রমজানুল মোবারক

আখেরাত হাসিল করলে দুনিয়াও হবে

  সৈয়্যেদ নূরে আখতার হোসাইন ৩০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আখেরাত হাসিল করলে দুনিয়াও হবে

আর মাত্র ক’টি রোজা বাকি আছে। আল্লাহ পাকের সীমাহীন ভাণ্ডার থেকে আমরা কতটুকু নিতে পারছি তা আমাদের নিয়ত ও কর্মের ওপর নির্ভর করবে। রমজান মানুষকে দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে আল্লাহর দরবারে রুজু হওয়ার আহ্বান জানায়।

অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি, দুনিয়াদারির মোহে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে চলেছে মানব সভ্যতা। এ সময়টাকে জাহেলি যুগের সঙ্গে তুলনা করা যাবে কিনা জানি না- ধর্ম-কর্মের যতটুকু দেখি আন্তরিকতার লেশমাত্র নেই। রয়েছে শুধু আনুষ্ঠানিকতা।

সূরা বাকারার ১৮৪ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার। একই সূরার ১৮৭ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্য তার আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে।

তাকওয়া অর্জনের পথ আল্লাহ বলে দিয়েছেন; তার রাসূল (সা.) দেখিয়ে দিয়েছেন। আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে মহাপ্রভুর প্রেমের আনন্দে মেতে উঠতে হবে।

এ দুনিয়ার জীবন তো একদিন শেষ হবে, পরকালের জীবন শুরু হবে। সে অনন্ত সময়ে যাতে শরমিন্দা না হতে হয়, কষ্টভোগ করতে না হয় সেজন্য এখনই প্রস্তুত হতে হবে।

রমজান খুব সহজে আল্লাহকে পাওয়ার পথ দেখায়, দুনিয়াদারির আকর্ষণ ত্যাগ করে ঐশ্বরিক প্রেমে মত্ত হওয়ার প্রেরণা জোগায়। বাসনার প্রাবল্য ফেরেশতাসুলভ চরিত্র অর্জনের পথে অন্তরায়, তাই এ উপকরণগুলোকে পরাজিত করে পাশবিক শক্তি আয়ত্তে আনা সিয়ামের উদ্দেশ্য।

যারা আখেরাতের কথা চিন্তা করে দুনিয়াবি জীবন পরিচালনা করে তারা আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভে ধন্য। দুনিয়ার সব কাজে আল্লাহ সহায় হন। হজরত বড়পীর আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) বলেছেন, আখেরাতের নিয়ত হচ্ছে আল্লাহর বন্দেগি।

কেননা, ইবাদতের রুহ হচ্ছে নিয়ত। যখন বান্দা দুনিয়ার ভোগবিলাস বর্জন করে এবং আখেরাতের কথা ভেবে আল্লাহর ইবাদত করবে তখন সে আল্লাহর খাস বান্দা ও তাকে মহব্বত করে এমন লোকের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

হাদিস শরিফে এসেছে, নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা আখেরাতের নিয়তের ওপর দুনিয়াও দান করেন। কিন্তু দুনিয়ার নিয়তের ওপর আখেরাত দান করেন না। বস্তুত আখেরাত হচ্ছে মূল নেয়ামত ও শান্তির ঘর। আর দুনিয়া ও এর সম্পদ আখেরাতের ছায়াতুল্য।

তাই মাওলানা রুমি (রহ.) বলেছেন, আকাশে যদি পাখি উড়ে আর তার ছায়া মাটিতে পড়ে। একজন আহাম্মক শিকারি তীর ছুড়তে ছুড়তে সেই ছায়ার পেছনে ছোটে। যতই সামনে বাড়ে ততই সে পুঁজিহারা হয়। পাখির প্রতি যদি তীর ঠিক হতো তাহলে পাখিও শিকার হতো এবং ছায়াও শিকার হতো।

কেউ আখেরাতকে বাদ দিয়ে দুনিয়ার পেছনে ছুটলে এ ছায়া শিকারির মতো হবে। আখেরাতকে হাসিল করলে দুনিয়াও এসে যাবে, যেভাবে পাখি শিকার করলে ছায়াও এসে যায়। কিন্তু দুনিয়া হাসিলের পেছনে পড়লে কোনোটাই আসবে না।

তাই দুনিয়াদারির বন্ধন ছিন্ন করে মহাপ্রভুর সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করতে হবে। পবিত্র রমজান আমাদের সে পথেরই দিকনির্দেশনা দিয়ে যায়।

লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : রমজান ২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×