এবার ডিআইজি মিজানের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক

গঠন করা হল তিন সদস্যের টিম

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এবার ডিআইজি মিজানের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক

পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালককে ঘুষ দেয়ার যে অভিযোগ করেছেন তা পৃথকভাবে অনুসন্ধানের জন্য এবার তিন সদস্যের টিম গঠন করেছে দুদক।

দুদকের পরিচালক শেখ মুহাম্মদ ফানাফিল্লাহর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার এ টিম গঠন করা হয়। টিমের অপর দুই সদস্য হলেন- দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান ও মো. সালাহউদ্দিন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ডিআইজি মিজান মিডিয়ার মাধ্যমে দুদকের পরিচালকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন, তার সত্যতা নিরূপণের জন্য কাজ করবে এ কমিটি। অনুসন্ধান শেষে কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।

দুদকের অপর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ডিআইজি মিজানের পক্ষ থেকে একটি বেসরকারি টিভিতে ঘুষের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুদকের সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আসামির কাছে তথ্য পাচারের অভিযোগে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের যে অভিযোগ ডিআইজি মিজান করেছেন সে বিষয়ে ওই কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি। এ সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধানে বৃহস্পতিবার পৃথক কমিটি গঠন করল কমিশন।

এছাড়া ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদকে প্রধান করে বুধবার তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক ও সহকারী পরিচালক নেয়ামুল আহসান গাজী।

দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, ঘুষ দেয়ার স্বীকারোক্তির পর তা সত্য বা মিথ্যা হোক পুলিশের পক্ষ থেকে ওই বিতর্কিত ডিআইজির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া যেত। কিন্তু তা না করে তার অভিযোগের পরপরই দুদকের পরিচালককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হল।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির এক সদস্যের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। জানা গেছে, ডিআইজি মিজানকে রক্ষার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল পুলিশ বাহিনীর একটি গ্রুপ- প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর তাদের তৎপরতা থেমে গেছে। ওই গ্রুপটির কারণেই ডিআইজি মিজান এখনও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি দুদক পরিচালককে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার অভিযোগ করেন। সূত্র জানায়, তার এই অনৈতিক টাকার উৎসও খুঁজে দেখবে দুদকের নবগঠিত তদন্ত টিম।

ডিআইজি মিজান স্বীকার করেছেন- দুদকের অনুসন্ধান রিপোর্ট তার বিরুদ্ধে যাওয়ার কারণেই তিনি অভিযোগটি করেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতির দায় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে মিজানুর রহমান ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। প্রকাশ্যে ঘুষের কথা স্বীকার করে এ ধরনের বক্তব্য দেয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তবে ঘুষ দেয়া বা নেয়া সংক্রান্ত ডিআইজি মিজানের বক্তব্যকে মিথ্যা বলে তা প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জ করেছেন সাময়িকভাবে বরখাস্ত দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আমার বক্তব্য কমিশনের কাছে দিয়েছি। এর বাইরে আপাতত আর কিছু বলতে চাই না।

ঘটনাপ্রবাহ : ডিআইজি মিজান

আরও
আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫১ ২৫
বিশ্ব ৮,২৩,১৯৪১,৭৪,৩৩২৪০,৬৩৩
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×