ভাজাপোড়া খাবার স্বাস্থ্যহানিকর

ট্রান্সফ্যাটে দিনে ২১ জনের মৃত্যু

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ জরুরি : ডব্লিউএইচও

  রাশেদ রাব্বি ২৯ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রান্সফ্যাটে দিনে ২১ জনের মৃত্যু

অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাটযুক্ত (অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড) খাবার গ্রহণের কারণে প্রতিবছর দেশে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন ২১ জনের মৃত্যু হয়।

২২ মে জেনেভায় ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘রিপোর্ট অন গ্লোবাল ট্রান্সফ্যাট এলিমিনেশন ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেছেন, ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ডব্লিউএইচও’র রিপোর্টে আমাদের দৈনন্দিন খাবারগুলো থেকে শিল্পজাত ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। খাবারে ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ ডব্লিউএইচও নির্ধারিত মোট ফ্যাটের দুই শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে বিএসটিআই ও বিএফএসএ-কে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ট্রান্সফ্যাট বা ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড (টিএফএ) প্রাকৃতিক বা শিল্প উৎস থেকে আসা অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। প্রাকৃতিক ট্রান্সফ্যাট (আরটিএফএ) দুধ, মাখন, ঘি, গরুর মাংস, ছাগলের মাংসের মতো প্রাণিজ উৎস থেকে আসে এবং একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত এটি তেমন একটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট (আইটিএফএ) উদ্ভিজ্জ তেলের হাইড্রোজেনেশনের সময় গঠিত হয়।

এ আংশিকভাবে হাইড্রোজেনেটেড তেল (পিএইচও) শিল্পে উৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উৎস। মার্জারিন, বনস্পতি; তেলে ভাজা খাবার যেমন- শিঙারা, পুরি, বিস্কুট, চানাচুর, চিপসের মতো বেকারি পণ্যে আংশিকভাবে হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া রেস্টুরেন্ট ও অনেক স্ট্রিট ফুড যেগুলো কড়া করে ভাজা হয় সেগুলোতেও ট্রান্সফ্যাট থাকে। আবার আংশিকভাবে হাইড্রোজেনেটেড তেল ছাড়াও রান্নার কাজে একই তেল বারবার ব্যবহার করলেও তাতে ট্রান্সফ্যাট উৎপাদিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রান্সফ্যাট হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, যেটা বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ। ডব্লিউএইচওর মতে, ২০১০ সালে বাংলাদেশে উচ্চ ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে প্রায় আট হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বলা হয়, খাবারে ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করছে না। তবে সম্প্রতি তারা ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে ভারতের মতো ধাপে ধাপে কাজ শুরু করেছে। ভারত ২০২২ সালের মধ্যে ভোজ্যতেল ও এ জাতীয় পণ্যে ট্রান্সফ্যাটের সীমা ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে কাজ করছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিক বলেছেন, আমাদের খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের ক্রমাগত ও অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতির ফলে হাজারো প্রাণ হুমকির মুখে পড়ছে।

তিনি বলেন, এ ঝুঁকি মোকাবেলায় জনগণকে সচেতন করতে হবে এবং বিএসটিআই ও বিএফএসএ-কে যতদ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। খাবারে ডব্লিউএইচও নির্ধারিত মোট ফ্যাটের সর্বোচ্চ দুই শতাংশ ট্রান্সফ্যাট সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া প্রয়োজন। অন্যথায় দিন দিন মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়বে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিল্পজাত ট্রান্সফ্যাটের পরিবর্তে চাইলে সহজলভ্য বিকল্প রয়েছে যা খাবারে ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া সেগুলো স্বাস্থ্যকরও। বিশ্বের ছয়টি দেশে ২০১৮ সালে খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট নিষিদ্ধ করেছে এবং আরও ২৫টি দেশ (ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ) একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা পরবর্তী দু’বছরে কার্যকর হবে।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রোস অ্যাডহোম গেবেব্রেসাস বলেন, বিশ্বজুড়ে খাবারে শিল্প উৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের নির্মূল কার্যক্রম গতিশীলতা পাচ্ছে। ইতিমধ্যে ২৮টি দেশে বসবাসরত বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এর ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু এখনও বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ ট্রান্সফ্যাটের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আশার কথা হল, ডব্লিউএইচও বাকি দেশগুলোতে ট্রান্সফ্যাট নির্মূল কার্যক্রমকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

খাদ্যপণ্য থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতিশ্রুতিকে তিনি স্বাগত জানান। বিশ্বব্যাপী ২০২৩ সালের মধ্যে খাবারে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের জন্য গত বছর ডব্লিউএইচও ‘রিপ্লেস’ প্যাকেজ চালু করে। ইতিমধ্যে এ প্যাকেজ বাস্তবায়নে দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য একটি মডিউল প্রকাশ করেছে। মডিউল অনুসারে, বিএসটিআই ও বিএফএসএর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এটা বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×