দলের প্রধান থেকে সরে দাঁড়ালেন তেরেসা

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: এএফপি

ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। শুক্রবার নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান তিনি।

তবে দলের উত্তরসূরি খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকছেন। গত মাসে অশ্রুসিক্ত চোখে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। সে সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেক্সিট ইস্যু সফল করতে ব্যর্থ হওয়ার অনুতাপ প্রকাশ করেন। তিনবার বেক্সিট ভোটে হেরে যাওয়ায় ব্যাপক চাপের মুখে ছিলেন মে। খবর এএফপির।

থেরেসা মে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় আসার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে ৩ বছর কাজ করেছেন। কিন্তু কোনো সমাধানে পৌঁছতে পারেননি মে।

এদিকে জুলাইয়ের শেষের দিকে নতুন নেতা নির্বাচন করা হতে পারে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনসহ সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় ১১ কনজারভেটিভ এমপিকে রাখা হয়েছে। তবে সোমবারের মধ্যে কয়েকজন ঝরে পড়তে পারেন। ওই দিনই (১০ জুন) মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন।

দায়িত্ব নেয়ার পর গত ৩ বছর ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছেন তেরেসা। ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ রাত ১১টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ ত্যাগের কথা ছিল যুক্তরাজ্যের। ব্রেক্সিট পরবর্তীকালে ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের শর্ত নির্দিষ্ট করে তৈরি হয় ব্রেক্সিট চুক্তি। এ চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও তেরেসা মে তিন দফায় তা হাউস অব কমন্সে পাস করাতে ব্যর্থ হন। তবে ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে সমর্থ হন তিনি। ব্রেক্সিট ইস্যুতে নিজ দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দলের সদস্যদের রাজি করানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও শেষ পর্যন্ত তাতে সফলতা পাননি। এ অবস্থায় মে মাসের শেষের দিকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

মে মাসে দেয়া পদত্যাগের ঘোষণায় থেরেসা বলেছিলেন, তিনি না পারলেও তার উত্তরসূরি হয়তো পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতা সৃষ্টি করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সমঝোতা শুধু তখনই সম্ভব যখন বিতর্করত সব পক্ষ আপস করতে রাজি হবে’। আবেগপূর্ণ ভাষায় তেরেসা তখন আরও বলেছিলেন, ‘অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই আমি আমার কাজ ছেড়ে দেব কিন্তু যে সম্মান আমি নিয়ে যাচ্ছি তা সারা জীবন ধরে রাখব। দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলাম কিন্তু অবশ্যই শেষ নারী প্রধানমন্ত্রী হব না।’ ব্রেক্সিট ইস্যুতে নিজের নেয়া পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে আমি কিছু করিনি।