ইসলামিক ফাউন্ডেশন: ফাইলেই আটকে আছে ডিজির পদত্যাগ!

  উবায়দুল্লাহ বাদল ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সামীম মোহাম্মদ আফজাল
সামীম মোহাম্মদ আফজাল। ফাইল ছবি

সিদ্ধান্ত নিয়েও পদত্যাগ করছেন না ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজাল। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন গত শনিবারে পদত্যাগপত্র দিতে সংস্থাটির সচিব কাজী নূরুল ইসলামকে অফিসে ডেকে পাঠিয়েছিলেন তিনি।

পদত্যাগপত্র টাইপও করানো হয়েছিল। শুধু স্বাক্ষর করে জমা দেয়াই ছিল বাকি। তার আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় অর্ধশত ফাইল দফতর থেকে গাড়িতে করে সরানোর চেষ্টা করেন ডিজির আস্থাভাজন একজন পরিচালক। টের পেয়ে এতে বাধা দেন ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলাম। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি ফাইলগুলো জব্দ করে নিজ জিম্মায় নেন। এ ঘটনায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বেঁকে বসেন সামীম আফজাল। পুলিশ প্রহরায় অফিস ত্যাগ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা ফাইলেই আটকে আছে ডিজির পদত্যাগ। শনিবারের পর অফিসে না গেলেও সোমবার কিছুক্ষণের জন্য অফিসে যান ক্যান্সারে আক্রান্ত ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল। এ সময় তার দফতরে পাহারা বসান বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবেন বলে দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন তিনি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইফার পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকদের নিয়ে করণীয় ঠিক করতে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রতিষ্ঠানটির সচিব কাজী নূরুল ইসলাম। ২০ জন পরিচালকের উপস্থিতিতে বৈঠক চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। বৈঠকে তিনটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এক. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থা দূর করতে এবং ডিজির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে (ডিজি) স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে।

দুই. প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে অবিলম্বে বোর্ড অব গভর্নরসের জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হবে। তিন. ইফার চেইন অব কমান্ড ফিরে আনতে সংশ্লিষ্ট সব মহলের সহযোগিতা কামনা করা হবে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ‘শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন ডিজি মহোদয়।

প্রায় ৫০টি ফাইল তার গাড়িতে তোলা হয়েছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে ফাইলগুলো জব্দ করতে বলা হয়। এরপরই ফাইলগুলো জব্দ করা হলে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মদিবসে (রোববার) পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।’ কিন্তু এখনও তা করেননি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে এবং সেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও হয়েছে। ডিজি দু’একদিনের মধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইফার দ্বিতীয় শীর্ষ এই কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘ইফার ডিজি সাহেব ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি শারীরিক ও মানসিক উভয় দিকেই অসুস্থ। সপ্তাহে তাকে দু’বার কেমোথেরাপি দিতে হয়। সারাক্ষণ ‘ক্যাথেটার’ নিয়ে চলতে হয়। এছাড়া নিয়োগ, পদোন্নতিসহ নানা বিষয়ে তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সোচ্চার। কাজের কোনো পরিস্থিতি নেই সেখানে।

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে তার বিরুদ্ধে চিঠি এসেছে। এমতাবস্থায় সরকারের শীর্ষমহল থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। তারপরও তিনি তা করছেন না। অথচ বন্ধের দিনে গাড়িতে করে প্রায় ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পাচার করার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা জানার পর তা জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছি। ফাইলগুলোতে এমন কিছু আছে, যার কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন না।’

ডিজি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্মসচিব বলেন, ‘আমরা তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দেয়ার আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অবহিত করব। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে তারই বাস্তবায়ন করা হবে।’

উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ১০ জুন ইফা ডিজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন অবহিত করা হবে না তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ মার্কেট বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মজুমদারকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশকে কেন্দ্র করে এই শোকজের ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ডিজি নির্ধারিত সাত কর্মদিবসের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শোকজেরও জবাব দিতে পারেন। এ জন্য একটি জবাবের খসড়া ডিজির আস্থাভাজন কর্মকর্তারা তৈরি করে রেখেছেন। এই শোকজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও ইফা ডিজির মধ্যে যে তিক্ততা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছেন ডিজি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইফার ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে তার মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×