রমজানুল মোবারক

সিয়ামের আয়নায় দেখি কতটা পরিশুদ্ধ হয়েছি

  তোফায়েল গাজালি ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আয়না

হে সায়েম! আত্মার চোখ মেলে তাকান। সিয়ামের আয়নার সামনে দাঁড়ান। নিজের চেহারা দেখুন। জিজ্ঞেস করুন নিজেকে- আপনি কতটা সংযমী হতে পেরেছেন। হতে পেরেছেন কতটা দানশীল। সহনশীলতার চাদর কতটা জড়াতে পেরেছেন নিজের গায়ে। আপনার অন্তর আত্মা আল্লাহর ভয়ে এখন কি কেঁপে ওঠে প্রায়?

আপনি যদি এখনও আল্লাহকে ভয় না পান তা হলে আপনার জন্যই আল্লাহর রাসূলের সেই হাদিসখানি যথার্থ- ‘অনেক রোজাদার আছেন যাদের ভাগ্যে ক্ষুৎপিপাসা ছাড়া আর কিছুই জোটে না, অনেকে সারা রাত যাপন করেন; কিন্তু তা রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছুই হয় না।’ (মুসলিম)। আর আপনি যদি তাকওয়া অর্জন করে থাকেন। হয়ে থাকেন মুত্তাকি। তাহলে শুনে রাখুন মাবুদের খোশ খবরি- ‘রোজা আমার জন্য আর রোজার বিনিময় আমি নিজেই’। (বোখারি শরিফ)

আজ মাহে রমজানুল মোবারকের সাতাইশ তারিখ। আর মাত্র দু-তিন দিন পর রমজান বিদায় নেবে। কিন্তু সিয়াম সাধনা শেষ হবে না রমজানের পরও। বরং রমজানের পর থেকে শুরু হবে আরও দীর্ঘকালীন সিয়াম। বলা যেতে পারে শাওয়ালের প্রথম তারিখ থেকে দিনব্যাপী নয়, সাবর্ক্ষণিক সিয়াম শুরু হবে। রমজান মাসে প্রতিদিন সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে নিজেকে সংযত রাখতে হয়। কিন্তু সংযমের নির্দেশ মুমিনের প্রতি সারা জীবনের জন্য। একজন ব্যক্তি যখন কলেমায়ে শাহাদত পাঠ করে মুসলমান হয়, তখনই তার কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় পানাহারসহ সব ভোগ আস্বাদন নিয়ন্ত্রিত রাখা। এটিই তো ইসলামের বৈশিষ্ট্য। এ ক্ষেত্রে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্তের মেয়াদ সীমাবদ্ধ নেই। এমনকি পার্থিব জীবনে এ সিয়ামের ইফতারও নেই।

যেদিন আহকামুল হাকেমিনের দরবারে হাজির হতে হবে, দুনিয়াবি জীবনের প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণের হিসাব দিতে হবে, সেদিন সেই হিসাব-নিকাশে যদি উতরে যাওয়া যায়, তা হলে রহমাতুল্লিল আলামিন হাউজে কাওসারের শরবত দিয়ে এসব রোজাদারকে ইফতার করাবেন। তারপর তাদের পাঠিয়ে দেয়া হবে জান্নাতে, যেখানে তাদের উপভোগের জন্য তৈরি রাখা হয়েছে এমন নেয়ামত, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, এমনকি কোনো মানুষের কল্পনায়ও আসেনি। সেটিই তো প্রত্যেক মুমিনের কাম্য।

অতএব, নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, কামনা বাসনা ও ঝোঁক প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা যদি সিয়াম আখ্যায়িত হতে পারে, তা হলে রমজান পার হলেও সেই সিয়ামের হুকুম বহাল থাকবে, থাকতে হবে মুমিনের জীবনে। নিয়ন্ত্রিত ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন নির্বাহ করা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানাহার, নিছক উদরপূর্তি কিংবা রসনা তৃপ্তির জন্য আহার মুমিনের আদর্শ নয়। মুমিনের প্রতিটি কাজ হতে হবে উদ্দেশ্য ও ফলাফল বিবেচনায় রেখে। পার্থিব স্বার্থ ও সুবিধার চেয়ে আখিরাতের কল্যাণকে প্রধান্য দিতে হবে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ইসলাম গ্রহণের ফলে একজন ব্যক্তির জীবনে অন্যতম সৌন্দর্য আসে এই যে, সে অহেতুক কাজ পরিহার করে। মোটকথা, অপরিহার্যতা থেকে নান্দনিকতা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে ও পর্যায়ের জন্য ইসলামের শিক্ষা ও নির্দেশনা রয়েছে। রমজানের তিরিশ বা ঊনত্রিশ দিনের পর পানাহার ও কামাচার নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ রহিত হবে না। সব ক্ষেত্রে তাকে আল্লাহর নির্দেশ ও রাসূলুল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সেই দীর্ঘ অনন্ত সিয়ামের জন্য প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাসের শেষভাগে মুমিন বান্দাদের একান্ত কাম্য হওয়া উচিত।

লেখক : পরিচালক, ফিদায়ে মিল্লাত ইন্সটিটিউট

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×