ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী

ভ্যাটের সিদ্ধান্ত পরামর্শ করে

কোন পণ্যে কি ভ্যাট আগেই পরিষ্কারের দাবি ব্যবসায়ীদের * ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপে বাড়বে নিত্যপণ্যের দাম * আদার দাম হঠাৎ কেন এত বাড়ল- প্রশ্ন বাণিজ্য সচিবের

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভ্যাটের সিদ্ধান্ত পরামর্শ করে

আগামী অর্থবছরে (২০১৯-২০) চালু হতে যাওয়া নতুন ভ্যাট আইন স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেছেন, কোন পণ্যের বিপরীতে কী হারে ভ্যাট দিতে হবে বাজেট পাসের আগেই তা পরিষ্কার করতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা এ দাবি জানান। জবাবে মন্ত্রী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসীর, সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, বাবুবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আড়তদার আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভ্যাট আইনের বিষয়ে অন্ধকারে রয়েছেন জানিয়ে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বলেন, ১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। এই আইন কার্যকর করার আগে তাদের ভ্যাটের সব বিষয়ে জানাতে হবে। কিন্তু এনবিআর থেকে তাদের জানানো হচ্ছে না। ভ্যাট আরোপের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী ও এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাদের যে সমঝোতা হয়েছিল সেটিও বাজেটে রক্ষা করা হয়নি।

তারা আরও বলেন, বাজেটে নিত্যপণ্য বিশেষ করে চিনি, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যের যেভাবে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে তাতে এসব পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিবিষয়ক এ বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চান, আদার দাম হঠাৎ করে কেন এত বাড়ল। প্রতি কেজি আদা এখন ১৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। ১৫ দিন আগেও এর দাম ছিল প্রতি কেজি ৮০ টাকা।

এ প্রসঙ্গে বাবুবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, যেসব দেশে বেশি আদা উৎপাদন হয় বা বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে আদা আমদানি করে ওইসব দেশে আদার উৎপাদন কম হয়েছে। যে কারণে এর দাম বাড়ছে।

বৈঠকে একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি মুনাফার আশায় আগে থেকেই আদার দাম বাড়ানো হচ্ছে। জবাবে আনোয়ার হোসেন বলেন, এটি ঠিক নয়।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আদার দাম এখনই বাড়ানো হবে না। এটি বাড়াতে আরও সময় লাগবে। এখন বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে আদার দাম বাড়ার কারণে।

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, বাজেটে ভ্যাটের পাশাপাশি বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য ও শিল্পপণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক ও সম্পূরক কর বসানো হয়েছে। এটি দেশীয় শিল্পের স্বার্থবিরোধী। এ ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন পণ্যের ওপর আরোপিত আগাম কর প্রত্যাহারের দাবি করেন।

তারা বলেন, রফতানি খাতে যেভাবে উৎসে করের হার বাড়ানো হয়েছে সেটি বহাল থাকলে রফতানি খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে। এ খাতের ওপর থেকে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা বিষয়গুলো নিয়ে অচিরেই ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক ডাকার আহবান জানান। ভ্যাট আরোপের ফলে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে সেগুলো সমাধানের জন্য ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়টি অর্থমন্ত্রীকে জানানো হবে। পরে এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বাজেট সবেমাত্র সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি পাস হওয়ার আগ পর্যন্ত সময় আছে। এর মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল হাশেম বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে কী পরিমাণ ভ্যাট বাড়বে, সেটা আমরা জানি না। কোন খাতে কত ভ্যাট দিতে হবে সেটা জানাতে হবে। আমরা যারা পাইকারি ব্যবসা করি, তারা অত্যন্ত সীমিত লাভে পণ্য বিক্রি করি। তাই ভ্যাটটা যেন যৌক্তিক হয়।

সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, এতদিন আমরা টেনশন ফ্রি ব্যবসা করছিলাম। এখন ট্যাক্স বাড়ছে। কোনো সমস্যা নেই। সরকার চালাতে গেলে রাজস্ব বাড়াতে হবে। আমরা ট্যাক্স দিতে রাজি। তবে আমাদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি করা না হয়। আর ভ্যাট-ট্যাক্স যেটা দিতে হবে সেটি পরিষ্কার করতে হবে।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ছোট ছোট দোকানদারকে জরিমানা করা হয়। তারা তো আমদানিকারক কিংবা পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পণ্য কিনে বিক্রি করে। সুতরাং এ পণ্যের মান গোড়াতেই যাচাই করার ওপর জোর দেন তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×