এমপি লিটন হত্যা

অস্ত্র আইনে সাবেক এমপি কাদের খানের যাবজ্জীবন

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধা-১ আসনের সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র মামলার রায়ে সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

অস্ত্র আইনের ১৯-এর এফ ধারায় অবৈধ গোলাবারুদ রাখার দায়ে তাকে আরও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার গাইবান্ধার ১নং স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক বেলা পৌনে ১২টার দিকে মামলার একমাত্র আসামি কাদের খানের উপস্থিতিতে ১১ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করেন। বেলা ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা কারাগার থেকে তাকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়। এ সময় তাকে খুবই বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। মামলায় মোট ১৮ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়।

দণ্ডিত কাদের খান ২০০৮ সালে মহাজোটের সমর্থনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে এমপি হন। তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপরহাটি ইউনিয়নের পশ্চিম ছাপরহাটি (খানপাড়া) গ্রামের মরহুম নয়ান খানের ছেলে।

লিটন হত্যা মামলারও আসামি তিনি। হত্যা মামলাটি এখনও বিচারাধীন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম জানান, সাক্ষীরা সুচারুভাবে ঘটনাটি বিচারকের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হওয়ায় সঠিক রায়ই আমরা পেয়েছি। অবৈধ অস্ত্র রাখায় আবদুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন ও অবৈধ গোলাবারুদ মজুদ রাখায় ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এমপি লিটন হত্যায় তিনটি অস্ত্র ব্যবহার হয়।

এর মধ্যে একটি অস্ত্র কাদের খান নিজে থানায় জমা দিয়েছেন। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপরহাটি গ্রামের আবদুল কাদের খানের বাড়ির উঠানে মাটির নিচ থেকে ৬ রাউন্ড গুলিসহ আরেকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। কিন্তু কাদেরের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তৃতীয় অস্ত্রটির সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি লিটনকে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার নিজের বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার এক মাস ২১ দিন পর বগুড়া শহরের কাদের খানের স্ত্রীর মালিকানাধীন গরিব শাহ ক্লিনিক থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর কয়েক দফা তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে লিটন হত্যার দায় স্বীকার করেন আবদুল কাদের খান। তার দেয়া তথ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ও ম্যাগাজিনসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে পুলিশ কাদের খানের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং ৬ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

এদিকে এমপি লিটন হত্যা মামলায়ও ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। সেখানেও কাদের খানকে হুকুমদাতা হিসেবে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অপর আসামিরা হচ্ছেন- কাদের খানের কিলার বাহিনীর সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে রানা, শাহীন মিয়া শান্ত, রাশেদুল হাসান মেহেদী, ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) শামছুজ্জোহা সরকার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দফতর সম্পাদক চন্দন কুমার রায়, তার ভগ্নিপতি কসাই সুবল চন্দ্র রায়, কাদের খানের গাড়িচালক আবদুল হান্নান।

এর মধ্যে চন্দন কুমার রায় ভারতে পলাতক। বাকিরা জেলহাজতে। নিহত এমপি লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আমি খুশি। তবে আমি আশা করছি, লিটন হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হবে। কাদের খানের আইনজীবী সাবেক পিপি জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ বলেছেন, তারা উচ্চতর আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। রায় ঘোষণার সময় কাদের খানের স্ত্রী বা অন্য কোনো স্বজনকে আশপাশে দেখা যায়নি।