পিরোজপুরে অপহরণের ২ দিন পর স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  পিরোজপুর ও ইন্দুরকানি প্রতিনিধি

পিরোজপুরের ইন্দুরকানির সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রকে অপহরণের দু’দিন পর সোমবার খাল থেকে লাশ উদ্ধার করেছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউপি মেম্বার মো. মহসিন জানান, লাশ উদ্ধারের সময় নিহতের গলায় রশি ও দু’হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের ধারণা, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফল বিক্রেতা মো. ছিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান। পুলিশ রোববার ও সোমবার এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার ও অপর তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (ভারপ্রাপ্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও একই স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র মো. সোহান (১৬) ও তার চাচাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোহানের বাবা প্রবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পাড়েরহাট বন্দরের ফল ব্যবসায়ী মো. ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ও পাড়েরহাট রাজলক্ষ্মী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মো. সালাউদ্দিন (১৩) গত শনিবার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এর একদিন পর রোববার একই স্কুলের ছাত্র ও প্রধান আসামি মো. সোহান তার সেলফোন থেকে সালাউদ্দিনের বাবাকে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ফোন দেয়।

অপহরণকারীদের এ সময় তিন লাখ টাকা দিতে রাজি হন ছিদ্দিকুর রহমান। অপহরণকারীরা তাতে রাজি হয়ে রোববার সন্ধ্যায় তাকে পাড়েরহাট ইউনিয়নের টেংরাখালী ওয়াপদা হাটের কাছে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে এলে তার ছেলেকে মুক্ত করা হবে বলে জানায়। এদিকে নিহতের বাবা বিষয়টি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে জানালে অপহরণকারীদের ধরতে জাল ফেলেন গোয়েন্দা সদস্যরা।

ওইদিন সন্ধ্যায় মুক্তিপণের টাকা নিয়ে বাদী ছিদ্দিকুর রহমান ও তার এক আত্মীয় এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ওয়াপদা হাটের একটি নির্জন এলাকার গাছের নিচে গিয়ে টাকার ব্যাগটি রেখে দিলে জঙ্গল থেকে হামাগুড়ি দিয়ে একজন এসে টাকার ব্যাগ নিতে উদ্যত হলে গোয়েন্দা সদস্যরা কয়েক মুহূর্তের মধ্যে অত্যন্ত কৌশলে অপহরণকারীর এক সদস্যকে গ্রেফতার করতে সচেষ্ট হন। এ ঘটনায় সোমবার বিকালে পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, হত্যার মোটিভ সম্পর্কে জানার চেষ্টা চলছে এবং তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।