সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে

প্রধানমন্ত্রী

  বাসস ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সেনাবাহিনীকে সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। এজন্য এর নেতৃত্ব যোগ্য, দক্ষ, কর্মক্ষম এবং দেশপ্রেমিক অফিসারদের হাতে ন্যস্ত করতে হবে।’ ঢাকা সেনানিবাসে রোববার সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ ২০১৯-এর সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। সভার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন নির্বাচনী পর্ষদ পদোন্নতির জন্য এমন সব সেনা কর্মকর্তাদের সুপারিশ করবে যাদের দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস, নেতৃত্বের যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা উন্নত ও পেশাদার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে ১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। সেই আলোকেই বর্তমান সরকার একটি শক্তিশালী সশস্ত্রবাহিনী গড়ে তোলার জন্য আর্ম ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধুই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই মাটিতে জন্মগ্রহণ করেই এদেশ শাসন করেছেন। এর আগে যারা শাসন করেন তাদের কারোই জন্ম এদেশে নয়। জাতির পিতার বড় মেয়ে বলেন, তার সরকার বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা গড়ার জন্যই তার সরকার নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছে। যেখানে কেউ আর ক্ষুধার্ত থাকবে না।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হুসেইন ভূইয়া এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান সেখানে ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার সেনাবাহিনীর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে এখন ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তার সরকার শাসক হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী না, দেশের সেবক মনে করি।’

উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়াকে একটি অর্জন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ৮.১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। আমরা আগামী দিনগুলোতে ডবল ডিজিট জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করব। ‘মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয়ে গেলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও বৃদ্ধি পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৫ লাখ, ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রণয়ন করেছে। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। এছাড়াও সরকার তার দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলে থাকার সময় থেকেই খাতভিত্তিক উন্নয়নের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম।’ তিনি বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাজেট থেকে দেশের জনগণ উপকৃত হবে।

তিনি ক্রমবর্ধমান জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতীতের বাজেটগুলোতে সব সময়ই ৫ শতাংশ ঘাটতি দেখা গেছে এবং এটা কখনই মাত্রা অতিক্রম করেনি।’ এ পর্যন্ত পাঁচ কোটি মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করায় মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচ থেকে উঠে আসছে।

নারী ক্ষমতায়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ নারী ক্ষমতায়ন অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের মক্কায় ওআইসির ১৪তম সম্মেলনে আমাদের নারী ক্ষমতায়ন পরিস্থিতির প্রশংসা করা হয়েছে।’

দেশে ফেরার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পেছনে আমার দেশের জনগণের ওপর আস্থাই ছিল মূল চালিকাশক্তি। আমি যখন ফিরে আসি তখন দেশে বৈরী পরিবেশ বিরাজ করছিল। ১৯৭৫ সালের পর ১৯টি ক্যু প্রচেষ্টা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘যখন আমি দেশে ফিরি মানুষের মধ্যে আস্থার অভাব ছিল। কিন্তু দেশে এখন সেই পরিস্থিতি নেই।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×