচ্চ আদালতের কাছে প্রত্যাশা করি খালেদা জিয়ার জামিন হবে। কালও (বৃহস্পতিবার) তার জামিন নিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। দুটি মামলায় সঙ্গে সঙ্গে তার জামিন হওয়ার কথা। সেখানে প্রথমে বলা হল অ্যাটর্নি জেনারেল অসুস্থ। পরে আবার বলল যে, উনি আরেকটা কাজে ব্যস্ত। সেখানেও সরকার ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে। সরকারকে বলব, রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করেন। প্রতিপক্ষকে জেলে আটকে রেখে রাজনীতি করছেন কেন। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেন, তারপর রাজনীতি করেন।

বিএনপির সদস্যদের সংসদে যাওয়ার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, গণতন্ত্রের স্বার্থে তারা সংসদে গিয়েছেন। এর সঙ্গে খালেদার চিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়টি কখনও জড়ায়নি। খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনগতভাবে হবে, কোনো শর্ত দিয়ে নয়।

খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর থেকে বিএনপি বলে আসছে সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে আটকে রেখেছে এবং এই বক্তব্য ১৫ মাস ধরে তারা দিয়ে আসছে। এর বাইরে বিকল্প কোনো ভাবনা বিএনপির আছে কিনা প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিদিন আইনের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী ও আবদুল কাইয়ুম।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×