ঢাকার নিম্ন আদালতের এক-পঞ্চমাংশ মামলাই পাঁচ বছরের পুরনো

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ পুলিশ * কোনো মামলায় শতাধিক দফা সময় চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ * দ্রুত সাক্ষীদের আদালতে আনার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * রয়েছে ২৫ বছরের পুরনো মামলাও

  হাসিব বিন শহিদ ০৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রায়

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার পুটিয়া তালুবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ওরফে সায়েদুল। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন তিনি। পুলিশ সায়েদুলের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা [নম্বর ৯২(৯)০১] করে। তদন্ত শেষে ২০০২-এর জানুয়ারিতে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

ওই বছরের ২৮ এপ্রিল একমাত্র আসামি সায়েদুলের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন আদালত। এখন পর্যন্ত কোনো সাক্ষীই আদালতে সাক্ষ্য দেননি। চার্জশিটে বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ পুলিশের ছয় সদস্য ও তিন পথচারীকে সাক্ষী করা হয়। সাক্ষ্য না দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ‘অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা’ জারি করেছেন আদালত।

এরপরও কোনো সাক্ষীকে আদালতে হাজির করতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা। বর্তমানে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন ওই মামলায় কয়েক বছর ধরে সময় আবেদন করে চলেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালতও তা মঞ্জুর করে সাক্ষী হাজিরের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করছেন। এমন শতাধিক তারিখ কেটে গেছে। এর আগে মামলাটি অন্য আদালতে থাকা অবস্থায়ও একইভাবে অসংখ্য দফায় সাক্ষী হাজিরের তারিখ পড়ে।

গত ৫ মার্চ এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল। কিন্তু ওইদিন সাক্ষী হাজির না হওয়ায় আগামী ৬ আগস্ট পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত। এভাবেই ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে মামলাটির বিচার কাজ। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর আসামি সায়েদুল বর্তমানে জামিনে নিয়ে পলাতক।

শুধু এ মামলাই নয়, পুরান ঢাকার নিম্ন আদালতের এক-পঞ্চমাংশ মামলাই পাঁচ বছরের বেশি সময়ের পুরনো। এগুলোর বিচার কাজ সাক্ষীর অভাবে দীর্ঘদিন ঝুলে আছে। এর মধ্যে ২৫ বছরের পুরনো মামলাও রয়েছে। এসব মামলায় নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাক্ষী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে কিনা সেটি পর্যন্ত আদালতকে জানানো হয় না। কখনও কখনও ‘সাক্ষীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’- এমনি দায়সারা প্রতিবেদন দেয়া হচ্ছে আদালতে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭১(২) উপধারায় বলা আছে, সাক্ষী হাজির করার দায়িত্ব পুলিশের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই আসামি পক্ষ সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করেই সাক্ষীদের আদালতে হাজির না করার ব্যবস্থা করেন। আর সাক্ষী হাজির না হওয়ায় যাবতীয় সুবিধা পাচ্ছে আসামি পক্ষ। কারণ বছরের পর বছর বিচারাধীন থাকায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা দুরূহ হয়ে পড়ে রাষ্ট্রপক্ষের।

একদিকে প্রতিনিয়তই বাড়ছে মামলার সংখ্যা। অন্যদিকে সে অনুপাতে মামলাগুলো নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ফলে বিশাল এ মামলাজট নিষ্পত্তিতে একদিকে বিচারকরা হিমশিম খাচ্ছেন, অপরদিকে বিচারপ্রার্থীরাও বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার যুগান্তরকে বলেন, মামলা বিচারে দীর্ঘ সময় হলে সেক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে যায়। সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে উৎসাহ হারায়। সাক্ষীদের অনুরোধ করে আনতে হয়। যেসব মামলায় সাক্ষীরা বা পুলিশ সদস্যরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন না- সেসব মামলায় দ্রুত সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। যে কোনো মামলায় বিচার কাজ দীর্ঘ হোক, এটা কারওই কাম্য নয়।

সুপ্রিমকোর্টের তথ্যানুসারে, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে (উচ্চ আদালত ও অধনস্ত আদালতসমূহ) বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫০টি। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৮৬১টি এবং ফৌজদারি মামলা ২০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭টি। শুধু ঢাকার ৪০টি আদালতে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৯টি।

এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১ লাখ ১০ হাজার ৬৩৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৭৯৬টি। ঢাকার ৪০টি আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে ১৬ হাজার ৯৮৮টি দেওয়ানি মামলা এবং ৪২ হাজার ৭৫৫টি ফৌজদারি মামলা দীর্ঘ পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে বিচারাধীন রয়েছে। অর্থাৎ ৫৯ হাজার ৭৪৩টি মামলাই দীর্ঘ পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে বিচারাধীন রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সায়েদুলের বিরুদ্ধে মামলার বাদী তেজগাঁও থানার তৎকালীন এসআই তরিকুল ইসলাম, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোমিনুল ইসলাম, মামলা রেকর্ড কর্মকর্তা এসআই মো. হাবিবুল হক প্রধান, কনস্টেবল আবদুল আজিজ (নং ২৫৩৭), হাসেম আলী (নং ৬৭৭২), কামরুজ্জামান (নং ১১৪০৪), চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার পূর্ব আলোনিয়া গ্রামের মো. রুহুল আমিন, মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার বাগাকান্দি গ্রামের মো. আসাদ বেপারি ও চাঁদপুর জেলার সদর থানার বাকেরপুর গ্রামের মোস্তফা- কেউই এ দীর্ঘ সময়ে আদালতে সাক্ষ্য দেননি। তেজগাঁও থানায় যোগাযোগ করা হলে থানার ওসি যুগান্তরকে বলেন, মামলাটি অনেক পুরনো। ওইসব কর্মকর্তা ও কনস্টেবল বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তবে পুলিশের কোন সদস্য কোথায়, কবে বদলি হয়ে যাচ্ছেন- তা রাজারবাগে পুলিশের এসিআরও শাখায় লিপিবদ্ধ থাকে।

ঢাকার নিম্ন আদালতে দীর্ঘদিন বিচারাধীন অর্ধশত হত্যা ও অস্ত্র মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওইসব মামলায় সাক্ষী হিসেবে শতাধিক পুলিশ সদস্য ও দুই শতাধিক সাধারণ সাক্ষীকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। প্রতিটি মামলার চার্জশিটে সাক্ষীদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। আদালত প্রথমে সাক্ষীদের ওই ঠিকানা অনুসারে সমন পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এক যুগেও একজনেরও সাক্ষ্য হয়নি- এমন মামলার নজিরও কম নয়। ফলে এসব মামলার ভবিষ্যৎ এক রকম অনিশ্চিত বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, সাক্ষীর অভাবে একদিকে গুরুতর অপরাধের আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে যাচ্ছেন। অনেকে জামিন নিয়ে পলাতকও হচ্ছেন। অপরদিকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় অনেক আসামি বিনা বিচারে বছরের পর বছর কারাগারে পার করছেন।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী নজিবুল্লাহ হিরু যুগান্তরকে বলেন, মামলায় সাক্ষীদের নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা এবং পরে সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার দায়িত্ব পুলিশের। সাধারণত মাদক ও অস্ত্র মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ চার্জশিটে ভাসমান লোকদের সাক্ষী করে। ফলে তাদের (সাক্ষী) খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেক মামলায় পুলিশও সাক্ষ্য দিচ্ছে না। তবে মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় সম্পূর্ণ দায় পুলিশের নয়। একটি নির্দিষ্ট সময় পর সাক্ষী না আদালতে না এলে প্রতিটি বিচারকের ক্ষমতা দেয়া আছে, তারা (বিচারক) মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে পারেন। এটা সম্পূর্ণই বিচারকের ওপর নির্ভরশীল। পুলিশ-আইনজীবী-বিচারক মিলে ইচ্ছা করলেই বিচার কাজ দ্রুত হওয়া সম্ভব।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রচি যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত মাদক ও অস্ত্র মামলার ক্ষেত্রে পুলিশ চার্জশিটে ভাসমান লোকদের সাক্ষী করে। ফলে সাক্ষীদের খুঁজে পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। মামলার জব্দ তালিকার সাক্ষী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জানা সত্ত্বেও পুলিশ স্থানীয় লোকদের সাক্ষী না করে ভাসমান বা রাস্তার পথচারীদের সাক্ষী করে। এসব ক্ষেত্রে পুলিশের চরম গাফিলতি রয়েছে। এছাড়া মামলায় পুলিশ সদস্যরাও সাক্ষী হয়ে থাকেন। তবে তাদের এক স্থান থেকে অন্যত্র বদলি হলে তাদের আর কোনো হদিস পাওয়া যায় না। পুলিশের এসিআরও শাখায় যোগাযোগ করা হলেও তারা তেমন রেসপন্স করেন না।

রচি আরও বলেন, অনেক সাক্ষী আছেন, যারা সাক্ষ্য দিতে রাজিও হন না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাধারণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে ভয় পায়। সেজন্য চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোয় দিনের পর দিন সাক্ষ্য হচ্ছে না। ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে যেখানে আইনজীবীদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই, সেখানে সাক্ষীদের ‘সুরক্ষার’ ব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। সাক্ষ্য দিয়ে আদালত থেকে বের হয়ে রাস্তায় গিয়েছে, আর ওই সাক্ষীকে মেরে ফেলা হয়েছে- নিম্ন আদালতে এমন নজিরও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মামলা ঝুলে থাকার প্রধান কারণ হলো সাক্ষী হাজির না হওয়া। আর সাক্ষীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলে তা ত্বরান্বিত হতো।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি মো. আবদুল্লাহ আবু যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন আদালতে সাক্ষী না এলে এতে আসামিপক্ষ সুবিধা নেয়। সাক্ষী হাজিরের দায়িত্ব পুলিশের। আর মামলার চার্জশিট দেয়ও পুলিশ। তারাই নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই চার্জশিটে সাক্ষীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। আবার সাক্ষী হাজিরের সময় হলে তারাই (পুলিশ) ঠিকানা অনুসারে ওই সব সাক্ষীকে খুঁজে পান না। সব ক্ষেত্রেই এ বিষয়টি মেনে নেয়া যায় না। তবে অনেক সময় সাক্ষী স্থান পরিবর্তন করায় তাদের নতুন ঠিকানা পাওয়া যায় না। কিন্তু তাদের সন্ধান পুলিশের হাতের নাগালের বাইরে নয়।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা যুগান্তরকে বলেন, নিম্ন আদালতে মামলা দীর্ঘদিন নিষ্পত্তি না হওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। সেখানে সাক্ষীর হাজির না হওয়া কেবল একটি কারণ মাত্র। পুলিশ যথাসম্ভব আদালতের ধার্য দিনেই সাক্ষী হাজির করতে চেষ্টা করে। কিন্তু অনেক সময় সাক্ষীর অপারগতা বা সাক্ষী পুলিশকে না জানিয়ে ঠিকানা পরিবর্তন করার কারণে কিছু সমস্যা হয়।

অন্যদিকে পুলিশ সাক্ষীকে আদালতে যাওয়ায় বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, একজন পুলিশের একইদিনে দুটি ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন আদালতে সাক্ষ্যের দিন পড়েছে। আবার এমনও হয়, তিনি হয়তো বিশেষ প্রশিক্ষণে দেশে বা দেশের বাইরে আছেন, তিনি অসুস্থ বা অন্য কোনো বিশেষ সমস্যায় আছেন। তবে পুলিশ সাক্ষী আদালতে না গেলে অবশ্যই তাকে আদালত ও নিজ ইউনিটে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে হয়। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের সাক্ষী হাজির করার হার তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।

২৫ বছরের পুরনো মামলা : ঢাকা মহানগরের একটি আদালতে মাদকদ্রব্য আইনে করা একটি মামলা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিচারাধীন রয়েছে। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করা হয়। নম্বর ৩০(০৪)৯৪। আসামি মেহেদী হাসান জামিনে আছেন। ২০০২ সালের ১৯ আগস্ট এ মামলায় চার্জ গঠন করেন আদালত। ১১ জন সাক্ষীর ১৭ বছরে মাত্র ৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। অবশিষ্ট সাক্ষীদের মধ্যে তৎকালীন ডিএমপির সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো. আলী হায়দার, সিআইডির আরেক পুলিশ পরিদর্শক পরিতোষ বণিক, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার তুলা পুষকুরনী গ্রামের মো. শাহজাহান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার শ্যামবাড়ী গ্রামের মো. ইউনুস চৌধুরী রয়েছে। এছাড়া ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর সাক্ষীর নাম-ঠিকানা চার্জশিটে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি। মামলাটি ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

এক যুগের বেশি পুরনো মামলা : আরেকটি মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাজধানীর লালবাগের বেগম বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মুকিম ওরফে জাফর। ২০০১ সালের আগস্টে রমনা এলাকায় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন। পুলিশ বাদী হয়ে জাফরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে রমনা থানায় ৪৮(৮)০১ নম্বর মামলাটি করে। ২০০২ সালে এ মামলার চার্জশিট দেয় পুলিশ। ২০০২ সালের ১৪ নভেম্বর মামলার একমাত্র আসামি জাফরের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত। ৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ বছরে ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি রয়েছে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জাফর বর্তমানে জামিনে আছেন।

আরেকটি মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০০ সালের ১৯ ডিসেম্বর গুলিস্তান কাপ্তানবাজার একটি জুতার ফ্যাক্টরির ভেতর খুন হন ব্যবসায়ী মজিবর রহমান। ওই ঘটনায় তার ভগ্নিপতি মো. মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে লিটনসহ চার আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরের বছরের ৯ নভেম্বর এ মামলায় আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। চার্জশিট ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়। সর্বশেষ ২০০৭ সালের ৭ মে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। ২৮ জানুয়ারি আসামি শামিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

বাকি তিন আসামি- লিটন, আতাউর রহমান ও বাচ্চু পলাতক। আগামী ১৪ জুলাই এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। মামলায় এএসআই মো. মোমিনুল হক, কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহেদুল করিমের বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ মামলাটিও একই আদালতে বিচারাধীন।

আরেকটি মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০১ সালের ২১ জুলাই ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির সময় ৫ রাউন্ড গুলিভর্তি পয়েন্ট ২২ বোরের রিভলবারসহ পুলিশের কাছে গ্রেফতার হন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী রুবেল।

পরদিন পুলিশ রুবেল ও তার সহযোগী জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই বছরের ৩০ অক্টোবর ওই দু’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৮ মে পাঁচ নম্বর সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুল ইসলামসহ অপর পাঁচ সাক্ষীর প্রতি অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×