ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদন

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ উদারতা দেখিয়েছে

মিয়ানমারে বয়স্ক রোহিঙ্গারাও লাঞ্ছিত হয়েছেন -অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

  যুগান্তর ডেস্ক ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হাতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রোহিঙ্গারা নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার আগে তারা মানবেতর জীবনযাপন করেছেন। হাজার হাজার প্রবীণ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

তাদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। তারা অমর্যাদাকর পরিস্থিতির মুখোমুখিও হয়েছেন। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হাত থেকে বাঁচতে অনেক রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বুধবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে।

এদিকে একই দিন ইউএনএইচসিআরের বার্ষিক ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ উদারতা দেখিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ক্রাইসিস অ্যাডভাইজার ম্যাথু ওয়েলস জানান, ‘ফ্লিং মাই হোল লাইফ : ওল্ডার পিপলস এক্সপেরিয়েন্স অব কনফ্লিক্ট অ্যান্ড ডিসপ্লেসমেন্ট ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

সামরিক সংঘাত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে মিয়ানমারে বয়স্ক নারী ও পুরুষ রোহিঙ্গারা কিভাবে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হয়েছেন এবং তাদের মানমর্যাদা কিভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তা প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে।

ম্যাথু ওয়েলস আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা সামরিক বাহিনীর হাতে নানাভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কদের সঙ্গে যেমন কুরুচিপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে, প্রবীণদের সঙ্গেও তেমন আচরণ করা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের বেশিরভাগ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এতে বলা হয়, ৭০ বছরের ইতিহাসে ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক শরণার্থীর সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস বলেন, এ প্রতিবেদনে আরও একবার প্রমাণিত হল যে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ উদারতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে আরও বেশি সংহতি প্রকাশ করতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে -এপিএইচআর : বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার আগে মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাখাইনে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বুধবার এমন দাবি জানিয়েছে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর এমপিদের নিয়ে গঠিত মানবাধিকার বিষয়ক জোট আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (এপিএইচআর), দ্য এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম-এশিয়া) ও প্রগ্রেসিভ ভয়েস।

আগামী ২০-২৩ জুন ব্যাংককে ৩৪তম আসিয়ান সম্মেলনে বসতে যাচ্ছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতারা। এর আগে এ আহ্বান জানাল আসিয়ান। চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমারের রাখাইন অঙ্গরাজ্যের মূল্যায়ন বিষয়ক আসিয়ানের একটি প্রতিবেদন ফাঁস হয়ে যায়।

তাতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার কথা, সেখানে চলমান গৃহযুদ্ধ, এমনকি রোহিঙ্গাদের নামও উল্লেখ করা হয়নি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ৭ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে আসিয়ানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপনস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম।’

আসিয়ানের ওই প্রতিবেদনে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। তাতে রোহিঙ্গাদের উল্লেখ করা হয়েছে ‘মুসলমান’ শব্দের মাধ্যমে। এতে দাবি করা হয়, ম্যানুয়ালি কাজ করার পরিবর্তে অটোমেটিকভাবে কাজ করা হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করতে ‘দুই বছরের মতো’ সময় লাগবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×