ব্যাগভর্তি বই নিয়ে বাড়িফেরা

  হক ফারুক আহমেদ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাগভর্তি বই নিয়ে বাড়িফেরা

এমন একটি দিনের জন্যই মুখিয়ে ছিলেন লেখক-প্রকাশকরা। চারিদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। তবে তাদের হাতগুলোও খালি নয়, আছে বইয়ের ব্যাগ। অনেকেই ব্যাগভর্তি বই নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এমন দৃশ্য দেখতেও ভালো লাগে।

মেলার তৃতীয় শুক্রবারে সকাল থেকেই ছিল প্রচণ্ড ভিড়। আর সময় যত গড়িয়েছে সে ভিড় রূপ নেয় জনারণ্যে। প্রকাশকরা জানিয়েছেন মেলার এমন জমজমাট পরিবেশ বাকি দিনগুলোয়ও বজায় থাকবে। কারণ, এখন যারা মেলায় আসছেন তাদের বেশিরভাগই বইয়ের ক্রেতা।

শুক্রবার মেলায় আসেন যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম। তিনি বেশ কয়েকটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। এদিন মেলার শুরুটা হয় শিশুদের কলকাকলিতে। বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ছিল শিশু প্রহর।

অন্যান্য শিশু প্রহরের মতো এদিনও সিসিমপুরের হালুম, ইকরি, টুকটুকি আর সিকুরা শিশুদের মন নাচেগানে ভরিয়ে তোলে। সকালে মেলায় এসেছিলেন কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। তাকে নিয়ে মেলায় ছিল পাঠকদের উচ্ছ্বাস। দুপুরের সময়টায়ও অন্যান্য দিন যেখানে মেলায় খুব একটা ভিড় থাকে না সেখানে এদিন বেশ ভিড় ছিল। আর বিকাল থেকে মেলায় নামে জনস্রোত।

মেলায় এসেছিলেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালও। তাকে ঘিরে কিশোর-তরুণ পাঠকদের উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভেঙেছে। বিকালে অনন্যার স্টলে গিয়ে দেখা যায় একটার পর একটা বইয়ে অটোগ্রাফ দিয়ে চলেছেন ইমদাদুল হক মিলন।

এদিন ছোট-বড় সব প্রকাশনার প্যাভিলিয়ন ও স্টলেই পাঠকের ভিড় ছিল লক্ষ করার মতো। অন্যপ্রকাশ, ঐতিহ্য, মাওলা ব্রাদার্স, কাকলী প্রকাশনী, সময় প্রকাশন, তাম্রলিপি, পার্ল পাবলিকেশন্স, প্রথমার প্যাভিলিয়নে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

তৃতীয় শুক্রবারের মেলা নিয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ও অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সব প্রকাশকেরই বইয়ের বিক্রি ভালো। আগামী দিনগুলোয়ও বই বিক্রির এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে। কারণ এখন যারা মেলায় আসছেন তারা বই কিনতেই আসছেন।

পুঁথিনিলয় প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী শ্যামল পাল বলেন, আজ মেলায় মানুষের ভিড়টা যেমন বিক্রিটাও তেমন। এতদিন মানুষ এসেছে, ঘুরেছে দেখেছে। আর আজ মনে হচ্ছে বই কিনতেই এসেছে।

মেলায় এসেছিলেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনপ্রিয় লেখক মোশতাক আহমেদ। তিনি জানালেন, গত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি তার সদস্যদের বইয়ের একসঙ্গে মোড়ক উন্মোচন করছে।

এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। আরও উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির সভাপতি মোশতাক আহমেদ, লেখক দীপু মাহমুদসহ আরও অনেকে।

এদিন একসঙ্গে বারোটি নতুন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে। বইগুলো হল- মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘ত্রাতিনা’, তাসরুজ্জামান বাবুর ‘বিয়ন্ড দ্য ম্যানমেড ইউনিভার্স’ ও বিশ্বজিৎ দাশের ‘তুরাশ’ (সময়), মোশতাক আহমেদের ‘অমর মানব’ ও দীপু মাহমুদের ‘ভবঘুরে মহাকাশচারী’ (অনিন্দ্যপ্রকাশ), ধ্রুব এষের ‘সারি’ ও মোস্তফা কামালের ‘বিজ্ঞানী লীরা ও এলিয়েন (পাঞ্জেরী), দীপু মাহমুদের ‘নীলার রোবট বন্ধু’ (জয়তী), সহস্র সুমনের ‘টংকার’ (শিখা প্রকাশনী), মুহম্মদ মনিরুল হুদার ‘ম্যাগাস’ ও ‘জলকন্যা’ (কথাপ্রকাশ) এবং যাযাবর জিয়ার ‘ম্যাগনেটম্যান দ্য পাওয়ার’ (পার্ল)। এ ছাড়া বিদ্যাপ্রকাশ থেকে কেএন শাহজাহান করিমের অনুবাদে জুল ভার্নের ‘মহাবিশ্বে ভ্রমণ’ বইটিরও মোড়ক উন্মোচিত হয়।

বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম : শুক্রবার বইমেলায় এসেছিলেন যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম। তিনি মেলার লিটলম্যাগ চত্বরে বহেড়াতলার সামনে বেশ কয়েকটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

বইগুলো হল- বাংলা গবেষণা থেকে কোয়েল তালুকদারের ‘পূর্ণিমানিশীথিনী-সম’, একই প্রকাশনা থেকে কাজী সুলতানা জাহান রুবীর ‘স্মৃতির আয়নায়’, আফজালুল বাসারের ‘লালন ও বাঙালি’, একই লেখকের লিখিত ও সম্পাদিত ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ: বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল’, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডস্ট্রি থেকে দেলওয়ার হাসানের ‘ঢাকার বাণিজ্যিক ইতিহাস’।

এদিকে মেলা উপলক্ষে রাজধানীর সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে ‘চলো পাল্টাই সাহিত্য চক্রের’ আয়োজনে কাব্যগ্রন্থ ‘পরিচয়’ ও ‘আলোর হাসি’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়। ফেসবুকভিত্তিক এ সাহিত্য গ্রুপটি পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির তথ্য কেন্দ্র থেকে জানা যায়, শুক্রবার মেলার ১৬তম দিনে ২৭৩টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে অন্যপ্রকাশ এনেছে আনিসুজ্জামানের ‘বিদ্যাসাগর ও অন্যেরা’, ঐতিহ্য থেকে দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের ‘নায়ক’, একই প্রকাশনা থেকে জাভেদ হুসেনের চয়ন, ভাষান্তর ও আলোচনায় ‘মীর তকি মীর গজল থেকে’, শোভা প্রকাশ থেকে তারেক শামসুর রেহমানের ‘আন্তর্জাতিক রাজনীতির কোষ’, অ্যাডর্ন থেকে মাহবুব সাদিকের ‘পিঁপড়ে আর পায়রা’, সময় থেকে সুভাষ সিংহ রায়ের ‘প্রশ্নোত্তরে রবীন্দ্র-নজরুল’, সালমা বুক ডিপো থেকে শেখ আবদুল হাকিমের ‘ডুপ্লিকেট হিরোশিমা অ্যান্ড নাগাসিকা’, ছোটদের বই থেকে দীপু মাহমুদের ‘সত্যিরাজা’, অন্যপ্রকাশ থেকে হরিশংকর জলদাশের ‘সেরা দশ গল্প’, কথাপ্রকাশ থেকে সুমন্ত আসলামের ‘জ্যোৎস্নাবিলাস’, ছায়াবীথি থেকে শাহীন চৌধুরীর ‘নিরুদ্দেশ’।

মূলমঞ্চের আয়োজন : সকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশু-কিশোর সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। এতে অতিথি ছিলেন অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। উপস্থিত বক্তৃতায় প্রথম হয়েছেন তারান্না তাবাসসুম লিম, দ্বিতীয় হয়েছেন শাঁওলী সামরিজা ও তৃতীয় হয়েছেন তাসফিয়া চৌধুরী। সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন নুসাইবা নাজমী খান, দ্বিতীয় হয়েছেন মুনতাজিম রহমান সায়মন ও তৃতীয় হয়েছেন সায়েদা করিম মিশা।

বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী শীর্ষক’ আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাইফুদ্দীন চৌধুরী, হাশেম সুফী এবং সুনীলকান্তি দে। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রুশিয়া খানম, এসএম তৌহিদ সরকার এবং বাবু সরকার।

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা-২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter