কর্তৃপক্ষ ও তহবিল গঠনের কাজ শুরু

শ্রমজীবীরাও সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আসবে

  মিজান চৌধুরী ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি চাকরিজীবীদের সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনতে কমপক্ষে আরও তিন বছর সময় লাগবে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবে রূপ দিতে প্রথমে গঠন করা হবে ‘ইউনিভার্সেল পেনশন অথরিটি’। এ অথরিটি পরবর্তী কার্যক্রম দৃশ্যমান করবে। বিশেষ করে বেসরকারি নিয়োগ কর্তৃপক্ষ কতটুকু সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করবে, তা নির্ধারণ করবে এ অথরিটি। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গঠিত তহিবল পরিচালনার রূপরেখাও তারাই নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

এ প্রসঙ্গে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের পরিচালক অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এটি চালু করতে সময় লেগেছে ২০ বছর। দেশেও এটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে সর্বজনীন পেনশন হবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। এতে চাকরিজীবী এবং নিয়োগ কর্তৃপক্ষ উভয়েরই অংশগ্রহণ থাকবে। এজন্য গঠন করা হবে পৃথক একটি তহবিল। সরকারের অনুমোদিত এক বা একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে এসব তহবিল পরিচালনা করা হবে।

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি চালু করতে শিগগিরই ইউনিভার্সেল পেনশন অথরিটি গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, দেশের মোট জনগণের একটি ভগ্নাংশের সমান সরকারি পেনশনভোগীর সংখ্যা। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতসহ দেশের সব জনগণের জন্য একটি সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

সর্বজনীন পেনশন প্রথা চালুর প্রথম ঘোষণা দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর ধারাবাহিকতায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় নাগরিক পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে একটি ‘জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ’ গঠন। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হবে ‘জাতীয় পেনশন তহবিল গঠন’। এই তহবিলের বহুমুখী উৎস থাকতে পারে। প্রধান উৎস হবে ব্যক্তিশ্রেণীর আয়কর প্রদানকারীদের আয়করের একটি অংশ। অর্থাৎ প্রতিবছর যারা আয়কর দিয়ে থাকেন, তাদের আয়করের নির্দিষ্ট একটি অংশ (২-৩ শতাংশ) জাতীয় পেনশন তহবিলে হস্তান্তর করা হবে। দ্বিতীয় উৎস হিসেবে সরকার প্রতিবছর বাজেট থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ স্থানান্তর করবে। তৃতীয় উৎস হবে কর্মকর্তা-কর্মচারী (সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে) চাকরিজীবী নিজের এবং সংগঠনের প্রদেয় অংশ। এভাবে যে অর্থ প্রতিবছর জাতীয় পেনশন তহবিলে জমা হবে, তা সরকার বিভিন্ন লাভজনক কাজে বিনিয়োগ করে ওই তহবিলের আকার ও পরিমাপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ সরকারি চাকরিজীবী অবসরে আছেন। তারা প্রত্যেকেই পেনশন পাচ্ছেন, যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র শতকরা ৫ ভাগ। এজন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ২৭ হাজার ১১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে মোট শ্রমশক্তির ৯৫ শতাংশই বেসরকারি খাতে নিয়োজিত। এর মধ্যে ১০ শতাংশ আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। অর্থাৎ এসব খাতে নিয়োগপত্র, ছুটি ও ক্ষেত্রবিশেষ প্রভিডেন্ট ফান্ড আছে। কিন্তু তারা পেনশনের আওতায় নেই।

উল্লিখিত সংখ্যার বাইরেও দেশে প্রায় ৩৫ লাখ হতদরিদ্র আছে। যারা মাসিক ৪০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। তারা মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের সমান। কিন্তু তাদের ভাতার পরিমাণ মানসম্মত জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নয়। অপরদিকে দেশে গড় আয়ু ও প্রবীণদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সামাজিকভাবে নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে বাজেটে তাদের ভাতা বরাদ্দ দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এ আর্থিক ঝুঁকি মোকাবেলা করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সেজন্য বিদ্যমান সরকারি পেনশন কার্যক্রমের বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে কর্মরত সব কর্মজীবীকে পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সর্বজনীন পেনশন প্রথা চালু করা হলে বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সব কর্মজীবী মানুষ এর আওতায় আসবে। এই স্কিমে নিবন্ধন করে একজন কর্মজীবী মাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা প্রদান করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীর পেনশন হিসাবে জমা করবে। এছাড়া হতদরিদ্র শ্রমজীবীরা তাদের একটি অংশ জমা দেবে। পাশাপাশি তাদের পক্ষে সরকারও একটি অংশ অর্থ জমা করবে। এ ব্যবস্থাপনায় অর্থ পেনশন তহবিলে জমা হবে। এ তহবিল পরে বিনিয়োগ করা হবে। বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় এবং মাসিক চাঁদা উভয় একসঙ্গে তহবিলে যুক্ত হবে। এ তহবিলের আয় থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবসরকালীন বয়স থেকে পেনশন দেয়া হবে। যারা চাকরি করেছেন এবং সরকারকে কর দিয়েছেন, সাধারণভাবে এ ধরনের বয়স্কদের জন্য পৃথকভাবে অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম যথা স্বাস্থ্য, আবাসন ও নিয়মিত আয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। এমনকি স্বকর্মে নিয়োজিত, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, বেসরকারি চাকরিজীবী, যারা সারা জীবন বা জীবনের একটি বড় সময় রাষ্ট্রকে নিয়মিত কর দিয়ে এসেছেন, তাদের জন্য কোনোরূপ পেনশন ব্যবস্থা এ দেশে নেই। তাদেরও পেনশনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া যারা নিয়োগপত্র ছাড়াই কর্মজীবনে আছেন যেমন- একজন রিকশাচালকও এ পেনশনের আওতায় আসতে পারবেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×