বইয়ে ‘জয় পাকিস্তান’: ক্ষমা চাইলেন একে খন্দকার

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষমা

‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’-বইয়ের একটি অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এর লেখক মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার। তিনি এ বইয়ে অসত্য তথ্য দেয়ার জন্য জাতির কাছে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিদেহী আত্মার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমা চান তিনি। নিজের লেখা ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’ বইয়ে ভুল তথ্য দেয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে একে খন্দকার বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু ‘জয় পাকিস্তান’ বলেননি। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ফরিদা খন্দকার উপস্থিত ছিলেন। ২০১৪ সালে প্রথমা প্রকাশন থেকে ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেও নীরব ছিলেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে একে খন্দকার বলেন, যেভাবেই আমার বইতে আসুক না কেন, এই অসত্য তথ্যের দায়ভার আমার এবং বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে কখনই ‘জয় পাকিস্তান’ শব্দ দুটি বলেননি। আমি তাই আমার বইয়ের ৩২ নম্বর পৃষ্ঠার উল্লিখিত বিশেষ অংশ সংবলিত পুরো অনুচ্ছেদটুকু প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং একইসঙ্গে আমি জাতির কাছে ও বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার কাছে ক্ষমা চাইছি। প্রথমা প্রকাশন বইয়ের ৩২ পৃষ্ঠার বিতর্কিত অংশটুকু বাদ দিয়ে পুনঃমুদ্রণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

একে খন্দকার বলেন, আমার বয়স ৯০ বছর। আমার সমগ্র জীবনে করা কোনো ভুলের মধ্যে এটিকেই আমি একটি বড় ভুল বলে মনে করি। গোধূলি বেলায় দাঁড়িয়ে আমি আজ বিবেকের তাড়নায় বঙ্গবন্ধুর আত্মার কাছে ও জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান’ উল্লেখ করে তার বর্ণাঢ্য জীবনের কথা তুলে ধরেন একে খন্দকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ নামে বিশ্বে খ্যাতির শীর্ষে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত। তারই বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্বে দেশ আজ যুদ্ধাপরাধীমুক্ত। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রতি কৃতজ্ঞ।

একে খন্দকার অভিযোগ করেন- বইয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের পর তা সংশোধনে সংবাদ সম্মেলন আটকে দিয়েছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মুক্তিযোদ্ধা মঈদুল হাসানসহ কয়েকজন। তিনি বলেন, যখন বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল, তখন এটি সংশোধনের উদ্যোগ নিতে বলি; তখন গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মুক্তিযোদ্ধা মঈদুল হাসানসহ কয়েকজন আমাদের বাসায় গেলেন। তারাসহ আরও কয়েকজন তখন এই কাজে বাধা দিয়েছিলেন। আমরা তখনও বুঝিনি যে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি সমাধান করা যায়।

একে খন্দকারের স্ত্রী ফরিদা খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, তখন বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য সংশোধনে মঈদুল হাসানের মন্তব্য ছিল-‘ছোড়াগুলির পেছনে দৌড়াবেন? গুলি তো ছোড়া হয়ে গেছে এখন তো আর দৌড়ালে হবে না।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×