প্রযুক্তির কারসাজি: ঘরে বসেই পাঠাও-সহজের বাইক চালায় চক্র

হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকার বোনাস * কোম্পানির দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে ওরা

  নুরুল আমিন ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কারসাজি

ঘরে বসেই পাঠাও ও সহজ অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারের বাইক চালায় ওরা। ভুয়া জিপিএস ব্যবহার করে ইউজার ও রাইডার আইডি ক্লোন করে রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে চলে তাদের বাইক। তবে সেটা বাস্তবে নয়, বাইক চলে মোবাইল ফোনে।

এভাবেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কারসাজির মাধ্যমে পাঠাও ও সহজ কোম্পানির লাখ লাখ টাকার বোনাস হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। আড়াই মাসে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া ওই চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। চক্রের মূলহোতা আজম সরকারকে শনাক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

পুলিশ বলছে, ভেরিফাই (যাচাই-বাছাই) না করেই যাকে-তাকে ইউজার ও রাইডার আইডির রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ার কোম্পানি পাঠাও ও সহজ। আর এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক চক্র। ঘরে বসে মোবাইলে ভুয়া জিপিএস লাগিয়ে দিনে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি ট্রিপ মারছে প্রতারক চক্র। এভাবে দিনে প্রায় ৫ হাজার টাকার বোনাস হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রাহুল পাটোয়ারী যুগান্তরকে বলেন, অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে আসছে চক্রটি। তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে রাইডশেয়ার কোম্পানিগুলোকে রেজিস্ট্রেশন দেয়ার ক্ষেত্রে আরও যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চক্রের সদস্যরা অল্প শিক্ষিত হলে তাদের প্রযুক্তিজ্ঞান অবিশ্বাস্য। তাদের কেউ কেউ একসময় রাইডার হিসেবে বাইক চালাত। চক্রের মূলহোতা আজম সরকারও একসময় বাইক চালাত। অল্প শিক্ষিত এই যুবক বাইক চালানো ছেড়ে দিয়ে শুরু করে প্রতারণা। রাজধানীর কাজীপাড়ায় একটি অফিস খুলে কয়েকজন মিলে শুরু করে কারসাজির মাধ্যমে বাইক চালিয়ে বোনাস হাতিয়ে নেয়ার কাজ।

যেভাবে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি : গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, চক্রের সদস্যরা প্রথমে নামে-বেনামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সংগ্রহ করে। এরপর পরিচিতদের বাইকের নম্বর ও ভোটার আইডি সংগ্রহ করে। এগুলো দিয়ে ইউজার আইডি ও রাইডার আইডি খুলে কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন করে নেয়। রাইডার আইডি খোলার ক্ষেত্রে বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের শেষের দুই ডিজিট পরিবর্তন করে একটি নম্বর দিয়ে একাধিক রাইডার আইডি রেজিস্ট্রেশন করে। এরপর প্লে-স্টোর থেকে ফেক জিপিএস ও আইডি ক্লোন করার অ্যাপ ডাউনলোড করে। এভাবে ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাইক চালায় তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চক্রের এক সদস্য যুগান্তরকে বলে, ভুয়া জিপিএস দিয়ে কোনো বাইক ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাইডার আইডি শো করা হয়। এ সময় বিভিন্ন ইউজার আইডি থেকে অনুরোধ আসে। তবে আমরা আমাদের নির্দিষ্ট ক্লোন ইউজার আইডি দিয়ে ওই রাইডার আইডিতে অনুরোধ করে কল করি। নিজেদের ইউজার আইডির অনুরোধ সংগ্রহ করে আসল ইউজার আইডির অনুরোধ বাতিল করে দেই।

এরপর নিজেরাই পছন্দ মতো লোকেশন দিয়ে দেই। এটা চলতে থাকে। এর মধ্যে একই পদ্ধতিতে একই সময় একাধিক ট্রিপ এভাবে চলতে থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর ট্রিপ শেষ করা হয়। আর বোনাসের টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়। রাইডশেয়ার কোম্পানিগুলো এ কারসাজি বুঝতে পারে না। চক্রের ওই সদস্যরা জানায়, তাদের কাছে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির পাঁচ শতাধিক সিম রয়েছে। যেগুলো ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা। সিমগুলো এ কাজে ব্যবহার করে তারা।

যাচাই-বাছাই ছাড়া ভুয়া রেজিস্ট্রেশন দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাইডার কোম্পানির ডিজিটাল সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার শেখ হাসান হায়দার শুভ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×