রমজানুল মোবারক: সাধনা জারি রাখি বারো মাস

  তোফায়েল গাজালি ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রমজানুল মোবারক
ফাইল ছবি

আজ মাহে রমজানের ২৮ তারিখ। রহমতের মাস, বরকতের মাস শেষ হয়ে এলো। জানি না জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় আমার নাম যুক্ত হল কিনা! দয়াময়ের মাগফিরাতের পুরস্কার জান্নাত আমার জন্য বরাদ্দ হল কিনা! সুফিরা বলেন, রমজানের শেষ দিনগুলোয় মওলার রহমতের সাগরে উত্তাল ঢেউ ওঠে। হাদিস শরিফে এসেছে, আল্লাহতায়ালা সারা রমজানে যত মানুষকে ক্ষমা করেন রমজানের শেষ সময়ে এতজন লোককে ক্ষমা করেন। বহুগুণ সওয়াব আর খোদার অফুরান অনুগ্রহ সঞ্চয়ের মূল্যবান এই সময়গুলোর প্রতি এখনও যত্নবান না হলে আর কবে যত্নবান হবেন আপনি।

মাবুদের কাছে মন খুলে বলার, যা কিছু চাওয়ার, সবকিছুর শেষ সুবর্ণ সুযোগটুকু হেলায় পার করলে সারাজীবন আফসোস করতে হবে। মুমিনের প্রবৃত্তিগুলোকে অশুভ প্রবণতা থেকে পরিশুদ্ধ করতে, মানব প্রকৃতিকে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর মোহ থেকে বিমুখ করে আখিরাতমুখী করতে, মুসলমানের জীবনে নিয়মানুবর্তিতা আনতে এবং মানব সমাজে সম্প্রীতি ও সহানুভূতির চেতনা জাগাতে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার এ ধারাবাহিকতা ও শিক্ষাকে আমাদের জীবনে চালু রাখতে পারলে সফলতা একদিন আসবেই।

প্রথমেই আসি শাওয়াল মাসের রোজায়। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখবে, তাকে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব দেয়া হবে। এ ছয়টি রোজা একাধারে কিংবা মাঝখানে বিরতি দিয়ে রাখা যায়। রমজানের বাইরে রোজা রাখা ফরজ নয়। কিন্তু নফল রোজার জন্য কোনো মাস বা দিনের সীমাবদ্ধতা নেই। বছরের পাঁচটি দিন ছাড়া সব দিন রোজা রাখা যাবে।

রমজানের আরেকটি কাজ কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন। এটিও রমজানের সঙ্গে নির্দিষ্ট নয়। কিন্তু রমজান মাসে নাজিল হওয়ার কারণে এ মাসের সঙ্গে কোরআন মাজিদের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তাই রমজান মাসে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত ও চর্চার ওপর জোর দেয়া হয়। রমজানের বাইরেও এ অভ্যাস ও নিয়ম চালু রাখা উচিত। আল্লাহর কালামের সঙ্গে সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠ হবে, আল্লাহর বিশেষ রহমতের তত আশা করা যাবে। রমজানে এ কিতাবের প্রতি যে মনোযোগ বাড়ে, সেটিকে আল্লাহর রহমত হিসেবেই গণ্য করা উচিত এবং তা ধরে রাখা প্রয়োজন। কোরআন তেলাওয়াত, অধ্যয়ন ও গবেষণায় মুসলমানদের আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। তাসবিহ, তাহলিল ও ইস্তেগফার মুমিনের প্রাত্যহিক কর্তব্য। রমজানে তা বেড়ে যাওয়া ভালো লক্ষণ কিন্তু তা রমজান পর্যন্ত সীমিত রাখা উচিত নয়।

রমজানে মুমিন বান্দাদের মধ্যে দান-খয়রাতের আগ্রহ বেড়ে যায় এটিও আল্লাহর অনুগ্রহ। সম্পদের মালিক আল্লাহ। বান্দা নিছক আমানতদার। আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী সম্পদ ব্যয় করা মুমিনের কর্তব্য। ধনীর সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিতদের প্রাপ্য অধিকার রয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে কোরআন মাজিদে। রমজানে মুমিন বান্দারা আল্লাহর এ বিশেষ হুকুমটি পালনে আরও আগ্রহী হন অন্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি সওয়াব লাভের আশায়। এ কারণেই রমজান মাসে জাকাত আদায়ের প্রচলন হয়েছে। তা ছাড়া সাদকাতুল ফিতর এ মাসের সঙ্গে জড়িত। মহানবী (সা.)-এর কাছে কখনও সম্পদ জমা থাকত না। এজন্য তার ওপর কখনও জাকাত ফরজ হয়নি। সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার মতো সম্পদও তার কাছে থাকেনি। কিন্তু তিনি সব সময় দানের হাত সম্প্রসারিত রাখতেন। আর রমজান এলে তার দানের মাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যেত বলে সাহাবায়ে কেরাম বর্ণনা করেছেন। অতএব রমজান শেষ হলেও এসব ইবাদত অব্যাহত রাখা উচিত।

লেখক : পরিচালক, ফিদায়ে মিল্লাত ইন্সটিটিউট

[email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : রমজান ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×