অনভিজ্ঞ বৈমানিক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট!

  মুজিব মাসুদ ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অনভিজ্ঞ বৈমানিক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট!

পাসপোর্ট-রহস্য কাটতে-না-কাটতে বাংলাদেশ বিমানের বিরুদ্ধে অনভিজ্ঞ একজন পাইলটকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ল্যান্ডিং পারমিশন নেই এমন কো-পাইলটকে দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ৮ জুন কাতার থেকে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যে ফ্লাইটের পাসপোর্ট-কাণ্ড ঘটেছে ওই ফ্লাইটের কো-পাইলট ক্যাপ্টেন সাদতের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। এয়ার সংস্থাটির অপারেশন ম্যানুয়াল অনুযায়ী ২৫০ ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনার আগে কোনো কো-পাইলট ল্যান্ডিং করতে পারেন না। কিন্তু বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারে ওই ফ্লাইটের কো-পাইলট ক্যাপ্টেন সাদতের ফ্লাইং আওয়ার ছিল মাত্র ১৮২ ঘণ্টা।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটের বৈমানিক বাছাই করা নিয়ে বিমানের এ আচরণ কোনোভাবে ক্ষমার যোগ্য নয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এ ধরনের কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও আনাড়ি বৈমানিক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

তার মতে, ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট ফেলে যাওয়া হয়তো ভুল হতে পারে, কিন্তু তিনি জেনেশুনে কীভাবে একজন অনভিজ্ঞ বৈমানিককে কো- পাইলট হিসেবে বাছাই করলেন? এ ক্ষেত্রে মূল দায়ভার নিতে হবে বিমানের পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন ডিএফওকে। কারণ বিমানে ভিভিআইপি ফ্লাইটের পাইলট-ক্রু বাছাই করার দায়িত্ব ডিএফও ও চিফ অব ট্রেনিংয়ের আওতাধীন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি তারা শুনেছেন। ইতিমধ্যে তারা বিমানের কাছ থেকে এ বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন ক্যাপ্টেন সাদতের ফ্লাইং আওয়ার কম ছিল। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে তার আওয়ার কত ছিল এটা জানতে পারেননি।

এটা জানার পর রেগুলেটরি কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ কোনো অনভিজ্ঞ পাইলটকে ভিভিআইপি ফ্লাইটে পাঠানো ঠিক হয়নি।

বিমানের সাবেক একজন পাইলটও নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, ২৫০ ঘণ্টার যে অভিজ্ঞতার কথা অপারেশন ম্যানুয়ালে বলা হয়েছে সেটি মূলত বিমানের সাধারণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে। ভিভিআইপি ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এ অভিজ্ঞতা অলিখিতভাবে আরও অনেক বেশি। আগে কখনও ৫০০ ঘণ্টার কম অভিজ্ঞ পাইলটকে ভিভিআইপি ফ্লাইটে দেয়া হতো না।

তার মতে, যদি কোনো কারণে ওই দিনের ভিভিআইপি ফ্লাইটে ক্যাপ্টেন সাদতকে দিয়ে অবতরণের প্রয়োজন হতো তাহলে সেটি হতো বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে তা হতো বিমানের অপারেশন ম্যানুয়াল পরিপন্থী।

আসলে ভিভিআইপি ফ্লাইট নিয়ে বিমানে এসব কি হচ্ছে? একই ফ্লাইটে মূল পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ ইমিগ্রেশনকে ফাঁকি দিয়ে পাসপোর্ট ছাড়া বিদেশ চলে গেলেন। অথচ বিমানের অপারেশন ম্যানুয়ালের জেনারেল ধারার ৫.২৬.২(১)-এ বলা হয়েছে- ভিভিআইপি ফ্লাইটের ক্রুদের ক্ষেত্রে ভ্যালিড ট্রাভেল ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।

আর ট্রাভেল ডকুমেন্ট হচ্ছে পাসপোর্ট। ওই পাইলট আরও বলেন, ‘ভিভিআইপি ফ্লাইটে সাধারণত থার্ড পাইলট দেয়া হয়। কিন্তু ককপিটে থার্ড পাইলটের ভূমিকা কম। বিমান পরিচালনা উড্ডয়ন-অবতরণসহ সব কাজে মূল ভূমিকায় থাকেন ককপিটের বাম চেয়ারে থাকা পাইলট আর ডান চেয়ারে থাকা কো-পাইলট। থার্ড পাইলট তাদের পেছনে একটি চেয়ারে বসে থাকেন।

ফ্লাইট যখন আকাশে থাকে তখন মূল পাইলটের কোনো ধরনের অসুবিধা, জ্ঞান হারিয়ে যাওয়া, হার্ট ফেইলিওর, স্ট্রোকজনিত কারণ হলে থার্ড পাইলট দ্রুত ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন।

কিন্তু যখন ফ্লাইট ল্যান্ডিং পজিশনে থাকে কিংবা ৩ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে সে সময় যদি কোনো পাইলট অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন একমাত্র কো-পাইলট ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এ ক্ষেত্রে যদি কো-পাইলট ২৫০ ঘণ্টার বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হয়ে থাকেন তাহলে তিনি ফ্লাইটটি আয়ত্তে নিয়ে স্বাভাবিক ল্যান্ডিং করতে পারবেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×