পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪
jugantor
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪
লাশ নিয়ে সড়কে বিজেপি

  কৃষ্ণ কুমার দাস, কলকাতা থেকে  

১০ জুন ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপি ১৮টি আসন পেতেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘর্ষ প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। সর্বশেষ শনিবার রাতে সাতক্ষীরা সীমান্ত লাগোয়া ২৪ পরগনার বসিরহাটের সন্দেশখালীতে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া হুগলির আরামবাগে বিজেপির বোমায় নিহত হয়েছেন তৃণমূলের এক কর্মী। ঘটনার জেরে সোমবার বসিরহাট মহকুমায় ১২ ঘণ্টা হরতালের ডাক দিয়েছে বিজেপি। ১২ জুন কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজার অভিযানের ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

সংঘর্ষে দলীয় দুই কর্মীর মৃতদেহ কলকাতায় আনা নিয়ে রোববার দিনভর পুলিশের সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে দেন-দরবার চলে। একবার জোর করে দুই মৃতদেহ নিয়ে আসার সময় মিনাখায় আটকে দেয় পুলিশ।

বিজেপি নেত্রী সংসদ সদস্য লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, নিহত কর্মীর দেহ কলকাতায় নিতে না দিলে মিনাখায় রাস্তার উপরেই দেহ পোড়ানো হবে। অন্যদিকে পুলিশ চাইছে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে শেষকৃত্য করা হোক। পুলিশি চাপে রাত ৮টায় নিহতদের দেহ তাদের গ্রামে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি। প্রসঙ্গত, আট বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী নেত্রী ছিলেন তখন তৃণমূল কর্মী নিহত হলে তার দেহ কলকাতায় নিয়ে প্রতিবাদ করতেন তিনি।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বিজেপির বোমা ও গুলিতে দু’জন তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছেন, তা ধামাচাপা দিতে লাশ নিয়ে সস্তা রাজনীতি করতে চাইছে দলটি। তৃণমূল খুন করেনি, বরং তৃণমূল কর্মীদের খুন করতে এসে নিজেদের বোমা-গুলিতে মারা গেছে দুই বিজেপি কর্মী।

রাজনৈতিক সংঘর্ষে সন্দেশখালীতে নিহত দুই বিজেপি কর্মীর নাম সুকান্ত মণ্ডল ও তপন মণ্ডল। এছাড়া প্রদীপ মণ্ডল নামে আরও এক বিজেপি কর্মী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন কাইয়ুম মোল্লা নামে আরেক তৃণমূল কর্মী। আরামবাগে নিহত তৃণমূল কর্মীর নাম মফিজুল শেখ। পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ রাজনৈতিক কর্মী নিহতের সঙ্গে ১৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রিপোর্ট চাওয়ার পাশাপাশি এলাকায় টিম পাঠাচ্ছেন।

শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে সন্দেশখালী এলাকার ন্যাজাটে দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু দাবি করেন, বিজেপির নিহতদের মধ্যে তিনজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে ও দু’জনের মৃতদেহ পুলিশ সরিয়ে ফেলেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় সন্দেশখালীতে তৃণমূলের বুথ কমিটির বৈঠক চলছিল।

যে পার্টি অফিসে বৈঠক হচ্ছিল, সেখানে বিজেপির দলীয় পতাকা লাগানো ছিল। তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির পতাকা খুলে তাদের পতাকা লাগানোর চেষ্টা করলে বিজেপি কর্মীরা বাধা দেয়। এর পরই দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়। সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি পেয়েছে বিজেপি, তৃণমূল পেয়েছে ২২টি আসন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩৪টিতে জয় পেয়েছিল তৃণমূল, আর বিজেপি জিতেছিল মাত্র দুটি আসনে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪

লাশ নিয়ে সড়কে বিজেপি
 কৃষ্ণ কুমার দাস, কলকাতা থেকে 
১০ জুন ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষে নিহত ৪। ছবি: সংগৃহীত

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপি ১৮টি আসন পেতেই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘর্ষ প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। সর্বশেষ শনিবার রাতে সাতক্ষীরা সীমান্ত লাগোয়া ২৪ পরগনার বসিরহাটের সন্দেশখালীতে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া হুগলির আরামবাগে বিজেপির বোমায় নিহত হয়েছেন তৃণমূলের এক কর্মী। ঘটনার জেরে সোমবার বসিরহাট মহকুমায় ১২ ঘণ্টা হরতালের ডাক দিয়েছে বিজেপি। ১২ জুন কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজার অভিযানের ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

সংঘর্ষে দলীয় দুই কর্মীর মৃতদেহ কলকাতায় আনা নিয়ে রোববার দিনভর পুলিশের সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে দেন-দরবার চলে। একবার জোর করে দুই মৃতদেহ নিয়ে আসার সময় মিনাখায় আটকে দেয় পুলিশ।

বিজেপি নেত্রী সংসদ সদস্য লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, নিহত কর্মীর দেহ কলকাতায় নিতে না দিলে মিনাখায় রাস্তার উপরেই দেহ পোড়ানো হবে। অন্যদিকে পুলিশ চাইছে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে শেষকৃত্য করা হোক। পুলিশি চাপে রাত ৮টায় নিহতদের দেহ তাদের গ্রামে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি। প্রসঙ্গত, আট বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী নেত্রী ছিলেন তখন তৃণমূল কর্মী নিহত হলে তার দেহ কলকাতায় নিয়ে প্রতিবাদ করতেন তিনি।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বিজেপির বোমা ও গুলিতে দু’জন তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছেন, তা ধামাচাপা দিতে লাশ নিয়ে সস্তা রাজনীতি করতে চাইছে দলটি। তৃণমূল খুন করেনি, বরং তৃণমূল কর্মীদের খুন করতে এসে নিজেদের বোমা-গুলিতে মারা গেছে দুই বিজেপি কর্মী।

রাজনৈতিক সংঘর্ষে সন্দেশখালীতে নিহত দুই বিজেপি কর্মীর নাম সুকান্ত মণ্ডল ও তপন মণ্ডল। এছাড়া প্রদীপ মণ্ডল নামে আরও এক বিজেপি কর্মী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন কাইয়ুম মোল্লা নামে আরেক তৃণমূল কর্মী। আরামবাগে নিহত তৃণমূল কর্মীর নাম মফিজুল শেখ। পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ রাজনৈতিক কর্মী নিহতের সঙ্গে ১৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রিপোর্ট চাওয়ার পাশাপাশি এলাকায় টিম পাঠাচ্ছেন।

শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে সন্দেশখালী এলাকার ন্যাজাটে দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু দাবি করেন, বিজেপির নিহতদের মধ্যে তিনজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে ও দু’জনের মৃতদেহ পুলিশ সরিয়ে ফেলেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় সন্দেশখালীতে তৃণমূলের বুথ কমিটির বৈঠক চলছিল।

যে পার্টি অফিসে বৈঠক হচ্ছিল, সেখানে বিজেপির দলীয় পতাকা লাগানো ছিল। তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির পতাকা খুলে তাদের পতাকা লাগানোর চেষ্টা করলে বিজেপি কর্মীরা বাধা দেয়। এর পরই দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়। সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি পেয়েছে বিজেপি, তৃণমূল পেয়েছে ২২টি আসন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩৪টিতে জয় পেয়েছিল তৃণমূল, আর বিজেপি জিতেছিল মাত্র দুটি আসনে।