ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দর: আমদানি পণ্যের কনটেইনার জট

বন্দর ইয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি ৪ হাজার কনটেইনার

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১১ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমদানি পণ্যের কনটেইনার জট
আমদানি পণ্যের কনটেইনার জট। ছবি: যুগান্তর

আমদানি পণ্যের কনটেইনার জটের কবলে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। জাহাজ থেকে পণ্য খালাস প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও ঈদের আগে-পরে ভারি যানবাহনের স্বল্পতা এবং অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় আমদানিকারকরা পণ্য ডেলিভারি নিতে অনাগ্রহী হওয়ায় এ জট।

এরই মধ্যে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কনটেইনার জমে গেছে বন্দর ইয়ার্ডগুলোতে। তবে ছুটির পর ডেলিভারি বাড়ছে। প্রতিদিন যে সংখ্যক কনটেইনার জাহাজ থেকে নামানো হচ্ছে, সে তুলনায় ডেলিভারি কম হওয়ায় জট বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে। জট ছাড়াতে আরও দু-এক সপ্তাহ লাগতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্যের কনটইেনারের ধারণক্ষমতা ৩৭ হাজার ৬২০ টিইইউএস (টুয়েন্টি ফিট ইকুইভিলেন্ট ইউনিটস)। রোববার পর্যন্ত কনটেইনার ছিল ৪১ হাজার ৭৩৯ টিইইউএস। যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৪ হাজার বেশি। সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি হয়ে থাকে। বেশিরভাগই পরিবহন হয় সড়কপথে।

কিন্তু ঈদের ছুটির ৩ দিন ও আগে-পরে আরও কয়েকদিন ডেলিভারি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম হয়েছে। ঈদের দিন ১২ ঘণ্টা ডেলিভারি বন্ধ ছিল। পরদিন ৬ জুন ৩৪৪, ৭ জুন ৭১৯, ৮ জুন ৯৯১ এবং ৯ জুন ১ হাজার ২৯৭ টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘ঈদের দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পণ্য ডেলিভারি বন্ধ ছিল। ঈদের আগে ও পরের দিন ছুটি থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করেছেন।

ওই সময় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ডেলিভারি কম হয়েছে। যদিও আমাদের সব রকম প্রস্তুতিই ছিল। কিন্তু আমদানিকারক বা তাদের প্রতিনিধিরা কনটেইনার নেননি। ভারি যানবাহন স্বল্পতা এবং অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় ব্যবাসায়ীরা নিজেরাই তাদের পণ্য ডেলিভারি নিতে আগ্রহী হননি। এ কারণে আমদানি কনটেইনারের সংখ্যা বেড়ে গেছে।’

বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে দেখা দিয়েছিল জাহাজ ও কনটেইনার জট। তা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার কনটেইনার জট দেখা দিল। কনটেইনারের সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার কাছাকাছি গেলে কিংবা অতিক্রম করলে জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে রাখার জায়গা থাকে না। আবার কনটেইনার নাড়াচাড়া করা কিংবা ট্রেইলারে তুলতেও অসুবিধার হয়। আবার কিছু কনটেইনার খুলে ভেতরে থাকা পণ্য ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানেও পরিবহন করা হয়।

এজন্য ফাঁকা জায়গার দরকার হয়। কনটেইনার বেড়ে গেলে ফাঁকা জায়গা থাকে না। এতে ব্যাহত হয় বন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্ম। ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্টস (সিএন্ডএফ) অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, ‘প্রতি ঈদেই বন্দরে কনটেইনারের চাপ বাড়ে। সেই চাপ সামাল দিতে লেগে যায় এক থেকে দুই সপ্তাহ। এর স্থায়ী সমাধান বের করা উচিত। ছুটিতে আমদানিকারকরা বন্দর থেকে পণ্য নিতে পারেন না। কারণ ওই সময় পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ থাকে।

ব্যবসা-বাণিজ্য হয় না বললেই চলে। এছাড়া ব্যাংক বন্ধ থাকায় পণ্য ছাড় সংশ্লিষ্ট কাজগুলো করা যায় না। তাই স্বাভাবিকভাবেই বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি নিতে পারেন না সিএন্ডএফ এজেন্টরা।

এ সমস্যা মোকাবেলার জন্য বন্দরের উচিত আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া যাতে জমে যাওয়া কনটেইনার পরবর্তীতে দ্রুত ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হয়। কিন্তু প্রতি বছরই তাতে ঘাটতি থেকে যায়।’ তিনি জানান, সিএন্ডএফ এজেন্টরা পণ্য ডেলিভারি নিতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুদিন সময় লাগবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×