রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা

বিচার শুরু সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জুন

  ফেনী ও সোনাগাজী প্রতিনিধি ২১ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নুসরাত হত্যা মামলার আসামি

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যায় বৃহস্পতিবার চার্জ গঠন করেছেন আদালত। এদিন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ রাষ্ট্রপক্ষ ও ১৬ আসামির বক্তব্য শুনে মামলার চার্জ গঠন করেন। সেই সঙ্গে আদালত ২৭ জুন পরবর্তী শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার ১৬ আসামিকে সকাল ১১টায় আদালতে আনা হয়। ১১টা ২০ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন। শুনানির শুরুতে চার্জ গঠন নিয়ে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম সাংবাদিকদের আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেন।

বিচারকের নির্দেশ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ মামলা চলাকালে কোনো সাংবাদিক আদালত কক্ষে থাকতে পারবেন না। সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ জানালে এ নিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও হয়।

একটানা বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শুনানি গ্রহণ করেন বিচারক। আধাঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকাল ৪টায় ফের শুনানি শুরু হয়। বিকাল সাড়ে ৪টায় বিচারক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চার্জ গঠন করেন।

বিচারক এজলাসে এলে মামলার নথি আদালতে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের জন্য বিচারকের কাছে আবেদন জানান। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলার অভিযোগ গঠনের বৈধতা নিয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা মামলার কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে আসামিরা তাদের বক্তব্য শুনতে আদালতের কাছে আর্জি জানান। আদালত একে একে ১৬ আসামির বক্তব্য শোনেন।

ফেনী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ জানান, এর মধ্যে ১২ আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে চার্জশিট থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার ও ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন জানান। এর মধ্যে ঘটনার হোতা অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলাও রয়েছেন। এছাড়া ১৬ আসামিই জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত তাদের সে আবেদন খারিজ করে দেন।

মামলার অন্যতম আসামি সন্তান সম্ভ্যবা কামরুন নাহার মনি আদালতে তার চিকিৎসার আবেদন করলে বিচারক মনির সু-চিকিৎসা নিশ্চিতের আদেশ দেন। মামলা চলাকালে আদালত কক্ষে তাকে চেয়ারে বসারও অনুমতি দেন। পিপি বলেন, পরবর্তী শুনানিতে নুসরাতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল নোমান, নুসরাতের দুই সহপাঠী নিশাত ও ফুর্তিকে তলব করেছেন আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. হানিফ মজুমদার বলেন, পিবিআইর তদন্তে গাফিলতি রয়েছে। ওই তদন্ত যথার্থ নয়। প্রকৃত হত্যার সঙ্গে জড়িতরা এ মামলায় সংযুক্ত হয়নি। অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন নান্নু ও কামরুল হাসান বলেন, আদালতের পরিবেশ শান্ত করতে বিচারক মামুনুর রশিদ আসামিদের মুখে তাদের কথা শুনতে শুরু করেন। আসামিরা বিচারককে জানান, পিবিআই পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করিয়েছেন।

গত ২৯ মে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার নথি ও চার্জশিট দেন। ৩০ মে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি না করে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠানোর আদেশ দিয়ে ১০ জুন মামলার শুনানির দিন ধার্য করেন। পরে ১০ জুন আদালত চাজশিট আমলে নিয়ে ২০ জুুন চার্জ গঠনের দিন ধার্য করেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নুসরাতের মাদ্রাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন। এ মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের, জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাঁচ দিন পর মারা যান রাফি। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×